জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার মানেই অন্য কিছুঃ জয়া আহসান

চিত্রনায়িকা জয়া আহসান। বাংলাদেশে যেমন কাজ করছেন, ঠিক তেমনি কাজ করছেন ভারতের বাংলা ছবিতেও। অল্প দিনেই ভারতের বাংলা ছবির জগতে নিজের মজবুত অবস্থান তৈরি করেছেন। নিজেকে সেখানে অপরিহার্য করে তুলেছেন। নির্মাতাদের পাশাপাশি বরেণ্য শিল্পীরাও সমীহ করেন তাকে। ২০১৫ সালের বাংলাদেশে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবারই ঘোষণা করা হলো এই পুরস্কার। এর আগে আরও দুই বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন, প্রথমটি ​‘গেরিলা’ আর দ্বিতীয়টি ‘চোরবালি’ ছবির জন্য। এবার পেয়েছেন ‘জিরো ডিগ্রী’ ছবিতে অনন্য অভিনয়ের জন্য। পাশাপাশি জয়া আহসান অভিনীত ‘বিসর্জন’ ছবিটি এবার ভারতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ফোনকল দিয়েছেন তিনি। কথা বললেন চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে। চ্যানেল আই অনলাইনের সৌজন্যে সাক্ষাৎকারটি ফিল্মীমাইক পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

কয়েকবার ফোন করেছি। কিন্তু আপনাকে পাইনি।

খুব ব্যস্ত। কলটা ধরতে পারিনি।

কী নিয়ে এত ব্যস্ততা?

কলকাতায় যাচ্ছি। বুঝতেই পারছেন, এর জন্য কিছু প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।

কখন যাচ্ছেন?

আজই। একটু পর ফ্লাইটে উঠব। এখন বিমানবন্দরে। একদিনের জন্য যাচ্ছি।

জরুরি কোনো কাজ?

ছবির শুটিং। নতুন ছবি। নাম ‘বৃষ্টি তোমাকে দিলাম। পরিচালক অর্ণব পাল। কাল শনিবার থেকে শুটিং শুরু হচ্ছে। কাল কলকাতায়ই শুটিং হবে। পরশু রোববার ফিরে আসব।

কেন?

আম্মা খুব অসুস্থ। তাকে নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। দরকার হলে হাসপাতালেও ভর্তি করতে হবে। সব কিছু ঠিক করে আমি আবার কলকাতায় যাব। এরপর টানা সাত দিন শুটিং করব।

‘বিসর্জন’ ছবির পর কলকাতায় এটাই আপনার নতুন ছবি?

না, এর মধ্যে আরেকটি ছবির কাজ করেছি। এবারই প্রথম ইন্টারনেট ছবিতে অভিনয় করেছি। নাম ‘ভালোবাসার শহর’। পরিচালক ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী। ৬ জুন রিলিজ হবে। প্রেক্ষাগৃহে নয়, দর্শক ছবিটি দেখতে পাবেন ইন্টারনেটে। এবার বলুন আমাকে কেন ফোন দিয়েছিলেন।

শুভেচ্ছা জানাতে। তৃতীয়বারের মতো আপনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

ধন্যবাদ। প্রতিবারই পুরস্কার পাওয়াটা আমার কাছে একদম নতুন মনে হয়। এই যেমন যখনই ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই, মনে হয় এবারই প্রথম দাঁড়িয়েছি। একদম অন্য অনুভূতি কাজ করে। অনেক পুরস্কার পেয়েছি, কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার মানেই অন্য কিছু। অনেক সম্মানের। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি। এর জন্য আমি সরকার, জুরি বোর্ড, ছবির পরিচালক অনিমেষ আইচ, ছবির প্রযোজক ও নায়ক মাহফুজ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

এখন কিন্তু ভালো ছবি আর ভালো কাজকে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। ভালো ছবি তৈরির ব্যাপারেও সরকার নানা ভাবে সহযোগিতা করছে।

ঠিক বলেছেন। দেখুন অনেক ভালো ভাবনা, ভালো পরিকল্পনা পৃষ্টপোষকতার অভাবে মাঠেই মারা যায়। কিন্তু সরকার এখন যেভাবে অনুদান দিচ্ছে, তাতে করে পরিচালকেরা সাহস পাচ্ছেন। নতুন কিছু সৃষ্টির স্বপ্ন দেখতে পারছেন।

