‘আয়নাবাজি’ সিনেমার দর্শকপ্রিয়তার ১০টি কারন!

ayna-l20160119074033

উইকিপিডিয়াতে লেখা হয়েছে, ‘আয়নাবাজি ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের একটি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার।’ দর্শকের আগ্রহ, প্রেক্ষাগৃহে ভিড়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য, স্ট্যাটাসসহ সব জায়গার আলোচনাই প্রমাণ করে আয়নাবাজি কতটা জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু কী সেই কারণ? সেটা অনুসন্ধান করেছেন হাবিবুল্লাহ সিদ্দিক।

১ চলচ্চিত্রের গল্প

আয়নাবাজির বড় প্রাণ এর গল্প। চলচ্চিত্র সমালোচক ফাহমিদুল হক বলেন, আয়নাবাজির অনেক কিছুর সঙ্গে গল্পটি দুর্দান্ত। একদিক থেকে মানবিক গল্প। ক্রাইম উঠে এসেছে। সেই সঙ্গে ছিল একটা ‘লাভ স্টোরি’। এ কারণেই দর্শক ছবিটা ভালোমতো নিয়েছে। অবশ্য চলচ্চিত্রটির নায়িকা নাবিলা বলেন, গল্পটি সহজবোধ্য ছিল।

২ উত্তেজনা ও রসবোধ

চলচ্চিত্রটির পুরো গল্পে ছিল টান টান উত্তেজনা। এক দৃশ্যের পর আরেক দৃশ্যের কথা আগে থেকে বলে দেওয়া যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে পুরো ছবিতে চমক ও কৌতুকপূর্ণ সংলাপ। এ কারণেই ছবিটি দেখতে বসে কেউ উঠে আসতে পারেনি। তা ছাড়া ‘বোঝো নাই ব্যাপারটা’, ‘আয়নাবাজির খেল’সহ বেশ কিছু সংলাপ ছিল দর্শকের মুখে মুখে।

৩ অভিনয়

বলাকা সিনেওয়ার্ল্ডের সহকারী ব্যবস্থাপক আকতার হোসেন আয়নাবাজি নিয়ে বললেন, ‘চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয় দেখার জন্যই দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। অনেক দিন পর এমন অভিনয় দেখেছে দর্শক। তবে শুধু চঞ্চল চৌধুরী নয়, সিনেমার সব অভিনয়শিল্পীই নিজ নিজ চরিত্রে ভালো করেছেন। কারও অতি অভিনয় বা বাজে অভিনয় চোখে পড়েনি।’

aynabazi-film-by-amitabh-reza-with-chanchal-nabila৪ সুন্দরদৃশ্যায়ন

ঢাকা শহরের ওপর বিরক্ত নন এমন মানুষ নেই। অথচ আয়নাবাজি দেখে নতুন করে ঢাকা শহরের প্রেমে পড়েননি এমন মানুষ এখন বিরল। ঘিঞ্জি, যানজট ও বিরক্তিকর এই শহর নতুন করে দেখেছেন দর্শক। আয়নাবাজিরচিত্রগ্রাহক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন রাশেদ জামান। তাঁর কল্যাণে পুরান ঢাকাকে নতুন করে দেখেছেন দর্শক।

৫ আবহ সংগীত ও গান

প্রথম আলোর সঙ্গে এক আলাপে আয়নাবাজির পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী বলেছিলেন, এ দেশের সেরা কিছু মানুষ যুক্ত হয়েছেন আয়নাবাজির সঙ্গে। সুরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অর্ণব, হাবিব ওয়াহিদ, ফুয়াদ আল মুক্তাদির, চিরকুট। আর আবহ সংগীত করেছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। কথা প্রসঙ্গে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বললেন, এমনও হয়েছে গান ও আবহ সংগীতের জন্য অনেক দর্শক বারবার প্রেক্ষাগৃহে এসেছেন।

৬ প্রচারণার কৌশল

‘ছবিটির প্রচারণা এমন একটা জনরব তৈরি করেছিল যে আয়নাবাজি না দেখলে চলবে না। আমাদের জন্য দেখাটাই একটা ব্যাপার হয়ে গিয়েছিল।’ বলছিলেন তরুণ নির্মাতা রেদওয়ান রনি। আয়নাবাজির পরিচালক অমিতাভ রেজা জানালেন, ছবিটি মুক্তি পাওয়ার আগে থেকেই প্রচারণা নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মুক্তির মাস খানেক আগে থেকে তারই বাস্তবায়ন শুরু হয়ে হয়। তারই প্রতিফলন ঘটেছে ছবিটিতে।

