টম হ্যাঙ্কস-এর নয়টি অজানা তথ্য

tom-hanks

শুধু নিজের অভিনীত চরিত্র কিংবা অর্জিত সম্মাননা দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয় মার্কিন অভিনয়শিল্পী টম হ্যাঙ্কসকে, পর্দার এই মানুষটি অনন্য তারব্যাক্তিত্ব আর প্রতিভার মিশেলেও। জীবদ্দশাতেই কিংবদন্তী অভিনেতার খেতাব পেয়ে যাওয়া এই মানুষটির জন্ম ১৯৫৬ সালের ৯ ই জুলাই । ৬০তমজন্মদিন উপলক্ষে জেনে নেওয়া যাক টম হ্যাঙ্কস সম্পর্কে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য।

১. স্টিভেন স্পিলবার্গের পরিচালনায় ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’ সিনেমাতে টম হ্যাঙ্কস এর অভিনয় ছুঁয়ে গিয়েছিল দর্শকদের মন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটেনির্মিত এই সিনেমায় ক্যাপ্টেন মিলারের চরিত্রে অভিনয় করে শুধু অস্কারই জেতেননি হ্যাঙ্কস, ১৯৯৯ সালে মার্কিন নেভির সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পাবলিকসার্ভিস অ্যাওয়ার্ড এর সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছিল তাকে।

২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে স্পিলবার্গের সঙ্গে তিনি নির্মাণ করেছিলেন ‘ব্যান্ড অফ ব্রাদারস’ টিভি সিরিজটি। সেখানে বিধস্ত ভাঙ্গাচোরা একটি দালাননিরীক্ষা করছিলেন তিনি। ফ্লোর বহু পুরোনো হয়ে পচন ধরায় হঠাতই সেটা ভেঙ্গে নিচে পড়ে যান তিনি। কাঁধের হাড় সরে গিয়ে অনেকদিন বিশ্রাম নিতেহয়েছে হ্যাঙ্কসকে।

৩. হলিউড ইতিহাসের দ্বিতীয় অভিনেতা হলে টম হ্যাঙ্কস, যিনি দুর্দান্ত অভিনয়ের সুবাদে টানা দুবার জিতে নিয়েছেন অস্কার। ১৯৯৩ সালে প্রথম অস্কারজেতেন ‘ফিলাডেলফিয়া’ সিনেমার জন্য, আর পরের বছরই আইকনিক ‘ফরেস্ট গাম্প’ চরিত্রে অভিনয় করে জিতে নেন দ্বিতীয় ট্রফিটি। ১৯৯৪ থেকে২০০৪ সালের মধ্যে শন পেন, মেরিল স্ট্রিপ, জুডি ডেঞ্চ এবং এড হ্যারিস-এর পাশাপাশি তিনি সর্বোচ্চ চারবার মনোনয়ন পান অস্কারে সেরা হবার জন্য।

৪. অভিনেতা-নির্মাতা জুটি হিসেবে টম হ্যাঙ্কস এবং স্টিভেন স্পিলবার্গ অনবদ্য! এখন পর্যন্ত একসঙ্গে চারটি সিনেমায় কাজ করেছেন এই জুটি, প্রতিটিরগল্পই ছিল ইউরোপকেন্দ্রীক। ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’ সিনেমায় ক্যাপ্টেন মিলার জার্মানিতে লড়াই করেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’সিনেমায় ফ্র্যাঙ্ক উইলিয়াম অ্যাবেগনেল জুনিয়রের জালিয়াতি ফাঁস করতে চষে বেড়িয়েছেন ফ্রান্স। কাল্পনিক ইউরোপিয় দেশ ক্রাখোজিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রারজন্য তিনি অপেক্ষা করেন ‘দ্য টার্মিনাল- এ, আর সর্বশেষ ২০১৫ তে দুর্ধ্বর্ষ গোয়েন্দার চরিত্রে টম হ্যাঙ্কস পাড়ি জমান জার্মানির বার্লিনে, ‘ব্রিজ অফ স্পাইস’সিনেমাতে।

