ফিরে দেখা ২০১৬ঃ শাকিবই এখনো সেরা, কিন্তু এর পর কে?

shakib

ঢাকাই চলচ্চিত্রে নয় বছর ধরে শীর্ষে রয়েছেন শাকিব খান। ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা, ব্যবসা ও আলোচনা মিলিয়ে ‘কিং খান’ নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। ২০১২ সাল থেকে বাপ্পী দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখলেও এ বছর সেটি কার দখলে হিসেব-নিকেশ করে বলাও মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।

চলতি বছরে শাকিব খান অভিনীত ৮টি ছবি মুক্তি পেয়েছে— রাজা ৪২০, পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২, শিকারি, সম্রাট, রানা পাগলা- দ্য মেন্টাল, শুটার, বসগিরি ও ধূমকেতু।

৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়া উত্তম আকাশ পরিচালিত ‘রাজা ৪২০’ থেকে প্রযোজক পুঁজি তুলতে পারেননি। তবে নির্মাণ নিয়ে সমালোচনা থাকলেও দর্শক টেনেছে এপ্রিলে মুক্তি পাওয়া ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২’। ক্রিকেট নিয়ে গল্পের ছবিটি হিট তকমা পেয়েছে। বিপরীতে ছিলেন জয়া আহসান।

শাকিব হারানো ঐতিহ্য ফিরে পান রোজার ঈদের ‘শিকারি’তে। নতুন লুক ও প্রযুক্তিগত কারণে আলোচনায় থাকা ছবিটি ভালো ব্যবসা করে। একই ঈদে ‘রানা পাগলা’ ও ‘সম্রাট’ও ভালো ব্যবসা করে।

ঈদুল আজহায় শাকিব এক নম্বরে থাকেন ‘বসগিরি’ ও ‘শুটার’ দিয়ে। যদিও ছবিগুলো ‘শিকারি’র মতো ব্যাপক ব্যবসা করতে পারেনি।

তবে বছর শেষে শাকিব একটি ফ্লপ উপহার দিয়েছেন। শফিক হাসান পরিচালিত ‘ধূমকেতু’ মুক্তি পায় ৯ ডিসেম্বর। শাকিব-পরী মনির নামের কারণে প্রথম দু-একদিন দর্শক হলে গেলেও এরপর একেবারে দর্শক টানতে পারেনি। এর জন্য দায়ী করা হয় দুর্বল নির্মাণ ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ গল্পকে।

ছবি মুক্তি সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন বাপ্পী। মুক্তি পেয়েছে পাঁচটি— সুইট হার্ট, অনেক দামে কেনা, বাজে ছেলে, এক রাস্তা ও আমি তোমার হতে চাই।

১২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়া ‘সুইট হার্ট’কে পরিচালক ওয়াজেদ আলী সুমন হিট বললেও চলচ্চিত্র প্রদর্শকরা ‘ফ্লপ’ বলছেন। তবে সিনেমাটি প্রশংসিত হয়েছে। ৮ এপ্রিল শাকিবের ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২’-এর সাথে মুক্তি পায় বাপ্পীর ‘অনেক দামে কেনা’। এটি মোটামুটি ব্যবসা করে। তবে ‘বাজে ছেলে’র জন্য বেশ সমালোচিত হন এ নায়ক। ফলাফল ব্যবসায়িক ব্যর্থতা। ৩০ সেপ্টেম্বর ‘আয়নাবাজি’র সাথে মুক্তি পায় ‘এক রাস্তা’। প্রথম সপ্তাহে কিছুটা ভালো ব্যবসা করলেও ‘আয়নাবাজি’র ঝড়ে বেশিদিন টিকতে পারেনি।

বাপ্পীরও বছর শেষ হয়েছে শাকিবের মতো ‘ফ্লপ’ দিয়ে। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া ‘আমি তোমার হতে চাই’ ভালো ব্যবসা করতে পারেনি।

