মুভি রিভিউঃ রক্ত – Fight For Blood (২০১৬)

চলচ্চিত্রের নামঃ রক্ত – Fight For Blood (২০১৬) মুক্তিঃ ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০১৬ অভিনয়েঃ পরিমণী, রোশান, অমিত হাসান, সুব্রত,,আশিষ বিদ্যার্থী প্রমুখ। পরিচালনাঃ ওয়াজেদ আলী সুমন প্রযোজনাঃ জাজ মাল্টিমিডিয়া (বাংলাদেশ) ও এসকে মুভিজ (কলকাতা) কাহিনি ও চিত্রনাট্যঃ পেলে চ্যাটার্জী, ফারুক হোসেন, আবদুল্লাহ জহির বাবু চিত্রগ্রহনঃ সাইফুল ইসলাম শাহিন সংগীতঃ আকাশ এবং স্যাভি প্রারম্ভিক কথাঃ যৌথ প্রযোজনার ঈদুল …

Review Overview

পরিচালনা
কাহিনী
চিত্র্যনাট্য
চিত্রগ্রহন
সম্পাদনা
অভিনয়

Summary : সবমিলিয়ে, রক্ত বেশ বড় বাজেটের বাণিজ্যিক ছবি। বেশ ভালোভাবেই বানানো হয়েছে। তবে দুর্বল গল্প ও চিত্রনাট্য একেবারে বাড়া ভাতে ছাই ঢেলে দিয়েছে। ছবিটি অ্যাকশন ছবি তো হতেই পারেনি, রোমান্টিক ছবি হওয়ার সূযোগ থাকলেও দুর্বল চিত্রনাট্যের কারণে তাও পারেনি। রোমান্টিক সিনগুলো দারুন, অ্যাকশন সিনগুলো ফালতু। তারপরও বেশ সুন্দর লোকেশন, সিনেমাটোগ্রাফি ও খুব সুন্দর এক জুটি রোশান-পরী মনির কারণে ছবিটি আমার কাছে মোটামুটি ছবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

User Rating: 4.06 ( 4 votes)
63

চলচ্চিত্রের নামঃ রক্ত – Fight For Blood (২০১৬)

মুক্তিঃ ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০১৬

অভিনয়েঃ পরিমণী, রোশান, অমিত হাসান, সুব্রত,,আশিষ বিদ্যার্থী প্রমুখ।

পরিচালনাঃ ওয়াজেদ আলী সুমন

প্রযোজনাঃ জাজ মাল্টিমিডিয়া (বাংলাদেশ) ও এসকে মুভিজ (কলকাতা)

কাহিনি ও চিত্রনাট্যঃ পেলে চ্যাটার্জী, ফারুক হোসেন, আবদুল্লাহ জহির বাবু

চিত্রগ্রহনঃ সাইফুল ইসলাম শাহিন

সংগীতঃ আকাশ এবং স্যাভি

প্রারম্ভিক কথাঃ যৌথ প্রযোজনার ঈদুল অাযহা-২০১৬–র সিনেমা ‘রক্ত’ কৌশলগত কারণে আধুনিক হয়েও শেষ পর্যন্ত পেছানো সিনেমা। প্রতিশোধের গল্পে গতানুগতিক স্টেরিওটাইপে পড়া অথচ অাধুনিক সিনেমার ব্যানারটি গায়ে জড়িয়েও সম্পূর্ণ তৃপ্তি দেয় না। ‘রক্ত’ সিনেমার গল্পকে ‘the long kiss goodnight’ নামের হলিউড সিনেমা থেকে কপি করা হয়েছে। যার মূল চরিত্রে ছিল geena davis. হলিউডি সিনেমার বাঁকবদল করা সোজা না। অথচ সোজা করতে চাওয়া হয়েছে।বাংলা সিনেমা হিশেবে যখন এটিকে নির্মাণ করা হচ্ছে একটা বিস্তর স্টাডির সুযোগ থাকে। ‘রক্ত’ টিম অ্যাকশন নাকি লেডি অ্যাকশন সিনেমা নির্মাণ করবে সেদিকটি পরিষ্কার করতে হত। প্রাথমিক প্রচারণায় চাউর হয় এটি লেডি অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা হতে যাচ্ছে। প্রথম পরিচালক ঠিক হয় মালেক আফসারী। তিনি থাকলে এ রিভিউ-র প্রয়োজন পড়ত না হয়তো।