৫. অস্কারের মঞ্চে সেরার খেতাব যেমন জিতেছেন, বাজে অভিনয়ের সুবাদে তিনি প্রায় জিতেই গিয়েছিলেন বাজে সিনেমা এবং পারফরম্যান্সের ‘র‌্যাজিঅ্যাওয়ার্ড’। ২০০৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘দ্য পোলার এক্সপ্রেস’, ‘দ্য লেডিকিলারস’ এবং ‘দ্য টার্মিনাল’। তিনটি সিনেমার জন্যই তাকে বাজে অভিনেতাক্যাটাগরিতে মনোনয়ন দেবার কথা ছিল। এর দুবছর পর আবারও ‘দ্য দা ভিঞ্চি কোড’ এ অভিনয়ের জন্য র‌্যাজি মনোনয়ন আরেকটু হলেই পেয়ে যেতেন।কিন্তু নিজের সম্মানজনক অবস্থানের জন্যই প্রতিবার বেঁচে যান।

৬. অভিনেত্রী মেগ রায়ানের সঙ্গে  পর্দার সামনে ও পেছনে- দুই জায়গাতেই হ্যাঙ্কসের রসায়ন দারুণ । পর্দার বাইরের অসম্ভব ভালো দুজন বন্ধু একেঅপরের বিপরীতে প্রথমবার পর্দায় জুটি হিসেবে অভিনয় করেন ১৯৯৮ সালে ‘ইউ’ভ গট মেইল’ সিনেমায়। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে তাদের দেখা যায় ‘জোভারসেস দ্য ভলকেইনো’ এবং ১৯৯৩ সালে ‘স্লিপলেস ইন সিয়াটল’ সিনেমায়।

৭. পুরোনো টাইপরাইটার সংগ্রহের এক অদ্ভুত শখ রয়েছে হ্যাঙ্কসের। পুরো বিশ্ব ঘুরে ৮০ টিরও বেশি টাইপরাইটার কিনেছেন তিনি। তার এই আগ্রহের উপরভিত্তি করেই নির্মাণ করা হয় আইপ্যাড এর একটি অভিনব অ্যাপ্লিকেশন। ‘হ্যাঙ্কস রাইটার’ নামে এই অ্যাপ্লিকেশন ফন্ট ব্যাবহার করে লেখার সময় পুরোনোটাইপরাইটার ব্যাবহার করার আমেজ পাওয়া যাবে, এমনকি শব্দটাও টাইপরাইটারের বোতাম টেপার মতই। আগস্ট ২০১৪ তে সর্বোচ্চ ডাউনলোড হবারসারিতে অ্যাপস্টোরে এটি শীর্ষে চলে আসে।

৮. টম হ্যাঙ্কসকে ‘সৌভাগ্য মন্ত্র’ হিসেবে মনে করে থাকেন অনেক নির্মাতাই। এখন পর্যন্ত আটজন নির্মাতা অস্কার জিতেছেন, যাদের সিনেমায় মূল চরিত্রেছিলেন হ্যাঙ্কস। তারা হলেন- রন হাওয়ার্ড, জোনাথান ডেমে, রবার্ট জেমেকিস, স্টিভেন স্পিলবার্গ, স্যাম মেন্ডেস, জোয়েল এবং ইথান কোয়েন, এবং মাইকনিকোলাস।

৯. হ্যাঙ্কস-এর কন্যা এলিজাবেথ হ্যাঙ্কস যে অভিনয় করেছিলেন ‘ফরেস্ট গাম্প’ সিনেমায়, যে তথ্যটি অনেকেরই অজানা। কিশোর টম হ্যাঙ্কস স্কুল বাসেউঠে প্রথমে একটি মেয়ের পাশে বসতে চাইলে তাকে পেছনে ঠেলে দেয় যে মেয়েটি, সেই হল এলিজাবেথ।

Comments

comments

Leave a Reply

Scroll To Top