“ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ সিভিল ওয়ার” রিভিউ

চলচ্চিত্রের নামঃ “ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ সিভিল ওয়ার” (২০১৬) বিশ্বব্যাপী মুক্তিঃ ৬ই মে ২০১৬ অভিনয়েঃ ক্রিস এভান্স, রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, স্কারলেট জোহান্সন, সেবাস্টিয়ান স্টেন, জেরেমি রেনার, পাউল বেটানি, পাউল রোদ, টম হ্যামেন সহ আরো অনেকে। পরিচালনাঃ এন্থনী রুশো এবং জো রুশো প্রযোজকঃ কেভিন ফেইজ প্রযোজনাঃ মার্বেল স্টুডিও এবং মার্বেল এন্টারটেইনমেন্ট কাহিনিঃ সিভিল ওয়ার এর উপর ভিত্তি করে …

Review Overview

পরিচালনা
কাহিনী
চিত্র্যনাট্য
চিত্রগ্রহন
সম্পাদনা
অভিনয়

Summary : ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ সিভিল ওয়ার এমন একটা মুভি যেটা দেখতে যাওয়ার জন্য আপনার কোন রিভিউ এর উপর বিশ্বাস করার দরকার নেই। এটা আপনার এক্সপেক্টেশন বেশ ভালোভাবেই পূরন করবে।হেটার্সরা হয়ত বলবেনা কিন্তু সিক্রেটলি তারাও খুব ইঞ্জয় করবে এই সিনেমা।

User Rating: Be the first one !
85

চলচ্চিত্রের নামঃ “ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ সিভিল ওয়ার” (২০১৬)

বিশ্বব্যাপী মুক্তিঃ ৬ই মে ২০১৬

অভিনয়েঃ ক্রিস এভান্স, রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, স্কারলেট জোহান্সন, সেবাস্টিয়ান স্টেন, জেরেমি রেনার, পাউল বেটানি, পাউল রোদ, টম হ্যামেন সহ আরো অনেকে।

পরিচালনাঃ এন্থনী রুশো এবং জো রুশো

প্রযোজকঃ কেভিন ফেইজ

প্রযোজনাঃ মার্বেল স্টুডিও এবং মার্বেল এন্টারটেইনমেন্ট

কাহিনিঃ সিভিল ওয়ার এর উপর ভিত্তি করে

চিত্র্যনাট্যঃ ক্রিস্টোফার মার্কাস এবং স্টিফেন ম্যকফেলি

সম্পাদনাঃ জেফ্রি ফ্রড এবং ম্যাথিউ স্মিদিত

সিনেমাটোগ্রাফীঃ ট্রেন্ট অপালচ

সংগীতঃ হেনরি জ্যাকমেন

ভূমিকাঃ ১৩ সংখ্যাটাকে বলা হয় আনলাকি। তবে মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স ১৩ তম ইনস্টলমেন্ট এ দিল তাদের এখন পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে এক্সিলেন্ট সিনেমাটি এবং যা এখন পর্যন্ত আমার দেখা বেস্ট সুপারহিরো মুভি। মার্ভেল কমিক বই এর ব্যাপারে আমার কোন ধারনা নেই তবে একজনকে চিনি যার কমিক বই এবং কমিক বই বেইজড মুভির ব্যাপারে খুব ভাল ধারনা আছে। তিনি প্রিয় ডিরেক্টর কেভিন স্মিথ। তিনি এটাকে কমিক বুক বেইজড সিনেমাগুলোর মধ্যে বেস্ট হিসেবে ডিক্লেয়ার করেছেন।