ছবি মুক্তির সংখ্যা দিক দিয়ে বাপ্পীর পরপরই আছেন আরিফিন শুভ ও সাইমন। তাদের মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি সংখ্যা তিন। আরিফিন শুভ’র মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো হচ্ছে— মুসাফির, অস্তিত্ব ও নিয়তি। অন্যদিকে সাইমনের ছবিগুলো হলো— পুড়ে যায় মন, অজান্তে ভালোবাসা ও চোখের দেখা।

২৯ জানুয়ারি মুক্তি পায় সাইমনের ‘পুড়ে যায় মন’। ছবিটি মোটামুটি ভালো ব্যবসা করে। অন্যদিকে এ জে রানার ‘অজান্তে ভালোবাসা’ মুক্তি পায় ১৩ মে। আলিশা বিপরীতে করা ছবিটি বক্স অফিসে সাড়া ফেলেনি। সর্বশেষ ১৪ অক্টোবর অহনার সাথে ‘চোখের দেখা’ও ব্যবসায়িকভাবে ভালো যায়নি।

অন্যদিকে চলতি বছরে আরিফিন শুভর সিনেমার মধ্যে প্রথম মুক্তি পায় ‘মুসাফির’। অ্যাকশনে নতুনত্ব ও ভাড়াটে খুনীর গল্পের কারণে মোটামুটি আলোচনায় ছিল। আশিকুর রহমান পরিচালিত সিনেমাটি প্রযোজককে পুঁজি ফেরত দিতে না পারলেও ‘হিট’ তকমা পায়। ৬ মে মুক্তি পাওয়া ‘অস্তিত্ব’ গল্প ও প্রচারণার কারণে বেশ আলোচনায় ছিল আগে থেকে। এটি ছিল টিভি অভিনেত্রী তিশার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত বাণিজ্যিক ছবি। তবে ব্যবসায়িকভাবে খুব একটা সফলতা পায়নি। সর্বশেষ ১২ আগস্ট মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নিয়তি’র প্রযোজনা সংস্থা জাজ মাল্টিমিডিয়া বলছে, ব্যবসায় তারা খুশি। বক্স অফিস রিপোর্ট বলছে সিনেমাটিকে ‘হিট’ বলা গেলেও ‘সুপারহিট’ বলা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে চলতি বছরে ভালো গল্পের সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন শুভ।

একটিমাত্র ছবি মুক্তি পায় চঞ্চল চৌধুরীর। ৩০ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়া ‘আয়নাবাজি’ ব্যবসায়িক সফলতায় ‘শিকারি’ ও ‘বাদশা’র পরপরই অবস্থান করছে।

ছবি সংখ্যা, আলোচনা ও ব্যবসায়িক সফলতার হার শাকিবকে এ বছরও এক নম্বরে রেখেছে। একই মানদণ্ডের বিবেচনায় দ্বিতীয় অবস্থানটা বাপ্পীর হওয়ার কথা। কিন্তু আলোচনা ও ব্যবসায়িক সফলতায় একটিমাত্র ছবি দিয়ে বাপ্পীর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন চঞ্চল। একইসঙ্গে বলে দিচ্ছে— মানসম্মত ছবি বছরে একটি হলেও যথেষ্ট।

স্বভাবতই তৃতীয় অবস্থানে আরিফিন শুভ এবং তার পরপরই থাকছেন সাইমন। এছাড়া সম্ভাবনাময় অভিনেতা হিসেবে ‘রক্ত’-এ অভিষেক ঘটেছে নবাগত রোশানের। ‘আইসক্রিম’-এ অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন শরীফুল রাজ।

হাতে থাকা ছবি থেকে বলা যায় ২০১৭ সালে দ্বিতীয় অবস্থান নিয়ে আরিফিন শুভ ও সাইমনের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা হবে। বাপ্পীর তুলনায় তাদের হাতে আছে ব্যবসায়িকভাবে সফল ও আলোচনায় আসতে পারার মতো একাধিক ছবি।

সৌজন্যেঃ পরিবর্তন ডটকম

Comments

comments

Leave a Reply

Scroll To Top