পরীমনি একদিন ভারতবর্ষে নাম করবে: শফিক হাসান

দেশের সিনেমা হলে আসছে ৯ ডিসেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে শফিক হাসান পরিচালিত শাকিব-পরী জুটির দ্বিতীয় ছবি ‘ধূমকেতু’। মুক্তির আগেই ছবিটি নিয়ে জমে উঠেছে আলোচনা-সমালোচনা। নকল পোস্টার, ছবির ট্রেলার, গান আর বিতর্কিত অভিনেত্রী নাজনিন আক্তার হ্যাপীর একটি আইটেম গান নিয়ে যখন আলোচনা বেশ রমরমা, ঠিক সেসময় ছবির আরেক নায়িকা তানহা তাসনিয়া নির্মাতার বিরুদ্ধে আনলেন প্রতারণার অভিযোগ। আর এইসব বিতর্কিত বিষয়ের একেবারে খোলামেলাভাবেই সমাধান দিলেন নির্মাতা শফিক হাসান। কথায় কথায় তিনি যেমন জানালেন শাকিব খানের সাথে প্রথমবার কাজের অভিজ্ঞতা, তেমনি পরিমনী ও তানহা তাসনিয়ার কাজেরও করেন ব্যাপক প্রশংসা। সোনালী নিউজ ডটকমের সৌজন্যে ফিল্মীমাইক পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

porimoni

ধূমকেতু এখন পর্যন্ত কতো সিনেমা হলে চূড়ান্ত হলো? 

এখনো ঠিক হয়নি। এখনও আমি অফিসেই আছি। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সিনেমা হল মালিকরা এসেছেন ছবিটি নিতে। তাদের অনেকের সাথে বনিবনা হচ্ছে না। তারা ছবির রেট কমানোর জন্য বসে আছে। কিন্তু আমি বলে দিয়েছি, এই সিনেমায় কোনো রেট কমানো হবে না। কমাবোই না। এখন পর্যন্ত একশো সিনেমা হলের উপরে ‘ধূমকেতু’ ফাইনাল হয়েছে। প্রয়োজনে একশো হলেই চলবে, কিন্তু রেট কমানো না। এই মুহূর্তে প্রচুর মানুষ ভিড় করে আছে ছবিটি নেয়ার জন্য। কিন্তু সবাইকে এক কথা বলে দিয়েছি। কিন্তু সবাই বসে আছে। আসলে ছবিটি নিয়মিত যেকোনো সিনেমার চেয়ে রেট বেশি!

সিনেমা হল মালিক কেন বেশি রেট দিয়ে ছবিটা তাদের সিনেমা হলে নিবে?

শাকিবের জন্য। পরীর জন্য। শাকিব-পরী জুটির জন্য। শাকিবকে আমরা পঁচিশ লাখ দিয়ে এই ছবিতে নিয়েছি। এতো দামি দামি কাস্টিং আর এতো বাজেটের সিনেমা করছি কি কম রেটে ছবি দেয়ার জন্য!

যাইহোক, প্রচারণার ক্ষেত্রে ছবিটিকে বলা হচ্ছে ধূমকেতু একটি ত্রিভূজ প্রেমের কাহিনী। কিন্তু পোস্টার বা ট্রেলারে তেমনতো কিছু দেখা গেলো না?

আমরা কখনো বলিনি। এখন কেউ যদি বলে আমাকে একটু প্রচারনায় রাখেন, হাইলাইট করেন। তাহলে আমাদের কি করার আছে। আমি আপনাকে বলছি, এটা ত্রিভূজ প্রেম যে অর্থে বলে এটা তা না।

শাকিব-পরী ছাড়াও ছবির আরেক নায়িকা তানহা তাসনিয়া…

ছবির আরেক নায়িকা তানহা তাসনিয়ার অভিযোগটি নিশ্চয় শুনেছেন? তিনিতো এটিকে ত্রিভূজ প্রেমের গল্পই বলছেন। তো তাকে পোস্টারে বা ট্রেলারে রাখলেন না কেনো? তার সাথে ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা হয়েছে? 