কাহিনী সংক্ষেপঃ আল্ট্রন অফেন্সিভ এর কারনে সৃষ্ট ব্যাটেল অফ জোকোভিয়া’র কারনে বেশ ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড এবং প্রানহানী ঘটেছিল।এছাড়া ব্যাটেল অফ নিউইয়র্ক এও হয়েছিল ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।যার ফলে ইউনাইটেড ন্যাশনস এভেঞ্জার সহ অন্যান্য সুপারহিরোদের নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য ‘জোকোভিয়া চুক্তি’ উত্থাপন করে।এই চুক্তি নিয়েই প্রাথমিকভাবে এভেঞ্জার্সদের মধ্যে কনফ্লিক্ট হয়।যার কারনে এরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।তবে একে অন্যের প্রতি লড়াইয়ে মত্ত হওয়ার পেছনে ছিল আরেক মাস্টারমাইন্ড এর কারসাজি।কে সে! কি তার উদ্দেশ্য!শেষ পর্যন্ত কি হয় এভেঞ্জার্সদের!কোন টীম জিতে যায়! এগুলা নিয়েই পুরো মুভিটা।এতদিন এই মুভির আলোচনায় অনেককেই অনেক কিছু প্রেডিক্ট করতে দেখছিলাম।মজার ব্যাপার আমি যতগুলা প্রেডিকশন দেখেছি বিভিন্ন ক্যারেক্টার এর ব্যাপারে কোনটাই সঠিক হয়নি।আর যদি ভাবেন এটা বেশিরভাগ মার্ভেল মুভির মত নরমাল স্ক্রিপ্ট এর মুভি বা যদি মনে করেন স্টোরি আপনার আগেই জানা তাহলে আপনি একটা জন স্নো। ইউ নো নাথিং!!!!

সিনেমা পর্যালোচনাঃ এই মুভির সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক হল এর প্রতিটা ক্যারেক্টার এর প্রাধান্যতা। মুভিটা ক্যাপ্টেন আমেরিকা’র সিক্যুয়েল হলেও এটা যতটা ক্যাপ্টেন আমেরিকার মুভি ঠিক ততটাই ব্লাক প্যান্থার এর ও মুভি।আর আমাদের আয়রন ম্যানত আছেই স্বমহীমায়।আয়রন ম্যান,ক্যাপ্টেন আমেরিকা,উইন্টার সোলজার,ব্লাক প্যান্থার,এন্ট ম্যান,স্পাইডি,ভিশন,হক আই,স্কারলেট উইচ,ব্লাক উইডো,ক্রসবোন,ওয়ার মেশিন,ফ্যালকন এক সাথে মার্ভেল এর এতগুলা ফেমাস ক্যারেক্টারকে এত সুন্দরভাবে ব্যালেন্সড করা ভয়াবহ কঠিন একটা কাজ।ঠিক এই জাগাতে তারা সফল বলেই মুভিটা দর্শকদের কাছে খুব বেশি উপভোগ্য হবে।

সিনেমার আর একটা দারুন দিক এর একশন সিকোয়েন্সগুলা।রিসেন্ট টাইমে আমার দেখা বেস্ট কিছু একশন সিন ছিল এই মুভিতে।ইভেন ম্যাড ম্যাক্স ফিউরি রোড এর একশন সিনগুলা থেকেও ব্রেথটেকিং।কে কার বন্ধু ছিল,কে কার ক্যাপ্টেন ছিল তা দেখার টাইম নেই কারো শুধু মাইর আর মাইর।এমন রুথলেস ভাবে এরা মারামারি করতেছে দেখে খারাপও লাগছে তবে মার্ভেল এর টিপিকাল হিউমারত থাকবেই যার কারনে ঠোটের কোনায় হাসিও থাকবে।আর হিউমার সামলানোর দায়িত্বটা এবার গিয়ে পড়েছে স্পাইডি এবং এন্ট ম্যান এর ঘাড়ে।

