নায়করাজ স্মরণে মধুমিতায় রাজ্জাক-শাবানার ‘আগুন’

নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা সিনেমা হলে গতকাল মঙ্গলবার সকালের শো বন্ধ রাখা হয়। গতকাল ছবি প্রদর্শনী বন্ধ রাখার পাশাপাশি মধুমিতা হল কর্তৃপক্ষ আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ জানান, আগামী শুক্রবার থেকে মধুমিতা মুভিজের ব্যানারে নির্মিত রাজ্জাক-শাবানা অভিনীত আগুন ছবিটি প্রদর্শিত হবে।

হলটির কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, শুক্রবার থেকে রাজ্জাক-শাবানা অভিনীত ‘আগুন’ ছবিটি আমরা সিনেমা হলে চালাবো। রাজ্জাক সাহেব তো একজন কিংবদন্তি অভিনেতা। তার মৃত্যুর সংবাদ শোনার পরই আমরা সিনেমা হলের শো বন্ধ রাখি। এবার তার স্মরণে শ্রদ্ধাস্বরূপ মধুমিতা মুভিজের ‘আগুন’ ছবিটি শুক্রবার থেকে চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।

ছবির পরিচালক মহসিন, যিনি বাদী থেকে গোলাম ছবিটি পরিচালনা করেছেন। মধুমিতায় আগামী সপ্তাহজুড়ে ছবিটি চলবে দুপুর ১২টা, বেলা ৩টা, সন্ধ্যা ৬টা ও রাত ৯টার শোতে। নওশাদ বলেন, “রাজ্জাক আমার বাবার খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। সর্বশেষ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে দেখা হয়। সেন্সর বোর্ডে তাঁর সঙ্গে নিয়মিত আলাপ হতো।”

মধুমিতা মুভিজের ব্যানারে ‘অহংকার’, ‘আয়না’, ‘আগুন’, ‘দিন দুনিয়া’ ছবিতে অভিনয় করেন রাজ্জাক। ‘আগুন’ পরিচালনা করেন মোহসীন। সুপারহিট ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৬ সালে। এ ছবিটি টেলিভিশনে এখনো দেখানো হয়নি। সিডি আকারেও বাজারে নেই।

এদিকে জানা গেছে মধুমিতার মতো ঢাকাসহ সারা দেশের বেশ কিছু প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী শোয়েব রশীদ বলেন, “আমার মালিকানাধীন চন্দ্রিমা প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ রেখেছি। যারা অগ্রিম টিকিট কেটেছিল, টাকা ফেরত দিতে বলে দিয়েছি। শুনেছি, নারায়ণগঞ্জের আশা প্রেক্ষাগৃহটিও বন্ধ ছিল। আমার মনে হয়, এমন কিংবদন্তি একজন নায়কের মৃত্যুর পর প্রদর্শনী বন্ধ রেখে সম্মান দেখানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কেননা, এই যে আজকের চলচ্চিত্র শিল্প প্রতিষ্ঠায় রাজ্জাকের অবদান অনেক বেশি।”

গতকাল রাজধানীবাসীর আগ্রহ-আলোচনার বিষয় ছিল নায়করাজের প্রয়াণ। পাড়া-মহল্লায়, অলিগলিতে, দোকানে, সেলুনে, ফার্মেসিতে রাজ্জাক ছিলেন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। খবরের কাগজে আগ্রহ নিয়ে রাজ্জাকের চলে যাওয়ার সংবাদ পড়েছেন লোকজন। সেগুনবাগিচার শিল্পকলা একাডেমির বেশ কয়েকটি স্থানে বিশাল ব্যানারে দেখা গেছে সেই চিরচেনা হাসির রাজ্জাকের সাদা-কালো প্রতিকৃতি। ছবির সামনে নানান রকমের ফুল। শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের লবিতে সুবিশাল শোকবার্তা, পাশাপাশি দুটি ছবিতে তরুণ এবং সাম্প্রতিক রাজ্জাক। আরেকটি পর্দায় নানা সময়ে ধারণকৃত রাজ্জাকের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার। জাদুঘর দেখতে আসা দর্শনার্থীরা সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রাজ্জাক–নস্টালজিয়ায় ভোগেন।

গত সোমবার বিকেলে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান রাজ্জাক। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি অনেকদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজ্জাকের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয় এফডিসিতে। গুলশানের আজাদ মসজিদে বাদ আসর দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয় বনানী কবরস্থানে।

Comments

comments

Scroll To Top