পরিচালক পরিবর্তনের পর সিনেমার গল্পের বাঁকবদল হয়েছে নাকি বাঁকবদলের প্রয়োজন মনে করা হয়নি দেখার বিষয়। ফ্রেম টু ফ্রেম কপি করা একটা রোগই বটে তাতে দুটো সিনেমার মধ্যে তফাত থাকে না।অনুপ্রাণিত হলে কথা আলাদা। এ কৌশলটি ‘রক্ত’ টিম গ্রহণ করতে পারেনি যার কারণে ‘লেডি অ্যাকশন’-এর প্রচারণা চালানো সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত অ্যাকশন সিনেমা হয়ে যায় এবং সেখানে নায়িকাপ্রধান ইমেজের দাপট থাকে না, থাকে নায়কপ্রধান হবারও দারুণ সুযোগ। অনুপ্রেরণা থেকে ‘লেডি অ্যাকশন’ বানালেও ‘রক্ত’ টিমকে স্টাডি করতে হত।

জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে এমন সিনেমা পূর্বে হয়েছে যেমন – ‘অগ্নি, অগ্নি-২’। তফাতটা ছিল সেগুলোতে নায়িকাপ্রধান ইমেজ ছিল। ‘রক্ত’-তে বিষয়টি ভাগাভাগি নায়ক-নায়িকাতে। নায়িকার অ্যাকশন ফুটিয়ে তুলতে ঢালিউডকেন্দ্রিক অনেক সিনেমা-ই আছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি সেসব সিনেমার কোনো স্টাডির ছাপ চোখে পড়ে না আজকের আধুনিক অ্যাকশন সিনেমায়। ‘রক্ত’ সিনেমার পরীমণি চরিত্রটিকে ‘রক্ত’ টিম দিতি, শাবনাজ, মৌসুমী, শাবনূর, পপি তাদের লেডি অ্যাকশন ঘরানার সিনেমাগুলো থেকে কিছু শেখার সুযোগ দিয়েছিল কি? নাকি প্রয়োজনও মনে করেনি।আজকের তাড়াহুড়ো করে সিনেমা মুক্তির ট্রেন্ড দিয়ে বাজার দখলের চিন্তাই অতীতের সিনেমাকে কৌশলে পাশ কাটানোর সুযোগ করে দেয়। যদি দিতির ‘লেডি ইন্সপেক্টর’ শাবনাজের ‘অাজকের হাঙ্গামা’, মৌসুমীর ‘বিদ্রোহী বধূ, বাঘিনী কন্যা’, শাবনূরের ‘মৌমাছি’, পপির ‘কারাগার’ সিনেমাগুলো থেকে অনুপ্রাণিত হত তবে লেডি অ্যাকশনের মানসম্মত কাজ হতে পারত ‘রক্ত’।

কাহিনী সংক্ষেপঃ রক্তের গল্প সানিয়াকে (পরী মনি) নিয়ে। সানিয়া ৪ বছর আগের এক দুর্ঘটনায় নিজের স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে নূরি পরিচয়ে থাকে। নূরি সানিয়া থেকে সম্পূর্ন ভিন্ন এক মেয়ে। বাবা ও স্কুল পড়ুয়া কন্যাকে নিয়ে নূরির ছোট্ট একটা পরিবার আছে। আরেক দূর্ঘটনায় নূরি আবিষ্কার করে যে তার অতীতের কিছু ঘটনা আছে যা সে ভূলে গেছে। নূরির অতীতের রহস্যময় স্বত্বাকে আবিষ্কার করতে তাকে সাহায্য করতে চায় ভবঘুরে সাংবাদিক রোশান।

প্রথমত, স্মৃতিশক্তি হারানোর মতো জঘন্য সাবজেক্ট আর এই মূহূর্তে দ্বিতীয়টি নাই। তবু বাংলা সিনেমার উম্মাদ গল্পকাররা সেই জঘন্য জিনিস বারবার নিয়ে আসে। (নিজেদের ব্রেইন বলে কিছু নেই তো, তাই সকল চরিত্রের মধ্যেই স্মৃতিহীনতা খুঁজে)। এছাড়া ছবির গল্পের ট্রিটমেন্টও একেবারেই বিস্বাদপূর্ণ। এমন একটা গল্পের পিছনে কেবলমাত্র পাগলেই এতো টাকা ঢালবে।

