জটিলতা এখনও কাটেনিঃ ‘রানা প্লাজা’র মুক্তি অনিশ্চিত!

ঢালিউড সিনেমা ‘রানা প্লাজা’র মহরত অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিরা ছিলেন। শুটিং শেষ হয়ে সেন্সরে যাওয়ার পর থেকে শুরু হয় জটিলতা। উচ্চ আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও সরকারের নির্বাহী আদেশে ছবিটি নিষিদ্ধ করা হয়। পরিচালক নজরুল ইসলাম খান জানালেন, সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে নতুন কোনো খবর নেই। তারপরও তিনি হতাশ হতে চান না।

‘রানা প্লাজা’য় অভিনয় করেছেন সাইমন সাদিক ও পরী মনি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, পরী মনি অভিনয় করেছেন আলোচিত রেশমা চরিত্রে।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সরকারি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, “শামীমা আক্তার প্রযোজিত ‘রানা প্লাজা’ পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর আপিল কমিটি জনসমক্ষে প্রদর্শনের উপযোগী নয় বলে বিবেচিত হওয়ায় চলচ্চিত্র সেন্সরশিপ আইন-১৯৬৩ অনুযায়ী বাংলাদেশে চলচ্চিত্রটি সেন্সর সনদবিহীন ঘোষণা করা হয়েছে। সেন্সর সনদপত্রবিহীন ‘রানা প্লাজা’ চলচ্চিত্রটি দেশের কোথাও প্রদর্শিত হলে ছবি বাজেয়াপ্তসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পরিচালক নজরুল ইসলাম খান পরিবর্তন ডটকমকে সোমবার বলেন, ‘আমরা প্রথমে সেন্সর বোর্ডে আটকে গেলাম। এরপর আপিলের পর হাইকোর্টের আদেশে শর্ত সাপেক্ষে সেন্সর পাই। আমরা মুক্তির তারিখও পাই, কিন্তু এরপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় পাওয়ার পরও সরকার আমাদের আটকে দিয়েছে। আমি তথ্য মন্ত্রণালয়, বিজিএমই সভাপতি, এফডিসির এমডি সবার কাছে অনেকবার গিয়েছি। আমি হতাশ হতে চাই না, আমি আশাবাদী হয়ত খুব শিগগিরই ছবিটি আলোর মুখ দেখব।’

‘ছবির গল্প মূলত গ্রামের ছেলে-মেয়ের প্রেম নিয়ে। এখানে দেশবিরোধী কিছু নেই। ছবিটিতে রানা প্লাজার দুর্ঘটনার দৃশ্য আছে মাত্র ১৮ মিনিট।’— বলছিলেন নজরুল ইসলাম খান।

‘রানা প্লাজা’র নায়ক সাইমন বলছিলেন, ‘ছবিটি নিয়ে অনেক আশা ছিল। জানি না কবে মুক্তি পাবে। পরিচালক-প্রযোজক নিশ্চয় ভালো কোন খবর দেবেন খুব শিগগিরিই।’

২০১৪ এর ১২ জানুয়ারি বিএফডিসিতে ছবিটির মহরত অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছরের জুনে সেন্সরে বোর্ডে জমা পড়ে। সেন্সর বেশকিছু দৃশ্যের কাটছাটের নির্দেশনা দেয়। পরবর্তীতে ২০১৫ এর মাঝামাঝি সেন্সর পায় শর্ত সাপেক্ষে এবং ৪ সেপ্টেম্বর মুক্তির তারিখও নির্ধারণ করে। কিন্তু তখন থেকে বিভিন্ন আদালতে লড়াই করেও মুক্তির আলো দেখেনি ছবিটি।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামের একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে। এ দূর্ঘটনায় এক হাজার ১৭৫ জন পোশাক শ্রমিক নিহত ও দুই হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন, যা বিশ্বের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এই ঘটনার ১৭ দিন পর ১০ মে ধ্বংসস্তূপ থেকে রেশমা নামের এক পোশাক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এ প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে ‘রানা প্লাজা’।

Comments

comments

Scroll To Top