আমাদের কোনো ব্যর্থতা নেই, পুরোটাই সফলতাঃ মিশা সওদাগর

এফডিসির ‘নতুন মুখের সন্ধানে’র মাধ্যমে ঢালিউডে আগমন মিশা সওদাগরের। জনপ্রিয় এ খলভিনেতা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান সভাপতি। সম্প্রতি অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়টিসহ বর্তমান চলচ্চিত্রের নানান সংকট নিয়ে কথা বলেছেন পরিবর্তন ডটকমের সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আহমেদ জামান শিমুল। পরিবর্তন ডটকমের সৌজন্যে সাক্ষাৎকারটি ফিল্মীমাইক পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা কি কোনো অভিমান থেকে?

না অভিনয় ছেড়ে দিব তা বলিনি। আমি বলেছি অভিনয়কে পেশা হিসেবে আর রাখবো না সামনের বছর থেকে। আর আমি কিন্তু এটাও বলেছি ভাল চরিত্র, ভাল গল্প এবং আমার মনের অভিনয় চাহিদা পূরণ হবে সেটাই অবশ্যই কাজ করব।

অভিমানের কথা বললেন না, সে ব্যাপারে বলব এটা কারো প্রতি অভিমান থেকে বলিনি। আমার বয়স পঞ্চাশ পার হয়েছে। চলচ্চিত্রে আছি ত্রিশ বছর ধরে— আট-ন’শ ছবিতে অভিনয় করেছি। আর কত? এখন একটু পরিবারকে সময় দিই, নিজেকে সময় দিই। তাছাড়া আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন আমি কিন্তু আমার ক্যারিয়ারের টপে থাকা অবস্থায় ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছি। যেটা আমি সবসময় চেয়েছি। কজন শিল্পী এ অবস্থায় অবসরে যায়?

আপনার নেতৃত্বে শিল্পী সমিতির মেয়াদ আর কিছুদিনের মধ্যে ১৫০ দিন পার করবে। এ সময়কালে আপনাদের সফলতা, ব্যর্থতা কী?

আমাদের কোনো ব্যর্থতা নেই, পুরোটাই সফলতা। সফলতার তালিকা বলতে বললে বলব আমাদের নেতৃত্বে যৌথ প্রযোজনার নামে যৌথ প্রতারণা বন্ধ করেছি। যার ফলে নতুন নীতিমালা হচ্ছে। বিভিন্ন শিল্পীদের অনিয়ম, বেআদবির মীমাংসা করেছি। বড়দের যাতে কোনো অসম্মান না হয় সেদিকেও খেয়াল রেখেছি। যৌথ প্রতারণা বন্ধের মূল কৃতিত্ব যদিও চলচ্চিত্র পরিবারের কিন্তু এ আন্দোলনের নেতৃত্ব কিন্তু শিল্পীরা দিয়েছে।

যৌথ প্রযোজনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে জাজের বিপক্ষে শ্লোগান কেন?

আগেও বলেছি এখনও বলছি, আমাদের আন্দোলন জাজ মাল্টিমিডিয়া কিংবা হল মালিকদের বিরুদ্ধে ছিল না। আমাদের আন্দোলন ছিল যৌথ প্রতারণার বিরুদ্ধে। জাজ সিনেমা ডিজিটালাইজেশনে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে, এটা অস্বীকার করার নেই। কিন্তু তাদেরও সহনশীল হতে হবে নিয়ম নীতি মানার ক্ষেত্রে।

আপনারা ভারতীয় শিল্পী-কুশলীদের কাজের ব্যাপারে বাধা দিয়েছেন।

এটা যৌক্তিক কারণে করেছি। এটাকে বাধা দেওয়া বলা ঠিক হবে না। কারণ তাদের ওয়ার্ক পারমিট ছিল না। বিদেশি শিল্পী আমাদের দেশে আগেও এসেছে, পরেও আসবে। কিন্তু তাদের তো ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ এতে করে সরকার ট্যাক্স পাবে। অনুমতি নিয়ে কাজ করলে তো কেউ বাধা দিবে না।

ওমর সানী ও মৌসুমী আপনার দীর্ঘদিনের বন্ধু ছিলেন। কিন্তু শিল্পী সমিতি নিয়ে তাদের সাথেও আপনার দ্বন্দ্ব হয়েছে।

ওমর সানী ও মৌসুমীর সাথে আমার সম্পর্ক আগের মতই রয়েছে। এ বিষয়ে আর বেশি কিছু বলতে চাই না। একেক সাংবাদিক একেক রকম লিখে বিষয়টাকে জটিল করেছেন।