আপনি নিজেও তো সরকারের কাছ থেকে অনুদান পেয়েছেন।

হ্যাঁ, আমার ছবির নাম ‘দেবী’। হুমায়ূন আহমেদের ‘মিসির আলী’ চরিত্রের প্রথম উপন্যাস। আমি হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের কাছে খুবই কৃতজ্ঞ, তারা আমাকে উপন্যাসটি নিয়ে ছবি তৈরির অনুমতি দিয়েছেন।

আ​পনি চিত্রনায়িকা। প্রযোজক হওয়ার পর কেমন মনে হয়েছে?

আমাদের এখানে পেশাদারিত্বটা এখনো গড়ে ওঠেনি। প্রতিবন্ধকতা অনেক। আমার কাছে সব সময় মনে হয়েছে, আমি জনগণের টাকা দিয়ে ছবি বানাচ্ছি। জনগণের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারব না। জনগণ যে ট্যাক্স দেন, সেখান থেকে সরকার আমাকে অনুদা​ন দিয়েছেন। তাহলে বুঝতে পারছেন, কতটা চাপ নিয়ে কাজ করছি! আমার ছবির বড় প্রযোজক জনগণ। আমি তো আং​শিক প্রযোজক। আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম ‘সি-তে সিনেমা’। ছবিতে আমি উপন্যাসের ‘রানু’ চরিত্রে অভিনয় করেছি।

সরকারের এই অনুদান নিয়ে তো অনেক অভিযোগ আছে।

বড় অভিযোগ, সরকারের অনুদানের ছবি সময় মতো শেষ করা যায় না। আমি এই ধারণাকে পাল্টে দিতে চেয়েছি। আমার ছবির শুটিংয়ের শিডিউল ছিল ৩৬ দিন। কিন্তু ২৭ দিনে পুরো শুটিং শেষ হয়েছে। আর ১–২ দিন কিছু প্যাচ ওয়ার্ক লাগতে পারে। সেটা পরে দেখা যাবে। আমরা প্রথম রাশ কপি মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি।

‘দেবী’ খুব জনপ্রিয় আর বহুল পঠিত উপন্যাস।

কত কোটি মানুষ যে এই উপন্যাস পড়েছেন, এই সংখ্যা বলা মুশকিল। এই কোটি কোটি মানুষের মনে ‘মিসির আলী’কে নিয়ে নানা ইমেজ তৈরি হয়ে আছে। সেসব ইমেজের মধ্য থেকে আমরা একজনকে ​পর্দায় ‘মিসির আলী’ হিসাবে উপস্থাপন করব। পুরো ব্যাপারটা বিশ্বাসযোগ্য আর গ্রহণযোগ করতে হবে। আমি বলব, ‘মিসির আলী’ চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরী যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন। ছবির পরিচালক অনম বিশ্বাসও নিজের মেধা দিয়ে কাজটা করছেন। দেখা যাক।

ছবির মুক্তির ব্যাপারে কোনো তারিখ চূড়ান্ত করেছেন?  

এখন তো বড় ঝামেলা, সামনে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ। এগুলো ঠিক মতো শেষ হউক। তারপর পরিকল্পনা করে তারিখ চূড়ান্ত করব।

এবার একদম ব্যক্তিগত একটা প্রসঙ্গ জানতে চাই। যদি অনুমতি দেন।

বলুন। অসুবিধা নেই।

পাঠকদের কাছ থেকে প্রায়ই কিছু প্রশ্ন পাই। এর মধ্যে একটা সাধারণ প্রশ্ন, আপনি বিয়ে করছেন কবে?

অবশ্যই করব। বাসা থেকে তো খুব বলছে। প্রেশারে আছি। খুব তাড়াতাড়িও হতে পারে আবার বছর কয়েক লাগতে পারে। আসলে ঠিক মানুষটাকে খুঁজছি।

ধন্যবাদ। আপনার যাত্রা শুভ ও নিরাপদ হউক।

আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।

Comments

comments

Scroll To Top