প্রতিযোগিতা ছাড়া তো জীবনের কোনও অর্থই নেইঃ জিত

আজ শুক্রবার, মুক্তি পাচ্ছে ‘বস্‌ টু’। ২০১৩’এ মু্ক্তি পাওয়া ‘বস্‌’এর সিক্যুয়েল। আগের ছবির গল্প যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই লেখা হয়েছে এই ছবির চিত্রনাট্য। এমনটাই দাবি জিতের। ছবির নায়ক তো বটেই, তিনি এই ছবির গল্পকারও। ছবি-মুক্তির আগে ‘ওবেলা’র সঙ্গে আড্ডায় মজলেন নায়ক। ‘ওবেলা’র সৌজন্যে সাক্ষাৎকারটি ফিল্মীমাইক পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

এই ঈদে ‘বস্‌ টু’ ছাড়াও আরও দু’টো বিগ বাজেট ছবি মুক্তি পাচ্ছে। সলমন খানের ‘টিউবলাইট’ এবং দেবের ‘চ্যাম্প’। ব্যবসা ভাগ হয়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন?

উই লিভ ইন আ কম্পিটিটিভ ওয়ার্ল্ড। প্রতিযোগিতা ছাড়া তো জীবনের কোনও অর্থই নেই! আর এই রকম প্রতিযোগিতা আমার কাছে নতুন কোনও ব্যাপার নয়। গত বছর ঈদেও দু’টো বাংলা এবং একটা হিন্দি ছবি রিলিজ করেছিল।

সাংবাদিক মহলে আপনার সম্পর্কে একটা অভিযোগ রয়েছে। আপনি ছবি মুক্তির আগে ইন্টারভিউ দেওয়া ছাড়া সারা বছর সংবাদমাধ্যমের কাছে ‘অ্যাভেলেব্‌ল’ থাকেন না।

কী বলি বলুন তো! অনেকেই আমাকে এই কথাটা বলেছেন। (লাজুক মুখে) ঠিক আছে, এবার থেকে সংবাদমাধ্যমের কেউ ফোন করলে আমি রিসিভ করব। আসলে আমি এই রকমই! কাজের মধ্যে থাকি, কিছুটা সময় পেলে পরিবারকে সময় দিই। এই লাইফস্টাইলেই কমফর্টেব্‌ল ফিল করি।

আপনি কি মেথড অ্যাক্টিংয়ে বিশ্বাসী?

হঠাৎ এমন প্রশ্ন করছেন কেন বলুন তো?

ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই বলেন, ছবির কাজ চলার সময় আপনার ব্যবহার নাকি অনেকটাই বদলে যায়। 

(হেসে) কে বলেছে বলুন তো এটা? আমার স্ত্রীও মাঝে মধ্যে বলে! ভগবান জানে, এর উত্তর আমার কাছে নেই। আমার তো মনে হয় শ্যুটিংয়ে ড্রেস, মেকআপ করার পরেই আমি চরিত্রটাকে ফিল করি। আপনি যেটা বললেন সেটা হয়তো অবচেতনেই হয়ে যায়। আসলে ছবির শ্যুটিং চলাকালীন চরিত্র নিয়ে বিভিন্ন ভাবনাচিন্তা মনের মধ্যে চলতেই থাকে। বডি ল্যাঙ্গোয়েজ, ম্যানারিজম— এইসব! সেই কারণেই হয়তো ওই ব্যাপারটা চলে আসে।