সিনেমায় পরীমণির স্মৃতি হারানোর গানুগতিক গল্পে বিশেষ সময় অনুযায়ী পুরনো স্মৃতির জেগে ওঠা নিয়ে অতীত, বর্তমান হিশেব মেলানো হয়। পরীমণি জানতে চেষ্টা করে সে অাগে কি ছিল। অনেকটা পূর্বজন্মের কথা স্মরণ করানোর মতোই। এসময় রোশান অাসে প্রেমিক এবং সাহায্যকারী হিশেবে। নিজের পরিচয় খোঁজার জন্য বের হয় পরীমণি। রেখে যায় পরিবারকে। খুঁজতে গিয়েই অমিত হাসানের মাধ্যমে আর আশিস বিদ্যার্থীর চূড়ান্ত অাগমনে ক্লাইমেক্সে গড়ায়। এ অংশটিকে হিন্দি সিনেমা ‘তোমকো না ভুল পায়েঙ্গে’-র সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ভাবা যায়। একই গল্পে সালমান খান অতীত ভাবে আর নিজের পরিচয় উদ্ধারে শহরে যায়। থিমটি মাথায় রাখলে পরীমণিকে মূল প্রভাব মনে হবে। কিন্তু সিনেমা দেখতে দেখতে দর্শক রোশানকে আবিষ্কার করবে পরীমণির চেয়ে যে কোনো অংশে কম না।

পরীমণির অভিনয়ের জায়গাগুলোতে রোমান্টিক সেগমেন্ট খুব স্পর্শ করে। আবার ইমোশনাল ইমেজেও তাকে ভালো লাগে। মেয়েকে স্কেটিং করাবার সময় মেয়েটি ব্যথা পেলে নিজেকে অপরাধী ভাবে। তরকারি কাটতে গিয়ে মজা পায়। এ ধরনের সময়গুলো পরীমণি স্বচ্ছন্দ থাকে। কিন্তু অ্যাকশনের সময় তার স্বাভাবিক থেকে বাড়তি পরিশ্রমের দরকার পড়ে, বাড়তি মনোযোগের দরকার পড়ে। সেখানে পরীমণি এক্সপ্রেশনে পিছিয়ে থাকে। অাবার ঠিক ঐ একই ক্যাটাগরিতে এগিয়ে থাকে রোশান। যার ফলে রোশান অ্যাকশনের জায়গায় পরীমণির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ডমিনেটিং হয়ে ওঠে।উদাহরণ দেয়া যায়- যখন পরীমণি ও রোশান ধরা পড়ে অমিত হাসান ও আশিস বিদ্যার্থীর কাছে সেখানে হাত বাঁধা অবস্থায় পরীমণির রক্তচক্ষু যে অ্যাকশনের আবহ আনতে পারে না রোশান সেখানে হালকা মুচকি হাসিতে অমিতের সাথে কথা বলে যা অ্যাকশনঅ্যাবল লাগে। তবে রোশানকে বাঁচাতে পরীমণির স্কেটিং করা অবস্থায় ফায়ারিং সিকোয়েন্সটি দর্শককে বিনোদন দেয় যদিও তা সামান্যই। পরীমণির উপর ‘লেডি অ্যাকশন’-এর এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে আদতে রোশানকে আবিষ্কার করা একটি দুর্বল কৌশলগত সিনেমা হয়ে ওঠে ‘রক্ত’।

চিত্রনাট্য: চিত্রনাট্যকার পরিচালক নিজেই। আর পদে পদে তাই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশী চিত্রনাট্যকাররা কতটা বিস্বাদ চিত্রনাট্য লিখতে পারেন। সংলাপগুলোও ম্যাড়ম্যাড়ে। তবে ঠিক উল্টোটি ঘটেছে ছবির লোকেশন ও সিনেমাটোগ্রাফির ক্ষেত্রে। এতো সুন্দর সব শট বাণিজ্যিক বাংলা সিনেমায় খুব কমই দেখা যায়। প্রতিটা শট ঝকঝকে, স্মার্ট। যেমন সুন্দর লোকেশন, তেমনি সিনেমাটোগ্রাফি। এডিটিং দারুন কিছু হয়নি, মোটামুটি হয়েছে। এই জায়গায় আরেকটু সময় ও যত্ন অনেক ভালো ফলাফল দিতো।

