মিডিয়া এবং সবাই হয়ত আমাকে খুব মিস করছিলোঃ কোয়েল মল্লিক

একটা গান মনে আছে আপনাদের নিশ্চয়ই, “তোর এক কথায় আমি রাখব হাজার বাজি..” হ্যাঁ, যদিও গানে কথাটা জিৎ বলছিল নায়িকার উদ্দেশে কিন্তু দু’বছর পর চিত্রনাট্য বদলেছে! সেই নায়িকা এখন এই কথা বলছেন তার অগণিত দর্শক, ভক্তদের জন্য, যাদের এক কথায় বাজি রাখতে পারেন অনেক ভালো ভালো চরিত্র এবং গল্প আপনাদের উপহার দেওয়ার জন্য!, তিনি হলেন টলি কুইন কোয়েল মল্লিক। সেইরকমই এক মনমত চরিত্র পেয়েছেন পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলি’র “ছায়া ও ছবি”তে এবং ভীষণ আশাবাদী দর্শকদের সেই কোয়েল-জ্বরে কাবু করতে, সুরিন্দর ফিল্মসের এডিটরুমে বসে কথা বলেন গুলগাল পত্রিকার সাথে। গুলগালের সৌজন্যে সাক্ষাৎকারটি ফিল্মীমাইক পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

তুমি নাকি খুব চাপা স্বভাবের…

কোয়েল- হ্যাঁ, আমি ইন্ট্রোভার্ট… আসলে চট করে আমি ওপেন আপ হতে পারি না সবার সাথে! আমার খুব কাছের মানুষরাই শুধু চেনে আমাকে, ইন্ডাস্ট্রির মানুষজন খুব বেশী চেনে না আর এতে আমার অসুবিধেও হয় না কারণ আমার যা কাজ সেটা শুটিং করি তারপর সোজা বাড়ি, আমার পরিবারকে সময় দিতে গিয়ে সবার সাথে মেশার সুযোগ-সময় হয়ে ওঠে না…

“কোয়েলের কামব্যাক”…তকমাটার সাথে সহমত?

কোয়েল- আমি এতোদিন বাইরে ছিলাম সেটা কোনদিন মনে হয় নি, হ্যাঁ এটা ঠিক আমি অনেকদিন কোন কাজ করি নি তবে এর জন্য কোন রিগ্রেশেন নেই যে, ইশ! এতোদিন কাজ করি নি… তবে সেইসময়টা পুরো নিজের মত কাটিয়েছি, প্রচুর ট্র্যাভেল করেছি, যেভাবে চেয়েছিলাম জীবনটা কাটাতে, কাটিয়েছি, আরেকটা ব্যাপারও ছিল, আমি চাইছিলাম না নিজেকে রিপিট করতে, এতোদিন সিনেমা করেছি এবার নিজের অভিনয়সত্ত্বা থেকে অন্য কিছু করতে চাইছিলাম, ঠিক তখনই কৌশিকদা এই স্ক্রিপ্টটা শোনায় অ্যান্ড আই বিকাম এক্সাইটেড!

এই অবসরে কোন বাংলা সিনেমা দেখেছো ?

কোয়েল- উমম (একটু ভেবে) লাস্ট দেখেছি ‘বিসর্জন’, টেস্টফুল এবং ভেরি ওয়েল ক্রাফটেড একটা সিনেমা, অসাধারণ…

দেব-জিৎ’র কোন সিনেমা?

কোয়েল- (তৎক্ষণাৎ) আমার খুব ইচ্ছে ছিল ‘চ্যাম্প’ ও ‘বস ২’ দেখার কিন্তু দুটোই মিস করেছি এই সিনেমাটার শুটিং চলছিল বলে…

স্টারডমের রাজপথে হাঁটতে হাঁটতে কখনো কখনো মানুষ একটা নির্জনতা খোঁজে… “ছায়া ও ছবি” কি সেই নির্জনতাটা দিতে পেরেছে?

