বাংলাদেশের পরিচালকের বিরুদ্ধের প্রিয়াংকার অভিযোগ!

বাংলাদেশের পরিচালক রফিক সিকদারের ‘হৃদয় জুড়ে’ ছবিতে প্রিয়ঙ্কা সরকার অভিনয় করছেন, কিছুদিন আগে এমন খবরই প্রকাশিত হয়েছিলো বিভিন্ন পত্রিকায়। শিডিউল মেনে শুরুও হয়ে গিয়েছিল শ্যুটিং। কিন্তু কাজ শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই প্রিয়ঙ্কা বুঝতে পারেন, শ্যুটিং এগোচ্ছে ধীর গতিতে। প্রিয়ঙ্কার বাংলাদেশ শিডিউল শেষ হলেও, চিত্রনাট্যের নির্ধারিত অংশের শ্যুটিং শেষ করতে পারেননি পরিচালক। তাই নিজের অংশের কাজ ফেলে রেখেই কলকাতা ফিরে এসেছেন প্রিয়ঙ্কা।

প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশের প্রথম শিডিউল শেষ হলেও আমার সিনগুলো শেষ করতে পারেননি পরিচালক। ছবির প্রযোজক আমাকে জানান, জুন মাসে ফের ছবির শিডিউল শুরু করবেন। আপাতত এই অবধি কথা হয়ে রয়েছে। আমার তরফে কোনও ফল্ট ছিল না, এটুকু বলতে পারি।’’ কিন্তু এদিকে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন পরিচালক। তাঁর অভিযোগ, ‘‘প্রিয়ঙ্কা অত্যন্ত অপেশাদার। ওর খামখেয়ালিপনার জন্য অনেক টাকার ক্ষতি হয়ে গিয়েছে আমাদের।’’

কিন্তু পরিচালকের অভিযোগ আদৌ ধোপে টিকছে না! তিনি যে নানা সময়ে প্রিয়ঙ্কাকে অস্বস্তিতে ফেলার মতো মেসেজ করতেন, সে কথা প্রিয়ঙ্কাই জানিয়েছেন কলকাতার একটি অনলাইন পত্রিকাকে। অভিনেত্রীর কথায়, ‘‘ওঁর আসলে আমার উপর রাগ রয়েছে। কিছুদিন ধরেই উনি আমাকে মানসিকভাবে হেনস্থা করছিলেন। সময়ে-অসময়ে মেসেজ করতেন নানা রকম। যেগুলো কাজ সংক্রান্ত নয়! আমার সঙ্গে অকারণ গল্প করা বা আমার থেকে বাড়তি অ্যাটেনশন পাওয়ার চেষ্টা করতেন। কেন মেনে নেব বলুন তো! দেখুন, শিল্পীর মেকআপ রুমটা তো আর পরিচালকদের আড্ডা দেওয়ার জায়গা নয়। সেটা বললে যদি ওঁর গায়ে লাগে, তাহলে কিছু করার নেই।’’ এ সংক্রান্ত বেশ কিছু স্কিনশটও নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করেন এই অভিনেত্রী।

কিন্তু পরিচালক বলছেন, তিনি নাকি চূড়ান্ত অপেশাদার? প্রিয়ঙ্কার উত্তর, ‘‘আমি ওঁকে বলেছিলাম, কাজের বাইরে আমার সঙ্গে অকারণ গল্প করতে আসবেন না। আমার কথার অর্থ হয়তো উনি বুঝতে পারছিলেন না! তাই কখনও কখনও আমার সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে ওঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছি। কিন্তু সেটা জরুরি ছিল।’’ নিজের শ্যুটিংয়ের ডেট পার হলে তবেই প্রিয়ঙ্কা কলকাতায় ফিরে আসেন। যদিও তাঁর অংশটা নির্দেশক সেই সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারেননি। ‘‘কলকাতায় ফেরার পর উনি আমাকে বার বার মেসেজ করতেন। বলতেন, উনি নাকি আমাকে মিস্‌ করছেন! একটা সময়ের পর আমাকে বিয়ের প্রস্তাবও দেন! এমনকী, উনি নাকি আমাকে একটা গাড়ি উপহার দিতে চান, সে কথাও মেসেজে লিখেছিলেন!’’ বলেছেন প্রিয়ঙ্কা।

কিন্তু প্রজেক্টের শুরু থেকে প্রিয়ঙ্কা কাজটা নিয়ে উৎসাহীই ছিলেন। তাহলে গোল বাধল কোথায়? রফিকের কথায়, ‘‘প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে আমার আলাপ ছিল না। নীরব’ই (‘হৃদয় জুড়ে’র নায়ক) প্রথম আমাকে ওর কথা বলে। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ দেখে প্রিয়ঙ্কার অভিনয় এতটাই ভাল লেগে যায়, যে ওকে ছবিতে নিই। কিন্তু শ্যুটিং শুরুর পর থেকেই প্রিয়ঙ্কার ব্যবহারে পরিবর্তন আসতে শুরু করে।’’ পরিচালকের বক্তব্য, কোনও প্রয়োজনে প্রিয়ঙ্কার মেকআপ রুমে ঢুকলে তিনি রেগে যেতেন। খারাপ ব্যবহার করতেন।

এদিকে কলকাতার ওই পত্রিকা বলছে প্রিয়ঙ্কা রফিকের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা নিয়ে যে হোয়াট্‌সঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট পাঠিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে রফিকের সব রকম প্রস্তাব কিংবা বার্তার উত্তরে নীরবই থেকেছেন তিনি। এবং তাঁর যে কাজ ছাড়া অন্য কোনও বিষয়ে আগ্রহ নেই, সেটাও পরিষ্কার। তা সত্ত্বেও কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন রফিক? তিনি বলছেন, ‘‘আমার আইনজীবীর সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করার কথা ভেবেছি। ওর অপেশাদার কাজের জন্য আমাদের যা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কে বাংলাদেশের ফিল্ম ফেডারেশনের সঙ্গেও কথা বলব।’’

Comments

comments

Scroll To Top