মুভি রিভিউঃ টিউবলাইট (২০১৭)

চলচ্চিত্রের নামঃ টিউবলাইট (২০১৭) মুক্তিঃ ২৩শে জুন ২০১৭ অভিনয়েঃ সালমান খান, সোহেল খান, জু জু, ওম পুরী এবং একটি বিশেষ চরিত্রে শাহরুখ খান। পরিচালনাঃ কবির খান প্রযোজনাঃ সালমান খান পরিবেশনাঃ এন এইচ স্টুডিও (ইন্ডিয়া) এবং যশ রাজ ফিল্মস (অভারসিস) কাহিনিঃ কবির খান চিত্রনাট্যঃ কবির খান এবং পারভেজ সাইকা সংলাপঃ কবির খান সম্পাদনাঃ রামেসর এস ভাগাত চিত্রগ্রহনঃ আসীম মিস্রা সংগীতঃ প্রীতম প্রারম্ভিক কথাঃ  কবির খান এবং সালমান খান জুটির …

Review Overview

পরিচালনা
কাহিনী
চিত্র্যনাট্য
চিত্রগ্রহন
সম্পাদনা
অভিনয়

Summary : কবির খান পরিচালিত ‘টিউবলাইট’ মিটমিট করা আলোর মত। যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা স্বত্বেও শেষ পর্যন্ত আলোকিত হতে সম্পূর্ণ রুপে ব্যর্থ ‘টিউবলাইট’। ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ এর পর এই নায়ক পরিচালক জুটির উপর অনেক প্রত্যাশা ছিলো দর্শক সমালোচকদের। এই সিনেমায় এখন পর্যন্ত একমাত্র শক্তিশালী দিক সালমান খান এবং সিনেমার বক্স অফিস ভাগ্য এখন নির্ভর করছে সালমান খানের স্টার পাওয়ার এর উপর।

User Rating: 3.38 ( 9 votes)
40

চলচ্চিত্রের নামঃ টিউবলাইট (২০১৭)

মুক্তিঃ ২৩শে জুন ২০১৭

অভিনয়েঃ সালমান খান, সোহেল খান, জু জু, ওম পুরী এবং একটি বিশেষ চরিত্রে শাহরুখ খান।

পরিচালনাঃ কবির খান

প্রযোজনাঃ সালমান খান

পরিবেশনাঃ এন এইচ স্টুডিও (ইন্ডিয়া) এবং যশ রাজ ফিল্মস (অভারসিস)

কাহিনিঃ কবির খান

চিত্রনাট্যঃ কবির খান এবং পারভেজ সাইকা

সংলাপঃ কবির খান

সম্পাদনাঃ রামেসর এস ভাগাত

চিত্রগ্রহনঃ আসীম মিস্রা

সংগীতঃ প্রীতম

প্রারম্ভিক কথাঃ  কবির খান এবং সালমান খান জুটির এখন পর্যন্ত সব সিনেমাই বক্স-অফিসে সফলতার পাশাপাশি সমালোচকদেরও প্রশংসা কুড়িয়েছে। ‘এক থা টাইগার’ এবং ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ এর বিপুল সাফল্যের পর এই পরিচালক নায়ক জুটির তৃতীয় ছবি ‘টিউবলাইট’। কবির খান পরিচালিত এই ছবিও মুক্তি পাচ্ছে সালমান খানের সবচেয়ে লাকী সময় ঈদে। এর আগেও ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সালমান খান অভিনীত সিনেমাগুলো ছিলো বক্স-অফিসে ঝড় তোলা। ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ এবং ‘সুলতান’ দিয়ে দর্শক-সমালচকদের প্রশংসা কুড়ানোর পর কেমন হলো ‘লিটল বয়’ এর এই অফিসিয়াল রিমেক? কেমন অভিনয় করলেন সালমান খান? দর্শকদের প্রত্যাশা কতোটা পূরণ করতে পারবে ‘টিউবলাইট’? চলুন দেখে নেয়া যাক সালমান খানের এই সিনেমার বিস্তারিত পর্যালোচনা।

