বুম্বাদা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির মেন্টরঃ শুভশ্রী গাঙ্গুলী

এই মুহূর্তে টলিগঞ্জের ব্যস্ততম নায়িকা শুভশ্রী গাঙ্গুলী। প্রতি মাসেই কোন না কোন সিনেমার জন্য আছেন শিরোনামে, যে সিনেমাই করছেন সেটা এপার বাংলা কি ওপার বাংলা সাফল্যের গ্রাফটা বেশ ঊর্ধমুখী। সম্পর্কের নানা জটিলতা থেকে বেরিয়ে তিনি নিজের কাজটাকেই হাতিয়ার করে নিয়েছেন দুই বাংলার অসংখ্য ভক্তদের মন জয় করে নিতে! এইসব বিষয় নিয়ে সম্প্রতি তিনি কথা বলেন কলকাতার গুলগাল এর সাথে। গুলগালের সৌজন্যে সাক্ষাৎকারটি ফিল্মীমাইক পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

তুমি কি কোনদিন নিজের আত্মজীবনী লিখবে?

শুভশ্রী- এখনও ভাবি নি সেরকম…

তোমার এখনো অবধি জার্নিটা ভীষণ ইন্সপায়ারিং  এবং ইন্টারেস্টিং, সেক্ষেত্রে তোমার অভিজ্ঞতা অনেক নবাগতদের গাইড বুক হতে পারে, ভাবো নি এটা নিয়ে?

শুভশ্রী- (হাসি) থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ! নাহ এখনও এরকম ভাবিই নি, আমার মনে হয় এখনো অনেকটা পথ চলা বাকি আরও কিছু এক্সপিরেয়ন্স বাকি সেগুলো হলেই তবে আমি শেয়ার করতে পারবো।

যখন প্রথম স্ক্রিপ্টটা শোনো “দেখ কেমন লাগে”র, প্রথম রিয়্যাকশেন কি ছিল তোমার?

শুভশ্রী- ওয়াও! প্লিজ স্টার্ট করো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব! যখন স্ক্রিপ্ট শুনছিলাম বুম্বাদা ওপরে ছিল, নিচে নামতে বাধ্য হয় এতো জোরে জোরে হাসছিলাম (হাসি)। পদ্মদা এতো ভালোভাবে স্ক্রিপ্টটা লিখেছে যে আমি নিজের চরিত্র আর গল্প দুটো নিয়েই  ভীষণ এক্সাইটেড।

শুটিং ব্রেকে কাউকে বলেছ ‘দেখ কেমন লাগে’?

শুভশ্রী- (হাসি) নাহ! তবে সোহমের সাথে সবসময় মজা তো হয়, বুম্বাদা ওকে ডায়েট চার্ট করে দিয়েছিলো কিন্তু ও যদি সেটা না ফলো করত আমি ওকে বলতাম দেখ, দাদাকে বলে দেব! তখন মনে হত ‘দেখ কেমন লাগে’! আর সিনেমাতে আমার যে চরিত্র গুঞ্জা, একজন নর্থ ক্যালক্যাটার মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে যার একটা স্ট্রং পারসোনালিটি রয়েছে, যার কাছে ভ্যালুসগুলো ভীষণ ক্লিয়ার ঐ সিনেমাতে বলে গেছে দেখ কেমন লাগে…

প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি এই সিনেমাতে অফস্ক্রিন তোমাদের মেন্টরের ভূমিকায় রয়েছেন, কোন টিপস দিলেন তোমাকে?

শুভশ্রী- এই ভূমিকাতেই দাদাকে সবসময় পেয়েছি, ছবি ছাড়াও যখনই কোন প্রবলেমে পড়েছি তখনই কথা হয়েছে, দাদাকে অকপট সবকিছু বলতে পেরেছি কি করতে চাই কি চাই না! সেই জায়গাটা দাদা আমাদের দেয়, উনি আমাদের ইন্ডাস্ট্রির মেন্টর।

এটা কি ঠিক এখন শুটিং প্যাক আপ হলে সোজা বাড়ি, কোনরকম আলোচনাতে থাকো না?

শুভশ্রী- এমনি আমি আগেও এরকম ছিলাম, এমন না যে আমি শুটিং ছাড়া খুব আড্ডা মারি, শুটিং না থাকলে আমি বাড়ি থেকে বেরোই না, যে এর জন্য আমাকে ইন্ট্রোভার্ট বলে সেটা তার ধারণা কিন্তু আমার মনে হয় আড্ডা মারার জন্য একটা আলাদা সময় থাকা উচিৎ, শুটিং’র পর নিশ্চয়ই অন্যকোন শিডিউল ছিল তাই বেরিয়ে গেছি।

সেলেবদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে উৎসাহ সবার থাকে, তার প্রেম-বিয়ে-উত্থান-পতন সব। আর এর উত্তরগুলো হ্যান্ডেল করা একটা পার্ট এমনকি যে মানুষগুলো হয়তো কখনো আঘাত দিয়েছে তাদের সাথে সোশ্যালই ভালোভাবে মিশতে হয় , তুমি কিভাবে দেখ এটা?