তার অভিযোগব্যক্তিগত প্রচারণা হিসেবেই দেখছি। কিন্তু আমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তিগত প্রবলেম নাই। বরং আমাদের জন্য ভালো হচ্ছে। নেগেটিভ-পজিটিভ প্রচারণা মিলেই আসলে প্রসারের জায়গাটা তৈরি হয়। ফলে তার কোনো অভিযোগে এই মুহূর্তে মাথা ঘামাচ্ছি না। বরং এটাকে আমাদের ছবির পাবলিসিটি হিসেবেই দেখছি। তানহাও নিশ্চয় এরকমটায় ভাবছে।

তাহলে নায়িকা তানহার বিষয়টা মাথায়ই নিচ্ছেন না?

তানহার সাথে গতকালকেও কথা হইছে। সেতো আমাকে কোনো অভিযোগ করে নাই। যে বিষয়টা নিয়ে এতো আলোচনা, বরং সে বিষয়েতো তানহা আমাকে অ্যাপ্রিসিয়েট করছে।

কোন বিষয়টা? 

গল্প পরিবর্তনের বিষয়। সিনেমা হয়ে যাওয়ার পরেতো আমার সবাই মিলে ছবির গল্পটা দেখলাম। পরে ভাবলাম একটা পরিবর্তন হওয়া দরকার গল্পে। প্রডিউসারসহ আরো অনেকেই ছিল। সবাই মিলেই ছবির গল্পে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তানহাও জানতো। তানহার বেশকিছু শট কেটে ফেলেছি। শাকিব খানেরও একই অবস্থা। দৃশ্য কেটে ফেলার সময় তানহা আমাকে বলেছিল তার স্বার্থের চেয়ে ছবির স্বার্থটা বড়ো। ক্রাইসিস মুহূর্তে তানহা বড় মনের পরিচয় দিয়েছে। এরজন্যে আমি কৃতজ্ঞ। তানহার মতো সেসময় শাকিবও বলেছে, ছবি ভালো করতে আমার সিন লট বাই লট ফেলে দিলেও সমস্যা নাই। আসলে এইটা যেমন আমার সিনেমা তেমনি তানহা, শাকিব-পরীরও সিনেমা। আর আমরা সিনেমাটা শেষ পর্যন্ত নিজেদের জন্য না, দর্শকের জন্যই করি। তাদের পছন্দই আমাদের পছন্দ। আমি বিশ্বাস করি, তানহার মতো বিশাল হৃদয়ের মেয়ে এই ছবির ব্যর্থতা চাইবে না। কারন শেষ পর্যন্ত এইটা তারই সিনেমা।

নাটক-সিনেমা একটি ডিরেক্টোরিয়াল মিডিয়া। এখানে নির্মাতাই শেষ কথা। এটাতো বিশ্বাস করেন? নাকি কাজ করতে যেয়ে বিশেষ কোনো আর্টিস্ট দ্বারা প্রভাবিত হন?   

আমাদের এখানে শিল্পী, টেকনিশিয়ান থেকে প্রাধান্য দেই অডিয়েন্সকে। তারা হলে এসে একটা ভালো কিছু দেখতে চায়। আমরা ভালো কিছু করতে চাই। পরিচালনায় এসে আমাকে কারো দ্বারা প্রভাবিত হতে হয়নি। আমি নিজের থেকেও আমার সিনেমাটা মনে করি দর্শকের। আমি শুধু চেয়েছি সিনেমাটা যেনো দর্শকের পছন্দের হয়।

‘ধূমকেতু’ ছবির একটি দৃশ্যে শাকিব-পরী…

শাকিব খান দেশের সেরা নায়ক। ফলে নতুন যারা নির্মাণে আসেন তাদের কথা নাকি তিনি কম শুনেন। তো এরকম অভিজ্ঞতা কি হয়েছে তার সাথে আপনার? 

