ধ্যাততেরিকি দেখে সবাই বেশ আনন্দ পাচ্ছেঃ আরিফিন শুভ

চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। পহেলা বৈশাখে ঢাকাসহ সারা দেশে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত নতুন ছবি ‘ধ্যাততেরিকি’। এ ছবি ও বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন ‘আমাদের সময়’-এর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- ফয়সাল আহমেদ। ‘আমাদের সময়’-এর সৌজন্যে সাক্ষাৎকারটি ফিল্মীমাইক পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

পহেলা বৈশাখের একমাত্র ছবি ‘ধ্যাততেরিকি’। প্রচুর দর্শক দেখছেন। আপনি কি সিনেমা হলে গিয়েছিলেন?

তিন-চার দিন ধরে আমার মা খুব অসুস্থ। তিনি এখন হাসপাতালে ভর্তি। তাই আমি কোনো সিনেমা হলে গিয়ে ছবিটি দেখতে পারিনি। তবে আমার কাছে যতটুকু খবর আছে, দর্শক বেশ আগ্রহ নিয়েই ছবিটি দেখছেন এবং তারা নিরাশ হচ্ছেন না। এটি একটি হাস্যরসাত্মক ধাঁচের ছবি। এ ধরনের ছবি মানুষের বিনোদনের বড় খোরাক। সবাই ছবিটি দেখে বেশ আনন্দ পাচ্ছেন।

পৃথিবীর কঠিন কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম মানুষ হাসানো। এই কঠিন কাজটি করলেন কীভাবে?

আমি প্রতিটি ছবিতেই নিজেকে ভাঙতে চাই। তাই সব ধরনের গল্পের ছবিতে অভিনয় করি। মানুষ হাসে আসলে ছবির গল্প ও সংলাপ শুনে। আমি শুধু গল্পের একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি। শামীম আহমেদ রনী পরিচালিত এই ছবির এ রকম বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করছেন নুসরাত ফারিয়া, রোশান ও ফারিন। আমরা সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। কতটুকু পেরেছি, সেটা ভালো বলতে পারবেন দর্শক। কাছের যারা ছবিটি দেখেছেন, তারা সবাই প্রশংসাই করেছেন।

এখন পর্যন্ত অনেক চরিত্রে নিজেকে বদলেছেন। কিন্তু আরিফিন শুভর যে অভিনয়প্রতিভা আছে, তার পুরোটা তো আমরা কোনো চরিত্রে দেখতে পেলাম না-

মাত্র তো শুরু করলাম। খুব বেশিদিন হয়নি কাজ করছি। ধীরে ধীরে অনেক কিছু শিখছি। আমিও এখন পর্যন্ত তৃপ্তি নিয়ে কোনো ছবিতে কাজ করতে পারিনি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। এর মধ্যে এমন অনেক চরিত্রে দর্শক আমাকে দেখতে পাবেন, যেটা দেখে আজীবন মনে রাখবেন। সেটা অবশ্য গল্পের ওপর নির্ভর করে। আলমগীর স্যারের (নায়ক আলমগীর) ছবিটি নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী।

আলমগীরের ছবি ‘একটি সিনেমার গল্প’-এর কাজ শুরু হবে কবে?

আম্মা অসুস্থ থাকায় আমি আসলে কোনো দিকে খেয়াল রাখতে পারছি না। শুনেছি সেপ্টেম্বরে ‘একটি সিনেমার গল্প’র কাজ শুরু হবে। ছবিতে আমার বিপরীতে আছেন পাওলি দাম। এ বিষয়টিও আমি নিশ্চিত নয়। প্রসেনজিৎদা আছেন কিনা, সেটাও জানি না।

আপনার কথা শুনে একটা বিষয় স্পষ্ট- গল্পই ছবির প্রাণ। তা হলে কী ধরনের গল্পনির্ভর সিনেমা নির্মাণ হওয়া উচিত?

দেখুন, গল্প যে কোনো ধরনের হতে পারে। পাঠক হিসেবে আমরা কিন্তু সব ধরনের গল্পই পড়ি। তার মধ্য থেকে কিছু আমাদের হৃদয়ে গেঁথে যায়, কিছু পড়ে মজা পাই, অনেক কিছু পড়েই ভুলে যাই। সিনেমার গল্পের বিষয়ও তাই। সব ধরনের গল্পের সিনেমা নির্মাণ হওয়া উচিত। কারণ একেক মানুষের রুচি একেক রকম। সবাই কোনো না কোনো সিনেমা দেখেন। আমার মনে হয়, মানুষ এখন হাসির ছবি বেশি দেখছেন। তাই কমেডি ধাঁচের ছবির দিকে একটু নজর দেওয়া উচিত। তবে আমাদের কিন্তু গল্পের একটি ভা-ার আছে। সেটা হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি দিন নিয়েই একটি সিনেমা নির্মাণ করা যায়। আমাদের বীরশ্রেষ্ঠদের নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করা উচিত।

কিন্তু সে ক্ষেত্রে তো অনেক বাজেট দরকার?

বাজেট বেশি না হলে কোনো সিনেমাই ভালো হয় না। আর মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করতে সরকারি সহায়তা দেওয়া উচিত। এখন চলছে ২০১৭ সাল। আপনি ১৯৭১ সাল দেখাতে গেলে নিজেকে পুরো একটি সেট তৈরি করে নিতে হবে। এটায় প্রচুর টাকা দরকার। এ টাকার অর্ধেকের বেশি সরকারের দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আর আমাদের দেশে কিন্তু অনেক বিনিয়োগকারী আছেন, যারা ইচ্ছে করলেই সিনেমায় বিনিয়োগ করতে পারেন।

ভালো সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে, কিন্তু ভালো সিনেমা হলের অভাবে মানুষ সেটা দেখছেন না। কথাটা কি পুরোপুরি বিশ্বাস করেন?

এটা একশ ভাগ সত্যি কথা। ভালো সিনেমা হল না থাকলে আপনি কোথায় বসে সিনেমা দেখবেন? এমন অনেক সিনেমা হলে আমি গিয়েছি, যেখানে ফ্যান পর্যন্ত নেই। তার পরও মানুষ আমাদের সিনেমা দেখছেন। কিন্তু সবাই তো এত কষ্ট করে সিনেমা দেখবেন না। নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে কে কষ্ট করতে চায় বলুন? তাই সিনেমা বাঁচাতে হলে, সিনেমা হল নির্মাণ বা পুনর্গঠন করা ছাড়া উপায় নেই। আমি প্রায়ই বলি, কোনো একদিন দেখবেন আমি রাস্তায় বসে আছি। আমার হাতে লেখা, সিনেমা হল ঠিক করতে হবে।

Comments

comments

Scroll To Top