কাহিনী সংক্ষেপঃ কুমাওনের একটি ছোট্ট শহর ‘জগতপুর’। সেখানে বেড়ে উঠা ক্ষীণবুদ্ধিসম্পন্ন এক ছেলে লক্ষন সিং (সালমান খান), যাকে সবসময় দেখাশোনা করে তারই ভাই ভারত সিং (সোহেল খান)। ক্ষীণবুদ্ধি হওয়ার কারনে লক্ষন সিংকে নিয়ে শহরের সবাই হাসাহাসি করে এবং তাকে টিউবলাইট বলে ডাকে।

সবকিছুই একই ভাবে এগুতে থাকে ১৯৬২ সালের সিনো-ইন্ডিয়ান যুদ্ধের আগ পর্যন্ত। সিনো-ইন্ডিয়ান যুদ্ধের কারনে ভারত সিং এবং শহরের অন্যান্য যুবকরা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ইন্ডিয়ান আর্মিতে যোগদান করে। লক্ষণও আর্মিতে যোগদান করতে চায় কিন্তু শারীরিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারনে ফেরত আসে।

এদিকে এক চায়না বংশভূত ইন্ডিয়ান মহিলা লি লিং (জু জু) তার ছেলে গুয়াওকে নিয়ে কলকাতায় থাকতে আসে। যদিও শুরু দিকে লক্ষন তাদের ঘৃণা করত, কিন্তু বান্নি চাচা (ওম পুরী) তাকে গান্ধীর নীতিতে বিশ্বাস রাখতে বলে। পরবর্তিতে এই লি এবং গুয়াও হয়ে উঠে সালমান খানের একমাত্র বন্ধু।

লক্ষন ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনীর স্থানীয় প্রধান মেজর রাজবীর টকাসকে প্রায়শই জিজ্ঞেস করে যে তার ভাই যুদ্ধ থেকে কবে ফিরবে। কিন্তু মেজর রাজবীর এই প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেনা। যেখানে এলাকার অন্যরা মনে করে ভারত সিং মানে লক্ষনের ভাই যুদ্ধে মারা গেছে, লক্ষন বিশ্বাস করে তার ভাই বেঁচে আছে একদিন ঠিকই ফিরে আসবে। বান্নি চাচাও লক্ষণকে বলে যে, বিশ্বাস মানুষকে পাহাড় অতিক্রম করতেও সাহস যোগায়। বান্নি চাচার এই কথা সহজ সরল লক্ষনের মনে ধরে এবং সে পাহাড় ডিঙ্গাতে চায়। সে ঘোষণা দেয়, তার বিশ্বাসই তার ভাই ভারতকে ফিরিয়ে আনবে।

চিত্রনাট্য: ‘টিউবলাইট’ সিনেমা আসলে আমেরিকান যুদ্ধের উপর নির্মিত ‘লিটল বয়’ হতে অনুপ্রাণিত। যদিও পরিচালক কবির খান তার সিনেমাতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন।

বর্তমান সময়ের যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব এবং অস্থিরতার সময়ের সাথে সিনেমাটির বিষয়বস্তু সমসাময়িক হলেও সিনেমার চিত্রনাট্য গল্পের প্লটের তুলনায় দুর্বল। সিনেমার প্লট মাঝে মাঝেই খেই হারিয়ে ফেলে। লক্ষনের চরিত্র নিয়ে চিত্রনাট্যে লেখকের উদাসীনতা অনেকটাই দৃশ্যমান এবং লক্ষনের চরিত্র আপনার মনে বেশকিছু প্রশ্নের জন্ম দিবে। এছাড়াও সিনেমাতে অনেকগুলো অপ্রয়োজনীয় চরিত্র আছে যেগুলোর আক্ষরিক অর্থে চিত্রনাট্যে কোন প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়নি।

তবে সিনেমাটির চিত্রনাট্যের সবচেয়ে বড় দূর্বলতা সম্ভবত সিনেমার ক্লাইম্যাক্স। সিনেমা শেষ হওয়ার অনেক আগেই দর্শকদের কাছে পুরো ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যমান হয়ে যায়, যাতে করে সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত আগ্রহ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।