শাকিব আমাকে কোনো কিছুতেই বাইন্ডিংস দেয় নাই। নাকও গলায় নাই। তার নামে এগুলো বাজে প্রচারণা। অনেকেই আমাকে বলেছে শুটিংয়ে ভেজাল করে, প্যাকআপ করে চলে যায়। কিন্তু আমার এখানে আমার সাথে এমন জিনিষ হয়নি। আমারজন্য সে যথেষ্ট হেল্পফুল ছিল। শুটিংয়ে কোনো প্রবলেম হলে দীর্ঘসময় ফোনে কথা বলে তা ঠিক করে নিতাম। অনেকের অভিযোগ শাকিব কারো ফোন ধরেন না, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এমন হয়নি। ফোন না ধরতে পারলে পরে রাতে ফোন দিতো।

কয়দিন আগে বলেছিলেন, হ্যাপীর আইটেম গানটি ‘ধূমকেতু’র জন্য চমক, তাই ইউটিউবে মুক্তি দিবেন না। কিন্তু ছবি মুক্তির আগেইতো গানটি দিয়ে দিলেন। কেন, কোনো কৌশল?

না। কৌশল না। আইটেম গানটা আগেই বিক্রি করা হয়ে গেছিলো। আমি জানতাম না যে এগুলোলি প্রডিউসার বিক্রি করে দিয়েছেন। গত কুরবানি ঈদে তিনি ইউটিউবে একটি চ্যানেলের কাছে বিক্রি করেছিলেন।  আমি বিষয়টা পরে জানছি। যেহেতু আগেই বিক্রি হয়ে গেছে তাই এখনতো আমার করার কিছু নাই।

ধূমকেতু’র ট্রেলার, গানের ব্যাপারে রেসপন্স কেমন পাচ্ছেন…

এখন পর্যন্ত কোনো নেগেটিভ কিছু পাই নাই। চুপিচুপি মন গানটা বেশ হিট। মানুষ এইটা পছন্দ করেছে। তর্ক বিতর্কতো থাকবেই। কেউ পরীকে পছন্দ করে না, কেউ হয়তো শাকিবকে পছন্দ করে না কিন্তু এই সংখ্যা খুব নগন্য। এভারেজ হিসেবে করলে ৯৫ পারসেন্ট লোক পজেটিভ আর ৫ পারসেন্ট নেগেটিভ। এখন ৫ পার্সেন্ট লোকের কথা ধরলেতো হয় না।

হ্যাপীতো এখন ধর্মে কর্মে নিয়োজিত। কিন্তু এরমধ্যে আপনি তার আইটেম গান ইউটিউবে ছাড়লেন। গানটি মুক্তির পর হ্যাপী কি আপনার সাথে যোগাযোগ করেছে?

পরিবর্তনর মানুষের জীবনে আসবে এটা স্বাভাবিক। যেসময় আমরা তাকে দিয়ে আইটেম গানটি করিয়ে ছিলাম সেসময় সে তুমুল হিট ছিল। অন্তত মানুষের মুখে মুখে, ফেসবুকে সে হিট ছিল। কিন্তু পরবর্তিতে তার মধ্যে যে পরিবর্তন দেখি তা আইটেম গানের সাথে যায় না। প্রচুর টাকা পয়সার ক্ষতি না হলে আমরা হ্যাপীর গানটা রিলিজ করতাম না।

গান রিলিজ হওয়ার পর সেকি আপনার সাথে যোগাযোগ করেছে। কোনো রিকুয়েস্ট?

না। কিছু বলে নাই। বিয়ের পর থেকেতো তার সাথে যোগযোই নাই।

বা তার সাথে কি আপনার কোনো যোগাযোগ আছে। কোথায় যেনো আপনি বলেছেন, হ্যাপী আবার চলচ্চিত্রে ফিরতে চান…?