বলা হচ্ছে আপনাদের সাথে মতের মিল না হলে শিল্পীকে বয়কট করা হচ্ছে, সদস্যপদ স্থগিত করা হচ্ছে— শাকিব খান থেকে শুরু করে সর্বশেষ জাকির হোসাইন এর উদাহরণ।

কে বলে এসব কথা? নাম বলেন শুনি তো! শাকিব খানকে তো আমরা বয়কট করি নাই কোনো সময়। শাকিব পুরো চলচ্চিত্র পরিবার বিশেষ করে ফারুক ভাইকে ‘স্টুপিড’ বলায় আমরা শিল্পী সমিতি থেকে তার সাথে কাজের বেলায় অসহযোগিতা করব বলেছি। কিন্তু কাউকে শোকজ বা কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়নি।

আর জাকির হোসাইনের ব্যাপারটি হচ্ছে ওর সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে সমিতির নীতিমালা না মানার কারণে। পরবর্তী সভায় তাকে এর ব্যাখা দিতে বলা হয়েছে। সেখানে সে সন্তোষজনক ব্যাখা দিলেই স্থগিতাদেশ উঠে যাবে।

কিন্তু শাকিব খানের ব্যাপারে তো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি আপনারা।

শাকিব খানের সাথে আমাদের চলচ্চিত্র পরিবারের সমস্যা মিটে গেছে। এখন শাকিব একদিন সময় করে সমিতিতে এসে সবার সাথে বসে চা খেলেই হল। ব্যস!

শাকিব খানের সাথে আপনার একটি জুটি ছিল নায়ক-খলনায়কের এক দশকের বেশি সময় ধরে। একসাথে শিল্পী সমিতি চালিয়েছেনও। দুজনের অনেক ভাল বোঝাপড়া ছিল। সেটা কেন ভেঙে গেল?

কই না তো ভাঙ্গাভাঙ্গি হয়নি তো। শাকিবের সাথে যেটা হয়েছে সেটা হল ও যখন যৌথ প্রযোজনার ছবি করা শুরু করল তখন আমি বললাম দেশের স্বার্থ ঠিক না থাকলে করব না। যার কারণে একটা দূরত্ব হয়েছে, কিন্তু সম্পর্ক আগের মতই রয়েছে। সে যৌথ প্রযোজনার অনেকগুলো ছবি করলো যেগুলোতে আমি ছিলাম না। তবে দেশীয় পাংকু জামাই, লাভ ২০১৭, অপারেশন অগ্নিপথ এগুলোতে কিন্তু আমরা একসাথে কাজ করেছি।

এখানে একটা কথা বলে রাখি আমার শাকিবের সাথে প্রথম জুটি হয়নি। আমার সাথে সালমান শাহ, মান্না, ডিপজল, আমিন খান, রিয়াজ, ফেরদৌস, রুবেল, ইলিয়াস কাঞ্চন, ওমর সানী, জসিম কার সাথে জুটি হয়নি বলতে পারবেন? অনন্ত জলিলের তিন সুপার হিট— মোস্ট ওয়েলকাম ১ ও ২ এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা কিন্তু আমি থাকার কারণে হয়েছে। তার অন্য ছবিগুলো কিন্তু হিট হয়নি।

আপনিও তো যৌথ প্রযোজনার ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ করেছিলেন।

করেছিলাম এটা অস্বীকার করছি না। কিন্তু যখন দেখলাম তারা যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা মানছে না, দেশের ক্ষতি করছে— তখন আমি শুধু দেশীয় ছবি করলাম। আমাকে জাজ আটটি যৌথ প্রযোজনার ছবির অফার দিয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে শিকারি, বাদশা, নবাব, নিয়তির মত ব্যবসাসফল ছবি। এছাড়া দেশীয় ছবি বসগিরিও আমার করার কথা ছিল। সেটিও করা হয়নি।

অনন্য মামুনের পরিচালনায় যৌথ প্রযোজনার ‘চালবাজ’ করার কথা ছিল আপনার। ছাড়লেন কেন?

করার কথা ছিল ব্যাপারটি তা না। মামুন আমাকে অফার করল যখন তখন আমি তাকে স্ক্রীপ্ট দিতে বললাম। এছাড়া যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা মানা না হলে আমি করবো না বললাম মামুনকে। তখন সে আমাকে আসস্থ করলেও তখন যেহেতু যৌথ প্রযোজনার নামে যৌথ প্রতারণার বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছিলো, সরকার যৌথ প্রযোজনার ছবি নির্মাণ স্থগিত করলো তাই বিতর্ক এড়াতে করলাম না। এখন যৌথ প্রযোজনার নতুন নীতিমালা হবার পর যদি দেখি কোনো ছবি দেশের স্বার্থ বজায় রেখে নির্মাণ হচ্ছে তা হলে তাতে অভিনয়ে আপত্তি নেই।

Comments

comments

Scroll To Top