পরিচালনাঃ এর আগে ওয়াজেদ আলী সুমন পরিচালনায় সুইটহার্ট সিনেমাটি বেশ দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলো। নির্মানগত দিক থেকেও অনেক ভাল ছিলো বলতে হবে। তবে এ ছবিটি সেটিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। সম্ভবত ওয়াজেদ আলী সুমনের এখন পর্যন্ত সেরা কাজ এটি। ক্যামেরার কাজ, এডিটিং, লোকেশন সব দিকেই তিনি তার সেরা টা দিয়েছেন বলা যায়। তবুও তার পরিচালনায় অসঙ্গতি ছিল ভালই। নায়ক কে তিনি সঠিক নির্দেশনা দিতে পারেন নি বলে মনে হয়েছে।

অভিনয়: এ ছবির প্লাস পয়েন্ট পরিমণীর গ্ল্যামারাস প্রেজেন্টেশন। পুরো মুভি তেই তাকে অসম্ভব সুন্দর লেগেছে। তাকে একই সাথে কোমল চরিত্র নুরী এবং এজেন্ট সানিয়ার চরিত্র যা কিনা নুরী চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি সত্ত্বা এ দুটি চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে। এ দু সত্ত্বার মাঝে প্রায়ই সংঘর্ষ বাধে এক্সিডেন্ট এর পর স্মৃতি ফিরে আসার সময়টুকু তে। যে কারণে শক্ত মনের সানিয়া ও কষ্ট পেলে কাদে কারণ তার মধ্যে কোমল মনের নুরী হারিয়ে যায়নি। অভিনয়ে পরীমণি অ্যাকশন ব্যতীত রোমাঞ্চ ও স্যাড ভার্সনে চমৎকার।

ছবির সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে নতুন জুটি রোশন-পরী মনি। এতো সুন্দর জুটি শেষ কবে দেখেছি মনে করতে পারছি না। সম্ভবত সালমান শাহ্–শাবনূর অথবা রিয়াজ-শাবনূরের পর এতো সুন্দর রোমান্টিক জুটি দেখলাম।

রোশান সত্যিই দারুণ। যেমন সুন্দর চেহারা তেমনি পুরুষালী ভয়েস্। নাচে জঘন্য, তবে অভিনয়ে বাংলা সিনেমার গতানুগতিক নায়কদের চেয়ে অনেক অনেক ভালো। তার চোখের এক্সপ্রেশন অসাধারণ। জাজ মাল্টিমিডিয়ার এখন পর্যন্ত সেরা সৃষ্টি বলাই চলে। তবে তাকে রোমান্টিক ছবিতে অভিনয়ের সূযোগ দেওয়া উচিত। অ্যাকশনের চেয়ে রোমান্টিক ছবিতে তিনি অনেক অনেক বেশি ভালো করতে পারবেন। রক্ত ছবিতে অল্প কিছু রোমান্টিক মূহূর্ত আছে যেগুলো এ ছবির প্রাণ। আর রোশান রোমান্টিক মূহূর্তগুলোতে অসম্ভব রকম উপভোগ্য। নির্মাতা হয়তো রোশানকে দেব ও শাকিব খানের ইমেজে তুলে ধরতে চাইছিলেন। কিছু কিছু দৃশ্যে তাই মনে হচ্ছিল রোশান যেন দেব ও শাকিব খানকে ফলো করছে। তবে যে সব জায়গায় স্বতন্ত্র রোশান এসেছে। সে সব জায়গায় সে অসাধারণ। একটা দৃশ্য আছে এমন যে রোশান রাস্তায় শুয়ে চাঁদের সাথে কথা বলছে। কিছুক্ষণ পর সে কল্পনা করে পরী মনিও তার পাশে এসে শুয়েছে। ঐ দৃশ্যটাই এ ছবির সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য!!