রেদওয়ান রনি ছবিটির সফলতার পেছনে পূর্ণ কৃতিত্ব ‘বিপনন কৌশল’কেই দিলেন।

aynabazi20161006152409

৭ ফেসবুক স্ট্যাটাস, ট্যাগ ও হ্যাশ ট্যাগ

আয়নাবাজি দেখে, না দেখে, টিকিট হাতে পেয়েই তরুণেরা স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফেসবুকে। মুক্তির পর অক্টোবর-নভেম্বরজুড়ে ফেসবুক দখল করেছিল আয়নাবাজি। তরুণেরা ট্যাগ ও হ্যাশ ট্যাগ দিয়ে মাতিয়ে রেখেছিল ফেসবুক। আয়নাবাজি দেখাটাই যেন স্ট্যাটাস হয়ে গিয়েছিল তরুণদের। ছবিটির চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক গাউসুল আলম শাওন বললেন, ‘দেশের জনসংখ্যার বেশির ভাগই তরুণ, যারা অনেক কিছু সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখে। চাইলে তাদের সামনে যেনতেন কিছু দেওয়া যাবে না। ওদের কাছে মৌলিক আকর্ষনীয় নিজের সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই কিছু দিতে হবে। যেটা আয়নাবাজির মধ্যে ছিল।’

৮ অসংখ্য তরুণ দর্শক

তরুণ দর্শকের কথা মাথায় রেখে ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে, এটি বোঝা গেল গাউসুল আলম শাওনের কথায়। তিনি বললেন, তরুণেরা অনেক বেশি সচেতন। আর তরুণেরা আসলে উন্মুখ হয়ে ছিল একটি ভালো চলচ্চিত্রের জন্য। আয়নাবাজি সেই ক্ষুধা মিটিয়েছে। বলাকার সহকারী ম্যানেজার বললেন, ‘দর্শক যা চায়, তা-ই ছিল আয়নাবাজিতে।’

৯ আলোচনা

আয়নাবাজি মুক্তি পেয়েছে গত ৩০ সেপ্টেম্বর। তারপর থেকেই আলোচনা ছিল ছবিটি নিয়ে। এই আলোচনার ছাপ পড়েছে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে। বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে এক দিনে সর্বাধিক ১২টি শো চলেছে, যা এর আগে কোনো বাংলা সিনেমার বেলায় ঘটেনি। দর্শকের দীর্ঘ সারি এবং টিকিট ফুরিয়ে যাওয়া নিত্যদিনের ঘটনা ছিল। সিনেপ্লেক্সের সিনিয়র ম্যানেজার (মিডিয়া ও মার্কেটিং) মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ জানালেন, এখনো প্রতিদিন দুটি করে শো হচ্ছে আয়নাবাজির। সবকিছুই উঠে এসেছে ফেসবুক ও সংবাদমাধ্যমে।

১০ বার বার দেখা

চঞ্চল চৌধুরীর ধারণা, অনেক রিপিট দর্শক এসেছে প্রেক্ষাগৃহে। একটা সময় এক ছবি বারবার দেখার প্রবণতা ছিল। গিয়াসউদ্দিন সেলিমের মনপুরা চলচ্চিত্রের বেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে। চঞ্চল মনে করেন, মানুষ একই গল্প ও নকল চলচ্চিত্র দেখতে দেখতে বিরক্ত। যেটা আমাদের দেশে চলচ্চিত্রের বেলায় বেশি ঘটে। কিন্তু আয়নাবাজি পুরোপুরি একটি মৌলিক গল্পের ছবি। এ কারণেই দর্শকের পছন্দের শীর্ষে আয়নাবাজি। তিনি বললেন, ‘কেউ হয়তো প্রথমবার দেখে গল্পটা জেনে গেলেন, পরে এসেছেন নির্মাণশৈলী ও অভিনয় দেখতে।’

একনজরে আয়নাবাজি

পরিচালক: অমিতাভ রেজা চৌধুরী

প্রযোজক: কনটেন্ট ম্যাটারস লিমিটেড, হাফ স্টপ ডাউন

চিত্রনাট্যকার: গাউসুল আলম শাওন ও অনম বিশ্বাস

অভিনয়শিল্পী: চঞ্চল চৌধুরী, নাবিলা, পার্থ বড়ুয়া

সুরকার: অর্ণব, হাবিব ওয়াহিদ, ফুয়াদ আল মুক্তাদির, চিরকুট

আবহ সংগীত: ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত

চিত্রগ্রাহক: রাশেদ জামান

মুক্তি: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬

দৈর্ঘ্য: ১৪৪ মিনিট

নির্মাণব্যয়: দুই কোটি টাকা

আয়: ৩ কোটি টাকার বেশি

Comments

comments

Leave a Reply

Scroll To Top