এই মুভির পরে সবাই একটা জিনিস এর খুব অপেক্ষায় থাকবে তা হল মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স এ ব্লাক প্যান্থার এবং স্পাইডার ম্যান এর সলো মুভি। এদের ক্যারেক্টার দুটো এতটাই মাইন্ডব্লোয়িং ছিল।টম হলান্ড এবং চ্যাডউইক বোসম্যান আবারো প্রমান করল সিনেমার ক্যারেক্টার কাস্টিং এ মার্ভেল এর উপর কেউ নেই।ব্লাক প্যান্থার কে বা কোথা থেকে আসল এটা স্পয়লার এর জন্য এড়িয়ে গেলাম।তবে অরিজিন মুভি ছাড়াও নতুন একটা ক্যারেক্টারকে যে সুন্দরভাবে ডেভেলপ করা যায় তার উদাহরন এই মুভি।ক্যাপ্টেন আমেরিকার সলো মুভি ছাড়া ক্যাপকে কখনোই তেমন ভালো লাগেনি।এভেঞ্জারস মুভিগুলাতে লাইম লাইট খেয়েছে সব আয়রন ম্যান।তবে এখানে ক্যাপ আসলেই দূর্দান্ত।আমি পার্সোনালভাবে টীম আয়রন ম্যান হলেও এই প্রথম আয়রন ম্যান থাকার পরেও ক্যাপ কে আমার বেশি ভাল লেগেছে।আর একটা ক্যারেক্টার অসাধারন ছিল।ঐ যে প্রথমে বল্লাম মাস্টারমাইন্ড।তার ব্যাপারে একটু ডিটেইলস বলতে চাচ্ছিলাম তবে এতে মুভির মজা নষ্ট হতে পারে তাই তাকে রহস্য হিসেবেই রাখলাম।

বর্তমানের প্রতিক্ষিত মুভিগুলা প্রতিবার একটা খুব বাজে কাজ করে যা দর্শক বিশেষ করে যারা টাকা খরচ করে দেখতে যায় তাদের মেজাজ খারাপ এর কারন হয়।কাজটা হল ট্রেইলার ছাড়াও ছোট ছোট টিভি স্পটে অনেক ম্যাগনেট সিন দেখিয়ে দেওয়া।ক্যাপ এবং বাকি এর একটা সিন ছিল যেটা দেখলে সিওরলি যে কারো চোখের পলক বন্ধ হয়ে যাবে কিছুক্ষন এর জন্য।কিন্তু টিভি স্পটে আগে দেখার কারনে সিনটা উপভোগ করতে পারিনি।এরকম আরো কয়েকটা দারুন সিন তারা আগেই দেখিয়ে দিয়েছে দর্শকদের যার কোনই দরকার ছিলনা।

উপসংহারঃ যারা ফরেন ল্যাংগুয়েজ এর ক্যামরিপ দেখেছেন তাদের বলছি আপনারা মুভির ২০% ও ইঞ্জয় করতে পারেননি। বিগ স্ক্রিনে থ্রিডিতে দেখে প্রতিটা দর্শক যে কি পরিমান ইঞ্জয় করেছে মুভিটা তা যারা হলে ছিল তারাই জানে। আর মুভির দুইটা পোস্ট ক্রেডিট সিন ছিল।৯০% মানুষই একটা পোস্ট ক্রেডিট সিন দেখে বেড়িয়ে গেছে।পরে বুঝবে কি মিস করছে তারা।

ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ সিভিল ওয়ার এমন একটা মুভি যেটা দেখতে যাওয়ার জন্য আপনার কোন রিভিউ এর উপর বিশ্বাস করার দরকার নেই। এটা আপনার এক্সপেক্টেশন বেশ ভালোভাবেই পূরন করবে।হেটার্সরা হয়ত বলবেনা কিন্তু সিক্রেটলি তারাও খুব ইঞ্জয় করবে এই সিনেমা।সবচেয়ে বড় ব্যাপার এটা বেশিরভাগ সুপারহিরো মুভিগুলার মত না যে দেখলাম ইঞ্জয় করলাম এবং শুধুই টাইম পাস করলাম।

Comments

comments

Leave a Reply

Scroll To Top
0