‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী-২’র হাঁড়ির খবর

‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী-২’র হাঁড়ির খবর

ঢাকাই চলচ্চিত্রে মন্দা আবহ এখনো বইছে। প্রেক্ষাগৃহবিমুখ দর্শককে এখনো ঠিক ততটা হলমুখী করা সম্ভব হয়নি। তবু বছরের পর বছর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসান গুনে যাচ্ছে।

সম্প্রতি একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার অভিযোগ করেছেন, ‘গত বছর ৫টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে নিট ৩ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে তাদের।’ তারপরও ঢাকাই চলচ্চিত্রে নির্মিত হচ্ছে নতুন নতুন চলচ্চিত্র। প্রতি সপ্তাহে মুক্তি পাচ্ছে এক বা একাধিক চলচ্চিত্র।

৮ এপ্রিল সারা দেশে মুক্তি পেতে যাচ্ছে শাকিব-জয়া অভিনীত চলচ্চিত্র পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী-২। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সাফি উদ্দিন সাফি। এদিন মুক্তি পাচ্ছে আরো একটি চলচ্চিত্র। মন্দার বাজারে একই দিনে দুই চলচ্চিত্র মুক্তিকে ব্যবসায়িকভাবে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মনে করছেন চলচ্চিত্র বোদ্ধারা।

পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী-২ চলচ্চিত্রের মুক্তিকে সামনে রেখে রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা হয় এই চলচ্চিত্রের পরিচালক সাফি উদ্দিন সাফি, কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা রুম্মান রশীদ খান ও চিত্রনায়িকা জয়া আহসানের সঙ্গে। তারা জানিয়েছেন, হলবিমুখ দর্শক কেন এই চলচ্চিত্রটি দেখবেন। এ নিয়েই সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।

সাফি উদ্দিন সাফি : আসলে একজন দর্শক সব সময়ই নতুন কিছু চায়। একজন পরিচালক হিসেবে এই চিন্তাটা মাথায় রেখেই কাজটি শুরু করেছিলাম। এই চলচ্চিত্রের গল্পটি সম্পূর্ণ নতুন। গল্পে ক্রিকেটের আবহ রয়েছে। আমাদের চলচ্চিত্রে এবারই প্রথম ক্রিকেট বিষয়টি উঠে এসেছে। নতুনের প্রতি মানুষের আগ্রহটা সব সময়ই বেশি। আর এই চলচ্চিত্রের সংলাপগুলো চমৎকার। তার নমুনা কিছুটা হলেও ট্রেইলারে রয়েছে। এ ছাড়া চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত গানগুলোও খুবই শ্রুতিমধুর। ভারতের রামুজি ফিল্ম সিটির মতো চমৎকার লোকেশনে এসব গানের চিত্রায়ণের কাজ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন,  ‘এ ছাড়া এতে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর, সাংবাদিক জ ই মামুন ও জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন রয়েছেন। সিনেমার গল্প, চরিত্র অনুযায়ী আমি মেকিংয়ের কাজটিও শেষ করেছি। সব মিলিয়ে সিনেমার প্রতিটি জায়গায় আমি নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাই আশা করছি, নতুনকে দর্শক গ্রহণ করবেন।’

জয়া আহসান : পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী-২ চলচ্চিত্রে আমার চরিত্রের নাম মিতু। আমি পেশায় মডেল। কঠোর পরিশ্রমী। সুন্দর একটি পারিবারিক জীবন আছে।  আর সিনেমার গল্পটা এক অর্থে প্রেমের। আমাদের দেশের সিনেমায় দর্শক এমন প্রেমের গল্প আগে কখনো দেখেননি। আর গল্পটি মৌলিক। রুম্মান রশীদ খানের লেখা এই গল্পে বেশ নতুনত্ব আছে। দুই গ্ল্যামার পেশার দুজনের সম্পর্ক নিয়ে এমন প্রেমের গল্প তো দেখাই যায় না। আর সে জায়গা থেকে দর্শক তো দিনের শেষে ভালো কিংবা মৌলিক গল্পে নির্মিত সিনেমা খোঁজেন। আমার বিশ্বাস, দর্শক বিনোদন কিংবা মৌলিক গল্পের জায়গা থেকে চলচ্চিত্রটি দেখে আনন্দ পাবেন।

তা ছাড়া, এতে সহশিল্পী হিসেবে ইমনের সঙ্গে আমি প্রথম কাজ করেছি। সাচ্চু ভাই (শহিদুল আলম সাচ্চু) আছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। মৌসুমী হামিদ রয়েছে। আর শাকিব তো আছেই। শাকিবের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। চলচ্চিত্রটির ডাবিং করতে গিয়ে দেখেছি- ওরা দারুণ অভিনয় করেছে। আমার বিশ্বাস, বেশ ভালো কিছু একটা হবে। দর্শকদের প্রত্যাশার জায়গাটায় দারুণ প্রতিফলন ঘটবে।

আর পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী চলচ্চিত্রের গানগুলো খুবই হাইলাইটেড ছিল। আমার বিশ্বাস, এবার এ চলচ্চিত্রের গানগুলো আরো বেশি ভালো লাগবে। যারা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে ভালো করেছেন। আর আগের চলচ্চিত্রটি তো পুরোপুরি পারিবারিক গল্পের ছিল। আর পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী-২ নিরেট প্রেমকাহিনি নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের গল্প। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয় দারুণ কিছু একটা হয়েছে। যা দর্শকদের হলে টানবে।