রোশান সব ক্যাটাগরিতেই নিউ কামার হিশেবে সম্ভাবনাময়। অমিত হাসান দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আশিস বিদ্যার্থী নিয়ে কথা একটাই সব ইন্ডাস্ট্রিতে দাপট দেখানোর যোগ্যতা তার আছে। সুব্রত বরাবরের মতোই ভালো। শিশুশিল্পীর অভিনয় দারুণ। অমিত হাসানের স্ত্রীর চরিত্রে থাকা গার্গীও ইম্প্রেসিভ। বিপ্লব চ্যাটার্জী পুরনো শিল্পী, যতক্ষণ ছিলেন সেরাটা দিয়েছেন। গানগুলো দর্শকপ্রিয়তার কাতারে যেতে না পারলেও প্রভাব ছিল।

চিত্রগ্রহণ এবং সম্পাদনাঃ এ ছবিতে ড্রোন ক্যামেরা ভালভাবেই ব্যাবহার করতে দেখা গেছে। ক্যামেরার কাজগুলো নজরকাড়া ছিল। দার্জিলিং এ শ্যুট হয়েছে সম্ভবত। এছাড়া সাভার আর পূর্বাচল সিটি তেও শ্যুটিং হয়েছে। আবদুল্লাহ জহির বাবু বলেছিলেন, এ ছবিতে দর্শক সিনিক বিউটি দেখতে পাবে। হয়েছেও তাই। প্রতিটি লোকেশন ই অনেক সুন্দর ছিল।

এডিটিং ভাল লেগেছে। কখনো কোন দৃশ্য ফ্যাকাসে বা ওভার এক্সপোজড লাগেনি। একদম পারফেক্ট বলা যায়।

একশন, সঙ্গীত ও অন্যান্যঃ এ ছবির সবথেকে ভাল দিক হল ফাইটিং। পরিমণী আর রোশান দুজন ই দারুণ কিছু স্টান্ট নিয়েছেন যা কিনা বাংলা ছবিতে আমি প্রথম দেখলাম। এছাড়া কোন অলৌকিক ওড়াওড়ি সিন নেই। একদম রিয়েলিস্টিক ফাইট।

গানগুলো সঠিক সময়ে এসেছে। জানতে যদি চাও ছাড়া আর কোন গান সেভাবে ভাল লাগেনি। ডানাকাটা পরি গান এর সময় দর্শক যেভাবে হাততালি আর শীষ দিচ্ছিল তাতে বুঝা গিয়েছে হলে দর্শক ভালভাবেই গানটি গ্রহণ করেছে। ছবির চারটি গানই সুন্দর। তবে নাচের গানগুলোতে নায়ক-নায়িকা দুজনেই একেবারেই বোরিং নাচ দেখিয়েছেন। তারপরও ‘জানতে যদি চাও’ ও ‘ডানাকাটা পরী’ উপভোগ্য ছিল বেশ।

উপসংহারঃ ‘রক্ত’ আধুনিক নির্মাণের যৌথ সিনেমা যার কৌশলে সীমাবদ্ধতা অাছে। কপি, অনুকরণ, অনুপ্রেরণা এসব শব্দগুলোকে সঠিক প্রয়োগের একটা দুর্বলতা রয়েই গেছে। ভবিষ্যতে এমন সিনেমা নির্মাণের অাগে নিজের ইন্ডাস্ট্রির সিনেমা পর্যবেক্ষণ জরুরি।

সবমিলিয়ে, রক্ত বেশ বড় বাজেটের বাণিজ্যিক ছবি। বেশ ভালোভাবেই বানানো হয়েছে। তবে দুর্বল গল্প ও চিত্রনাট্য একেবারে বাড়া ভাতে ছাই ঢেলে দিয়েছে। ছবিটি অ্যাকশন ছবি তো হতেই পারেনি, রোমান্টিক ছবি হওয়ার সূযোগ থাকলেও দুর্বল চিত্রনাট্যের কারণে তাও পারেনি। রোমান্টিক সিনগুলো দারুন, অ্যাকশন সিনগুলো ফালতু। তারপরও বেশ সুন্দর লোকেশন, সিনেমাটোগ্রাফি ও খুব সুন্দর এক জুটি রোশান-পরী মনির কারণে ছবিটি আমার কাছে মোটামুটি ছবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

Comments

comments

Leave a Reply

Scroll To Top
0