শুভশ্রী- আমার মনে হয় শুধু সেলিব্রেটি না প্রত্যেকটা মানুষের এরকম হওয়া উচিৎ, আমার মনে হয় দোষ দেওয়াটা ভীষণ ইজি, আর আই ডোন্ট টেক এনি ইজি পাথ, আমি শুধু ভালোদিকটাই মনে রাখতে চাই, আমি কারুর সাথে ফেকভাবে মিশতে পারি না, যদি মনে হয় কাউকে মন থেকে ‘হাই’ বলতে পারবো তবেই বলি! সোশ্যাল কোন বাইন্ডিংস আমার উপর নেই।

তুমি বললে ইজি পাথ তোমার পছন্দ নয়, প্রথমদিন থেকে এই কেরিয়ারের কঠিন লড়াইটা তুমি নিজেই চেয়েছিলে লড়তে?

শুভশ্রী- আমার মনে হয় আমাদের জীবনে যা ইন্সিডেন্ট হয় তার জন্য নিজেরাই দায়ী। আমি আমার জীবনের দায় কাউকে দিতে চাই না।

জিৎ-শুভশ্রী হিট, সোহম-শুভশ্রী হিট এমনকি বাংলাদেশে শাকিব-শুভশ্রী হিট, ইন্ডাস্ট্রির প্রথমসারির নায়কদের সাথে তোমার জুটি হিট হচ্ছে, এর পেছনে কেমেস্ট্রিটা কি?

শুভশ্রী- নো আইডিয়া! কেমেস্ট্রিটা তো দর্শকরা বিচার করবেন, ভগবানের আশীর্বাদে জিৎ’দার সাথে যে সিনেমাগুলো হয়েছে ভীষণ ভালো রেজাল্ট করেছে! এই বছরের আমার প্রথম সাকসেসফুল ছবি “বস ২” বলতে পারি, আর “নবাব” যেটা বললে,খবর আসছে যে বাংলাদেশে সেটা নাকি ১৫ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে আর সোহমের সাথে ৮ বছর পর আবার “আমার আপনজন” দিয়ে আমরা কামব্যাক করি এবং সেখানে অভিনয় ও সিনেমার রিপোর্ট খুবই ভালো ছিল আর এখন এই সিনেমা নিয়ে আমরা ভীষণ আশাবাদী যে খুব ভালো করবে এটা।

‘দেখ কেমন লাগে’ টিমে থাকা এই তিনজনকে নিয়ে এক কথায় কি বলবে…

শুভশ্রী-

সোহম- ও একজন ভীষণ ভালো অভিনেতা, এখন ও আর অ্যাক্টিং এর মধ্যে নেই ও চরিত্রতে ঢুকে যায় পুরো সেইভাবে আচরণ করে যেটা বিপরীতের মানুষগুলোকে অভিনয়ে খুব হেল্প করে।

জিৎ গাঙ্গুলি- উনি তো হিট গাঙ্গুলি, এটা একটা আলাদা ভরসার জায়গা! উনি থাকা মানে মিউজিক নিয়ে নো টেনশন।

সুদেশ্না রায়-অভিজিৎ গুহ – রাণা’দা-সুদেশ্নাদির সাথে আমার অনেকদিন কাজ করার ইচ্ছে ছিল তো সেটা এতদিনে হোল সঙ্গে এইরকম একটা অ্যামেজিং স্ক্রিপ্ট। ওঁদের দুজনের সেন্স অফ হিউমার এতো ভালো আর একটা সুন্দর কেমেস্ট্রি আছে, আমার মনে হয় সেটা ডিরেকশনের মধ্যে ফুটে ওঠে।

এখন নিজের সিনেমার বাইরে অন্যকারুর সিনেমাতে আইটেম নাম্বার করতে চায় না শুভশ্রী!

শুভশ্রী- (হাসি) এখন কোন অফার পাই নি।

জিৎ শুভশ্রী’র কেরিয়ারে ভীষণ বড় একটা মাইলেজ দিয়েছে।

শুভশ্রী- হ্যাঁ।

আবার প্রেমে পড়তে পারে শুভশ্রী।

শুভশ্রী- হ্যাঁ, অফকোর্স পড়তে পারে!

“দেখ কেমন লাগে” থেকে দর্শকরা কি পেতে চলেছেন?

শুভশ্রী- দর্শকরা একদম পয়সাআসুল ছবি দেখবেন, দেখো সারাদিনের শেষে আমরা হ্যাপিনেস খুঁজি আর এই ছবিটা পুরোটাই হ্যাপিনেস নিয়ে আর কোথাও জোর করে হাসতে হবে না সবটাই সিচ্যুইয়েশনাল কমেডি আর খুব সুন্দর একটা মেসেজও আছে তাই আমার মনে হয় সবার এই ছবি দেখা উচিৎ এবং সঙ্গে একটা অদ্ভুত বাঙালীয়ানা আছে।

Comments

comments

Scroll To Top