ওই বিয়ের আগে যখন যোগাযোগ ছিল, তখন এরকম কথা হতো। সে আমাকে বলেছে, যদি ভালো কোনো সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পায় তাহলে সে আবারও চলচ্চিত্র জগতে ফিরতে পারে। কিন্তু এরমাঝেতো বিয়েই হয়ে গেল!

porimoni

ছবির প্রধান নায়িকা পরিমনী। এই ছবির মধ্য দিয়ে তিনি শাকিব খানের সাথে দ্বিতীয়বার পর্দায় আসছে। তার ব্যাপারে বলেন…

পরীর অভিনয়ের তুলনা নাই।  শ্যুটিংয়ের সময় শিডিউল নিয়ে আমাদের একটু ঝামেলা হতো। শাকিব খানের শিডিউল মিললেই আমরা গ্যাপে গ্যাপে শ্যুট করে ফেলতাম। আর শিডিউলের ব্যাপারে সে মারাত্মক হেল্পফুল ছিল আমার জন্য। আমাকে বলতো, শফিক ভাই শুধু একদিন আগে আমাকে জানায়েন। আমি সব রেখে আপনার সেটে চলে আসবো। আমিতো মনে করি, একটা সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে শাবানা যেমন ছিলেন যে অর্থের জন্য কোনো সিনেমার শ্যুট আটকে যাচ তখনই তা সাথে সাথে সমাধান করে শ্যুটিংয়ে ফিরতেন।

তাহলে পরীমনি কি আপনাদের আর্থিকভাবেও সহায়তা করেছে?

বলতে দ্বিধা নাই। পরীও আমাদের আর্থিকভাবেও সহায়তা করছে। ধরেন কোথাও আমাদের বাজেট ছিল বিশ লাখ টাকা। কিন্তু কোনো কারনে সেটা বাজেট ফেল করে পঁচিশ লাখ টাকায় চলে গেছে। এসময় আমরা টাকা পয়সা কই পাই। আর এমন সময়ই আর্থিকভাবে এগিয়ে আসতো পরী। সে আমার সিনেমায় টাকা পয়সা দিয়ে ব্যাপক হেল্প করেছে। ভালো কাজে পাশে থাকার ব্যাপারগুলা তারমধ্যে প্রবল। সে আমাদের টেনশন মুক্ত রাখছে সবসময়। পরে প্রডিউসার টাকা দিয়ে দিয়েছে, কিন্তু প্রয়োজনের সময়তো সে পাশে থাকতো।

বর্তমানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরী। তার সাথে কাজের অভিজ্ঞতা হলো আপনার। কাজের ক্ষেত্রে আসলে নায়িকা পরীমনিকে কেমন দেখলেন? 

সে পরিশ্রমি। কাজের একটা মেয়ে। এই মেয়েকে যদি চলচ্চিত্রে ভালোভাবে ইউজ করতে পারা যায়, তাহলে বাংলাতো বটেই পুরো ভারত বর্ষে একদিন নাম করবে। এতো ব্রড মাইন্ডের মানুষ আসলে আমি কমই দেখেছি। এতো হেল্পফুল সে! তবুও সে ভালোবাসার কাঙাল। ওরসাথে একটু ভালো আচরণ করলেই সে যেকোনো বিষয়ে সে পাশে এসে দাঁড়াবে। আপনাকে যতোভাবে পারুক হেল্প করার সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করবে। ব্যক্তিগতভাবে দোয়া করি, এই মেয়েটা ভবিষ্যতে খুব ভালো করক।

তো এখন আপনার এই সিনেমা দেখার দাওয়াত করেন আমাকে?

হ্যাঁ। অবশ্যই। কি বলেন। আপনারা দেখবেনতো কে দেখবে! আমিতো সবার আগে সাংবাদিক ভাইদেরই আমার সিনেমা দেখার দাওয়াত করতে চাই। আপনারা সবাই আসুন।

Comments

comments

Leave a Reply

Scroll To Top