যাদের হাত ধরে এগিয়ে যাব, তারাই এখন দ্বন্দ্বে লিপ্তঃ তানহা তাসনিয়া

শাকিব-অপু কাহিনীর সূত্র ধরে এফডিসির শিল্পী সমিতি ও পরিচালক সমিতির মধ্যে তৈরি হয়েছে উত্তপ্ত পরিস্থিতির। এ অবস্থায় নানা বাগ্যুদ্ধের বাইরে কার্যত সিনেমা-সংশ্লিষ্ট কোনো কাজই এফডিসিতে হচ্ছে না। নবাগত অভিনেত্রী তানহা তাসনিয়া এমন পরিস্থিতির মধ্যেই তার অভিনীত প্রথম ছবি ‘ভালো থেকো’র ডাবিংয়ে অংশ নিতে এফডিসিতে যাচ্ছেন কয়েক দিন ধরে। এফডিসি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি খানিকটা হতাশ। একই সঙ্গে প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা প্রায় নিষ্ক্রিয় চলচ্চিত্রাঙ্গন, সঙ্গে তার নিজের ক্যারিয়ার নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এ অভিনেত্রী— টকিজের সঙ্গে আলোচনায় একজন নবাগত অভিনেতা-অভিনেত্রীর ওপর কর্মহীন ইন্ডাস্ট্রিজের প্রভাব, সঙ্গে অন্য আরো কিছু আনুষঙ্গিক বিষয় উঠে এসেছে এ আলাপচারিতায়। বনিক বার্তার সৌজন্যে সাক্ষাৎকারটি ফিল্মীমাইক পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

‘ভালো থেকো’ ছবির শুটিং তো শেষ। এ মুহূর্তে ছবিটি কোন পর্যায়ে আছে?

টানা কাজ করে ভালো থেকোর শুটিং শেষ করেছি আমরা। এখন চলছে ডাবিংয়ের শেষ মুহূর্তের কাজ। কয়েক দিন ধরে এফডিসিতে আসছি এ ছবির ডাবিংয়ে অংশ নিতে। আমার অংশের ডাবিং ছিল সবার শেষে। এখন মোটামুটি সব কাজ শেষ করে আনতে পেরেছি।

আপনি সম্ভবত এই প্রথম ডাবিংয়ে অংশ নিলেন। নতুন এ অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

হ্যাঁ, এটাই আমার জীবনের প্রথম ডাবিংয়ে অংশ নেয়া। ডাবিং করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। ছবির শুরু থেকেই সংশয়ে ছিলাম, অভিনয় তো মোটামুটি শেষ করলাম, কিন্তু ডাবিং করতে পারব তো! তবে ইচ্ছা যেহেতু ছিল নিজের ছবির ডাবিং নিজেই করার, সেহেতু সাহস নিয়ে তা করার চেষ্টা করেছি।

ডাবিংয়ে অংশ নেয়া কতটা সহজ মনে হলো?

মোটেও সহজ ছিল না। ডাবিং খুব কঠিন একটি কাজ। বিশেষ করে যে জায়গাগুলো বেশি ইমোশনাল। সেগুলো ঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এজন্য একাধিক চেষ্টার পর এগুলো শেষ করতে পেরেছি। এখন আর ডাবিংয়ের ভীতিটা নেই।

কথার শুরুতে বলছিলেন, বেশ কয়েক দিন টানা এফডিসিতে আসছেন। তো পরিচালক ও শিল্পী সমিতির মধ্যকার যে পরিস্থিতি বর্তমানে বিরাজ করছে, নবীন একজন অভিনেত্রী হিসেবে বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

এফডিসির ছবিতে অভিনয় করতে এসেছিলাম দারুণ এক ভালোলাগা ও স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু ক্যারিয়ারের এক বছর না পেরোতেই যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে আমাদের মতো নবীন শিল্পীদের, তা এক কথায় ভয়ঙ্কর। আমার ভেতর তো রীতিমতো হতাশাবোধ কাজ করছে। নতুন অভিনেত্রী হিসেবে খারাপ লাগছে এই ভেবে যে, যাদের হাত ধরে আমরা নবীনরা এগিয়ে যাব, তারাই এখন দ্বন্দ্বে লিপ্ত। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, হুমকি দিচ্ছেন, অসম্মানিত করছেন। ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকেই যদি এ অবস্থা দেখতে হয়, তাহলে তো সিনেমাই করা হবে না।

এফডিসিতে তো এ মুহূর্তে সিনেমা-সংশ্লিষ্ট তেমন কোনো কাজই হচ্ছে না…

আমি শেষের কয়েক দিন ধরে এফডিসিতে এসে যা দেখছি, তা মোটেও মেনে নেয়ার নয়। এ পরিস্থিতিতে এখানে তো কাজই হচ্ছে না। অথচ সামনে ঈদ। এখন এখানকার পরিবেশ আরো জমজমাট থাকার কথা।

নবীন একজন অভিনেত্রী হিসেবে বলুন, গত এক বছরে সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে কোন কোন দুর্বলতা চোখে পড়েছে। আর প্রত্যাশাইবা কী?

প্রথমত বলব, ভালো থেকো ছবিটা করতে গিয়ে আমাকে তেমন কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। নির্মাতা ছবিতে আমাকে যেভাবে চেয়েছেন, সেভাবেই করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু অন্য অনেকের ক্ষেত্রে মনে হয় ব্যাপারটা আমার মতো সুখকর ছিল না। চলমান পরিস্থিতিই তো অনেকগুলো দুর্বলতা প্রকাশ করে দিল।

Comments

comments

Scroll To Top