কোয়েল- হ্যাঁ, এটা একেবারেই তাই! অনেকদিন ধরে একটা পথ চলতে চলতে মনে হয় পুরো পথটাই চেনা, এবার একটা অন্য পথ নেওয়া এবার সেই অন্য পথের বাঁকগুলো আমার কাছে অচেনা, তার একটা আলাদা এক্সাইটমেন্ট আছে, ডেফিনেটলি সেটা খোঁজার চেষ্টা করেছিলাম এবং সেই রাস্তা চোখের সামনে খুলেও গেছে…

তাহলে “ছায়া ও ছবি” সেই প্রথম অচেনা বাঁক?

কোয়েল- নাহ ঠিক প্রথম বলবো না, কারণ আগে এই রাস্তায় হেঁটেছি যদিও নাম্বার অফ সিনেমা খুবই কম তাই অচেনা বলা যায়, যেমন ‘হেমলক সোশ্যাইটি’, ‘জ্যাকপট’, ‘হিটলিস্ট’…তবে এই রাস্তায় হাঁটার জন্য অনেকদিন ওয়েট করছিলাম! এই স্ক্রিপ্টটা হয়ত চার,পাঁচ বছর আগে এলে আজকের পরিনত অভিনয়টা দিতে পারতাম না, রাই (কোয়েল)’য়ের  ইমোশেনগুলোর গভীরতা আমি অনেক বেটার বুঝতে পেরেছি আর মনে হয় অনেক পরিনতভাবে সেটা দিতে পেরেছি…

তাহলে দর্শকরা রাই’য়ের মাধ্যমে কি তোমাকেই দেখতে পাবে?

কোয়েল- রাই চ্যাটার্জি একজন স্টার ঠিকই কিন্তু তার পার্সোনাল লাইফের সাথে আমার কোন মিল নেই… রাই ভীষণ মুফাট, যেটা মাথায় আসে সেটাই বলে ফেলে, সিন ক্রিয়েট করতে ইচ্ছে হলে করে ফেলে, চেঁচাতে ইচ্ছে হলে চেঁচিয়ে ফেলবে সে ভাববেই না যে সে একজন সেলেব্রেটি! আমি কিন্তু  মোটেই ওরকম নই, খুব কম্পোসড এবং রাইয়ের মত অত ইম্পালসিভ নই, সেটা ছবিটা দেখলে মানুষ বুঝতে পারবে আর সবথেকে বড় ব্যাপার নিজের সাথে মিল না থাকা একজনের চরিত্র করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। আমি নিজে একজন সেলেব্রেটি হয়ে আরেকজন সেলেব্রেটির জুতোতে পা গলিয়ে একটা অন্য পারসোনালিটি তুলে ধরেছি, এটা বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল!

কৌশিক গাঙ্গুলি এই নামটা শুনলে কোন কথাটা প্রথম মাথায় আসে?

কোয়েল- অসম্ভব ভালো একজন পরিচালক। এরকম ইন্টারন্যাশানল মাপের অভিনেতা খুবই কম দেখেছি…গোটা সিনেমাতে ওনার কাছে শাসনের থেকে বেশী আদর পেয়েছি (হাসি) আর উনি নিজে যেহেতু একজন শিক্ষক ছিলেন তাই যখন গল্প বলেন তাতে একটা অন্যরকম মাধুর্য আসে…এককথায় বলতে গেলে,আমি সৌভাগ্যবান ওনার সাথে কাজ করতে পেরে।

টলি কুইন যখন পাহাড়ের রানি মানে দার্জিলিং’র সাথে মোলাকাত করে কিছু তো মিরাকেল হয়েছে নিশ্চয়ই?

কোয়েল-  (হাসি)…হ্যাঁ, আমার খুব বেশী সিনেমা দার্জিলিংএ নেই! কিন্তু এই সিনেমাটার জন্য দার্জিলিং খুব ইম্পরট্যান্ট, ওখানের আকাশে, বাতাসে এমনি একটা ম্যাজিক আছে… বিশেষ করে পাহাড়ের রাস্তার বাঁকগুলোতে, একটা তো ম্যাজিক আছেই…

এই ম্যাজিক সঙ্গে আবির, কেমন ছিল অভিজ্ঞতাটা?