রুম্মান রশীদ খান : পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী-২ চলচ্চিত্রের কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করেছি। এর আগে আমি ৮০টির মতো নাটক লিখেছি। এটি আমার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। ২০১৩ সালে এই সিরিজের প্রথম পার্ট মুক্তি পায়। তার তিন বছর পর মুক্তি পাচ্ছে এই চলচ্চিত্রটি। তবে কাজগুলো আমি বাছবিচার করেই করে থাকি। চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট লেখার আগে যে বিষয়টি মাথায় রাখি তা হলো- আমি চলচ্চিত্রটি দেখে কেমন মজা পাব। বর্তমানে একজন দর্শককে যদি চলচ্চিত্রের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, তবে তারা উত্তর দেন-আমরা নকল কিছু দেখতে চাই না। কারণ যে গল্প আগে থেকেই জানি তা দেখে লাভটা কোথায়! বর্তমান সময়ের ৯০ শতাংশ চলচ্চিত্রের গল্প যেখানে নকল, সেখানে সম্পূর্ণ একটি মৌলিক গল্প নিয়ে এগিয়ে গেছে এই চলচ্চিত্রের কাহিনি। যেহেতু আমরা সিরিজ করছি, তাই এতে আলাদা একটি প্রেমের গল্প দাঁড় করিয়েছি। এতে আগের গল্পের চরিত্রগুলো থাকছে না। তবে আগের গল্পের বিভিন্ন চরিত্র যারা প্লে করেছেন, তারা এই সিরিজে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র রূপায়ণ করেছেন।

তা ছাড়া, গল্পটা ক্রিকেট আবহে এগিয়ে গেছে। এবারই প্রথম আমাদের চলচ্চিত্রে ক্রিকেট উঠে এসেছে। যেমন- যোধা আকবরচলচ্চিত্রকে আমরা যুদ্ধের চলচ্চিত্র বলতে পারি না। সেরকমভাবে এতেও ক্রিকেটের আবহে গল্পটা বলতে চেয়েছি। দর্শক সব সময় নতুন কিছু দেখতে চায়। দর্শক এতে নতুন কিছু পাবেন, যা এর আগে তারা পাননি।

দর্শক, হলমালিক, ডিস্ট্রিবিউটরদের আগ্রহ থেকে পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী-১ থেকে টুতে হাত দিই। এদিকে বাংলাদেশে সিরিজ সিনেমার খুব একটা নজির ছিল না। আমরা এটা ঘোষণা দেওয়ার পরই অগ্নি-২, মোস্ট ওয়েলকাম-২-এর ঘোষণা আসে। সে যাহোক, পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী একটি সিরিজ। সিরিজের জন্য কিছু বেসিক বিষয় লাগে। যা মানুষ দেখেই বুঝতে পারে এই চলচ্চিত্রটি ওইটার একটা পার্ট। আগের পার্টে ববিতা ও সোহেল রানা যেমন গল্প বলেন। এই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যেও একইভাবে গল্প বলেন, আসিফ আকবর, হাবিবুল বাশার সুমন, জ ই মামুন। আগের পার্টে যেভাবে গল্প বলেছিলেন, এই পার্টে ঠিক সেইভাবে গল্প বলেননি। এতে একটি টক শোর মাধ্যমে তারা বাস্তব ঘটনাকে বিভিন্নভাবে বলেন, বিশ্লেষণ করেন। পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী-২ দেখলে বোঝা যাবে প্রেমকাহিনী সিরিজের ধরন ঠিক রেখে দর্শককে নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এ ছাড়া এর সংলাপ শুনলেই দর্শক বুঝতে পারবেন এতে নতুন কিছু রয়েছে। আর দশটা বাংলা সিনেমার সংলাপ যেমন হয় অন্তত তার চেয়ে আলাদা।

আমার কাছে অনেক চলচ্চিত্র লেখার অফার আসে। কিন্তু আমি লিখি না। কারণ দর্শকের জন্যই আমার চলচ্চিত্র লেখা। অথচ সেই সিনেমা যদি মাত্র কয়েকটা প্রেক্ষাগৃহে চলে! আমি এমন কোনো চলচ্চিত্রের গল্প লিখতে চাই না, যা দেখার জন্য দর্শক হলে আসতে চায় না। আমার বিশ্বাস, যারা সিনেমা হলে আসেন না, তারাও হলে এসে এই সিনেমাটি দেখবেন।

কীভাবে চিত্রনাট্য রচিত হলো, ওই গানে শাকিব খান এমন করল? এসব কথা অন্যের মুখে না শুনে একবার হলে এসে সিনেমাটি দেখুন। দেখে যদি খারাপ লাগে অবশ্যই  ভালো-মন্দ মন্তব্য করবেন। কিন্তু হলে এসে সিনেমাটি দেখে মন্তব্য করুন। কারণ বাংলা সিনেমাকে বাঁচিয়ে রাখতে সবার পৃষ্ঠপোষকতা করা উচিত। পয়লা বৈশাখ বাঙালির অনেক বড় একটি উৎসব। এই উৎসবকে পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী-২ এর সঙ্গে উদযাপন করার অনুরোধ রইল।

Comments

comments

Leave a Reply

Scroll To Top