‘বস্‌ টু’র গল্পটা তো আপনার…।

হ্যাঁ। প্রথমবার এমনভাবে কাজ করলাম। গল্প থেকে ফিল্ম রিলিজ— পুরোটাই আমাদের প্রোডাকশন হাউস থেকে হয়েছে। একটা সময় এই অফিসে বসেই সব পরিকল্পনা করেছিলাম। সেই ছবি এখন মুক্তি পাচ্ছে। ভাবলেই ভাল লাগছে। আসলে ‘বস্‌’ রিলিজের পরেই আমরা ভেবেছিলাম সিক্যুয়েল বানাব। বিষয়টা নিয়ে প্রাথমিকভাবে নিজেদের মধ্যে কথাও বলে রেখেছিলাম। সিক্যুয়েলের বিষয়টা আমরা ‘বস্‌’এর সাকসেস পার্টিতে ঘোষণাও করেছিলাম। গল্প নিয়ে স্ক্রিপ্ট রাইটারদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছি। কিন্তু পুরো বিষয়টা শেপ নিচ্ছিল না কিছুতেই। অন্যদিকে ‘বস্‌ টু’র ব্যাপারে মানুষের প্রত্যাশা বাড়ছিল। বেশি দেরি হয়ে গেলে সিক্যুয়েলের আমেজটাও চলে যেত। তারপর আমাদের রাইটিং টিমের সঙ্গে বসে পুরো গল্পটাকে ডেভেলপ করি। ‘বস্‌’ যেখানে শেষ হয়েছে, ‘বস্‌ টু’র শুরুটা হবে ঠিক সেখান থেকেই।

‘গ্রাসরুট…’ তো ছিলই। আবার নতুন প্রযোজনা সংস্থা (জিৎ’স ফিল্মওয়ার্কস) খোলার কারণ কী?

এমন কিছু শুরু করতে চেয়েছিলাম, যেটার সঙ্গে আমার সরাসরি কানেকশন থাকবে। দর্শকের কাছে জিতের পরিচিতি রয়েছে। তাই সেই নামে যদি প্রযোজনা সংস্থা খোলা হয়, তাহলে দর্শক আরও ভালভাবে কানেক্ট করতে পারবেন।

‘আল্লাহ মেহেরবান’ গানটা নিয়ে কিছুদিন আগে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ছবির নায়িকা নুসরাত ফারিয়ার নামে বাংলাদেশে এফআইআর’ও দায়ের করা হয়েছিল…।

ওটা তো এখন ‘ইয়ারা মেহেরবান’ হয়ে গিয়েছে। তাই এই নিয়ে কথা বাড়ানোর মানে হয় না। তবে একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই। ছবির সঙ্গে যুক্ত আমরা কেউই কোনও ধর্মাবলম্বীকে টার্গেট করতে চাইনি। যখন দেখলাম আমাদের কাজ কিছু মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে, বুঝলাম যে উই শ্যুড চেঞ্জ দ্য লিরিক। এটুকুই বলতে পারি, যাঁরা এত কথা বলছিলেন, ছবিটা দেখলে তাঁদের কাছে পুরো বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

একটা ভাবনা থেকে গানের কথায় ‘আল্লাহ’ শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছিল। পরিস্থিতির চাপে ‘আল্লাহ’ থেকে ‘ইয়ারা’ করা হল। শিল্পী হিসেবে বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন?

পুরোটাই দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য। কোনও বিষয়কে কে কোন চোখে দেখছেন, সেটা তো তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কেউ যদি ইয়ারার মধ্যেও আল্লাহকে দেখতে চান, তাহলে আমরা তো তাঁকে থামাতে পারব না! দেখুন, আমরা কাজ করি মানুষের ভালবাসা পাওয়ার জন্য। তাই ভেবে দেখলাম, গানের একটা শব্দ যখন মানুষকে আঘাত করছে, ওটা বদলে ফেলাই ভাল। তবে হ্যাঁ, এর ফলে টেকনিক্যালি একটু খামতি হয়তো থেকে যাবে। কিন্তু আমাদের কাজ কাউকে আঘাত করবে না।

সূর্য (‘বস্‌’এ জিতের চরিত্র) ভারতে মাফিয়ারাজ আইনসম্মত করে তুলতে চেয়েছিল। এমন কোনও বিষয় কি রয়েছে, সুযোগ পেলে যেটাকে জিৎ আইনসম্মত করে তুলতে চাইবেন?

আমি চাইব ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ছবির বাজারটা খুলে দেওয়া হোক। এই বিষয়ে যদি কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে খুব খুশি হব।

ইন্ডাস্ট্রিতে একটা কথা প্রচলিত রয়েছে জানেন?

