‘পদ্মাবতী’ সিনেমার মুক্তি নিয়ে নতুন সংকটে বানসালি

সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত সিনেমা পদ্মাবতী। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে সিনেমাটির ফার্স্ট লুক ও পোস্টার। আগামী ১ ডিসেম্বর এটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তার আগেই নতুন করে ঝামেলার মুখে পড়েছেন নির্মাতা।

শনিবার জয়পুরের রাজমন্দির সিনেমা হলের সামনে একত্রিত হন রাজপুত সম্প্রদায়ের শ্রী রাজপুত করনি সেনা-সদস্যরা। তারা পোস্টার জ্বালিয়ে বানসালির বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকেন।

এ প্রসঙ্গে রাজপুত করনি সেনার জয়পুর জেলা সভাপতি নারাইন সিং দিব্রলা বলেন, ‘যখন শুটিং চলছিল বানসালি আমাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সিনেমা মুক্তির আগে আমাদের এবং ইতিহাসবিদদের এটি দেখাবেন। কিন্তু তারপর থেকে কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি এবং সিনেমাও দেখাননি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই মুক্তির আগে তিনি রাজপুত করনি সেনা, অন্যান্য সংস্থা ও ইতিহাসবিদদের সিনেমাটি দেখাবেন। এর আগে আমরা সিনেমাটি মুক্তি দিতে দেব না। যদি এ বিষয়ে কারো কোনো আপত্তি না থাকে তাহলেই কেবল আমরা সিনেমাটির মুক্তিতে বাধা দেব না। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, এতে ইতিহাস বিকৃত হয়েছে, এটি কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।’

এর আগে এ সিনেমায় ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে অভিযোগে গত জানুয়ারিতে শুটিং সেটে ভাঙচুর চালায় রাজপুত করনি সেনা। তাদের দাবি ছিল, সিনেমায় পদ্মাবতীর ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন সঞ্জয়। কারণ সিনেমায় পদ্মাবতীর সঙ্গে তৎকালীন শাসক আলাউদ্দিন খিলজির প্রেমের সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে পদ্মাবতী-খিলজির মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। আর এতেই আপত্তি তুলেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওই দল।

সে সময় ভেঙে ফেলা হয় শুটিংয়ের বেশ কিছু মূল্যবান সরঞ্জাম। এমনকি সিনেমার কলাকুশলীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির মাঝে বানশালিকে চড় মারেন এক ব্যক্তি। তারপর বন্ধ হয়ে যায় শুটিং।

এরপর গত মার্চেপদ্মাবতী’র শুটিং সেটে আগুন দেয় দুষ্কৃতিকারীরা। মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে ঘটনাটি ঘটে। ৪০-৫০ জনের একটি দল পেট্রোল বোমা, পাথর এবং লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। তখন সেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সঙ্গে মারামারি হয়। তারা আশপাশে থাকা গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সেটে আগুন দেয়। ওই সময় শুটিং সেটে কোনো কলাকুশলী ছিলেন না কিন্তু অনেক পশু ছিল। যেগুলো শুটিংয়ের প্রয়োজনে আনা হয়েছিল।

Comments

comments

Scroll To Top