কোয়েল- আবিরের সাথে আগে দুটো সিনেমা করেছি ‘প্রেম বাই চান্স’ আর ‘চার’ যদিও ‘চার’এ খুব ছোট অভিজ্ঞতা কিন্তু ‘প্রেম বাই চান্স’ থেকেই আমাদের কেমেস্ট্রিটা ক্লিক করে যায় তাই এই সিনেমাতে আলাদা করে কোন সময় লাগে নি, আর ও অসম্ভব লেভেলের ফোকাসড! এবং এই সিনেমাতেই বোধহয় প্রথম একদম কুল ডুড টাইপের চরিত্রে দেখা যাবে…

সবসময় একটা ভদ্র, শান্ত বাঙালী বাড়ির ছেলে…

কোয়েল- এক্স্যাক্টলি (হাসি)… সবসময় এইভাবেই দেখেছি ওকে কিন্তু এই ছবিতে মাথায় ব্যান্ডানা দেওয়া, ছেঁড়া জিন্স পরা একদম কুল একটা লুক! তবে হ্যাঁ শুধু কস্টিউম দিলে হয় না সেটা ক্যারি করার জন্য যে পার্সোনালিটি দরকার, আবিরের আছে।

গ্রামের একটা মুদি দোকানের হোর্ডিং থেকে শহরের বড় বড় হোর্ডিং সব জায়গাতেই তোমার ছবি, এমনকি অবসরের সময়েও। এটা একটা স্টারডমের এফেক্টও বলতে পার, আর সেইসময় যে রিউমারগুলো ছড়িয়েছিল তোমার নামে সেটা কি এই স্টারডম এফেক্ট না মিডিয়া?

কোয়েল- আমি এত বেশী ভাবি না, অন আ পজেটিভ নোট, মিডিয়া এবং সবাই হয়ত আমাকে খুব মিস করছিল (হাসি)! তাই জন্য ভেবেছিল কোনরকম ভাবে যদি আমাকে খবরে আনা যায়। টাচউড যা যা শোনা গেছিলো সেগুলো কিছুই হয় নি…

সেই জন্য এটা রিউমার…

কোয়েল- একদম… তাই জন্য সেটা রিউমার, এটাকে আলাদা করে আর জাস্টিফাই করতে চাই না, আমি যথেষ্ট সুখে শান্তিতে ভালো আছি, এভাবেই হাসি মুখে থাকতে চাই। এতদিন ধরে দর্শকরা যে ভালোবাসা দিয়েছেন, অপেক্ষা করেছেন আমার সিনেমার জন্য আমি ভীষণ ভাগ্যবান কারণ এখন তো ‘অপেক্ষা’ কি জিনিস মানুষ ভুলে গেছে! সে জায়গা থেকে আমি অনেক ব্লেসড, এক এক সময় ওনারা মনগড়া গল্প নিয়ে বলেছে, আচ্ছা আপনি তো ঐ সিনেমাটা করছেন…

বিশেষ করে দেব-জিৎ’র সিনেমাতে…

কোয়েল- হ্যাঁ (উত্তেজিত হয়ে)…ওরা বলত আপনি তো আছেন ঐ সিনেমাতে আমি মনে মনে হাসতাম না আমি নেই (হাসি) কিন্তু হ্যাঁ  আমি খুব ভাগ্যবান যে ওরা এতটা অপেক্ষা করলেন আমার সিনেমার জন্য…

এতদিন অবসরে ছিলে, ফিরে আসছো দু’খানা সিনেমা নিয়ে, আ-আবার অবসরে চলে যাওয়ার প্ল্যান নেই তো?

কোয়েল- (জোর গলায়) ভালো গল্প যদি আসে আমি নিশ্চয়ই করবো কিন্তু ভালো গল্প যদি না আসে আমি আবার অবসরে চলে যাব মনে হচ্ছে (হাসি)!

Comments

comments

Scroll To Top