কী?

বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বস্‌ যদি কেউ হন, সেটা আপনিই।

তাই নাকি?

ব্যক্তিগত জীবনে আপনার বস্‌ কে?

বিবাহিত মানুষদের এই প্রশ্ন করাটা অর্থহীন (জোরে হেসে)। তবে পেশাগত ক্ষেত্রে কাজের মাধ্যমে অনেক বেশি মানুষের সঙ্গে কানেক্ট করতে চাই। সকলে যেন আমার কাজ দেখতে পান, সেটা নিশ্চিত করতে চাই। তাই সেদিক থেকে দেখলে দর্শকই আমার বস্‌।

টলিপাড়ায় একটা কথা প্রায়ই শোনা যাচ্ছে, যৌথ প্রযোজনায় আখেরে লাভের কড়িটা নাকি বাংলাদেশেই চলে যাচ্ছে। টলিউডের সেভাবে কিছুই লাভ হচ্ছে না।

বাংলাদেশেও এটা নিয়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে। যৌথ প্রযোজনার ফলে দু’দেশের বাঙালি দর্শক আমাদের কাজ দেখতে পাচ্ছেন। ‘বস্‌ টু’এর কথাই বলি। ছবিটা বাংলাদেশে ১০০টা এবং এখানে প্রায় ১৬০টার কাছাকাছি হল’এ মুক্তি পাবে। আমাদের কাজ কীভাবে আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে পারি, সেটাই প্রয়োরিটি। আর লাভ-লোকসান তো ব্যবসায় হতেই থাকে, অ্যান্ড দ্যাট রিয়েলি ডাজ ন্‌ট ম্যাটার। আমাদের এগিয়ে চলতে হবে।

আপনার সহকর্মীদের অনেকেই কিন্তু আপনার ইয়ং লুক’এর ব্যাপারে জেলাস।

সত্যি? দ্যাট’স আ কমপ্লিমেন্ট ফর মি! এই জেলাসিটা আমাকে অর্জন করতে হয়েছে (হাসি)।

আপনি নাকি সন্দেশ-মিষ্টি ছুঁয়েও দেখেন না?

(থামিয়ে দিয়ে) সব খাই আমি। তবে যখন কোনও টার্গেট থাকে, তখন কিছুই খাই না। কড়া ডায়েট মেনে চলি।

জিএসটি সম্পর্কে আপনার কী মতামত?

এর ফলে নিঃসন্দেহে প্রযোজকদের আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। জিএসটি’র জন্য ইন্ডাস্ট্রি তো আর থেমে যেতে পারে না। সরকার যদি কোনও সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা তো আমাদের মেনে নিতেই হবে। এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলতে চাই। আমি তখন সবে ব্যবসা শুরু করেছি। তখন প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম আট টাকার মতো। আমার যিনি বিজনেস পার্টনার ছিলেন, তিনি একদিন বলেছিলেন, ‘দেখো ভাই, আমি যখন গাড়ি কিনেছিলাম, তখন পেট্রলের দাম ছিল এক টাকা। আর এখন আট টাকা লিটার। রাস্তায় গাড়ি চলছে। দেখো, যেদিন পেট্রলের দাম ১০০ টাকা হবে, সেদিনও রাস্তায় গাড়ি চলবে’। এক্ষেত্রেও বিষয়টা তাই।

শোনা যাচ্ছে, ‘বস্‌ টু’ যাতে ভাল ব্যবসা করতে না পারে, সেই ব্যাপারে একটি নামী প্রযোজনা সংস্থা নাকি চেষ্টা চালাচ্ছে।

(হতাশ গলায়) একটু আগেই বললাম না, এটা কম্পিটিটিভ ওয়ার্ল্ড। এখানে কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও জায়গা ছেড়ে দেয় না। পায়ের তলার মাটি নিজেকেই শক্ত করতে হয়। নিজের স্বপ্ন নিজেকেই পূরণ করতে হয়।

Comments

comments

Scroll To Top