পরিচালনাঃ আপনি যখন নিজের স্ট্যান্ডার্ড উপরে তুলবেন, আপনার প্রতি দর্শকদের প্রত্যাশাও বাড়বে। আর সেই প্রত্যাশার মূল্যায়ন করাও তখন আপনার দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াবে। কবির খান এই ছবি দিয়ে নিজের মানের প্রতি অবিচার করেছেন বলেই মনে হয়। সালমান খানকে নিয়ে তার আগের ছবি ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ পরিচালক হিসেবে তাকে যেটুকু সমৃদ্ধ করে ‘টিউবলাইট’ ঠিক ততটুকুই অবনমিত করে।

সিনেমার বেশীরভাগ দৃশ্যে সিনেমার প্রধান চরিত্র লক্ষনকে বিরক্তিকর অভিব্যাক্তি নিয়ে পর্দায় আসতে দেখা গেছে। এছাড়াও লক্ষনের সেনাবাহিনীতে শারীরিক পরীক্ষার দৃশ্যেও দর্শকদের বিরক্তির কারন হবে। সিনেমার দ্বিতীয় অংশেও পরিচালকের দূর্বলতা দৃশ্যমান। ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ সিনেমায় যেখানে আবেগী দৃশ্য আপনাকে কাঁদাতে পারে সেখানে ‘টিউবলাইট’ এ পরিচালক কবির খানের চেষ্টা থাকা স্বত্বেও দর্শককে আবেগী করতে ব্যর্থ।

অভিনয়: পুরো সিনেমাতে ভালো বলতে সালমান খানের অভিনয়, যদিও নিঃসন্দেহে  ‘টিউবলাইট’ সালমান খানের সেরা অভিনয়ের সিনেমা নয়। সোহেল খানের সাথে সালমান খানের দৃশ্যগুলো আপনাকে বিনোদিত করবে কোন সন্দেহ নেই। এছাড়াও সিনেমার শেষ দৃশ্যে সালমান খানের অভিনয় অনেক দিন মনে রাখার মত। সোহেল খানের পর্দা উপস্থিতি এবং অভিনয় মোটামুটি ছিলো।

অতিথি চরিত্রে শাহরুখ খানের পর্দা উপস্থিতি কিছুক্ষণের জন্য হলেও সিনেমার দৃশ্যপট বদলে দিবে আপনার কাছে। শাহরুখ খানের এই সিনেমায় পর্দা উপস্থিতির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিলো তার মেকাপ।

ওম পুরী তার নিজের চরিত্রে ভাল অভিনয় করেছেন। এছাড়াও অন্য ছোট ছোট চরিত্রগুলোও নিজেদের চরিত্রে ভালো অভিনয় করেছেন। যদিও এদের বেশীরভাগকেই ঠিকভাবে সিনেমায় ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছেন পরিচালক।

সালমান খানের পর এই সিনেমায় আরেকটি চরিত্র আপনার নজর কাড়তে বাধ্য। চাইনিজ ছেলের চরিত্রে অভিনয় করা মাটিন রয় টাঙ্গু। যদিও তেমন কিছু করার ছিলোনা তার তারপরও সিনেমায় তার উপস্থিতি ভালো লাগবে দর্শকদের। একই কথা প্রযোজ্য চাইনিজ অভিনেত্রী জু জুর ক্ষেত্রেও।

উপসংহারঃ কবির খান পরিচালিত ‘টিউবলাইট’ মিটমিট করা আলোর মত। যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা স্বত্বেও শেষ পর্যন্ত আলোকিত হতে সম্পূর্ণ রুপে ব্যর্থ ‘টিউবলাইট’। ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ এর পর এই নায়ক পরিচালক জুটির উপর অনেক প্রত্যাশা ছিলো দর্শক সমালোচকদের। এই সিনেমায় এখন পর্যন্ত একমাত্র শক্তিশালী দিক সালমান খান এবং সিনেমার বক্স অফিস ভাগ্য এখন নির্ভর করছে সালমান খানের স্টার পাওয়ার এর উপর।

Comments

comments

Scroll To Top
0