শুধু শিল্প দিয়ে তো আর জীবন চলে না: চঞ্চল চৌধুরী

জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন কেড়ে নিয়েছেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সে ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাচ্ছে চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত চলচ্চিত্র ‘আয়নাবাজি’। এটি নির্মাণ করেছেন অমিতাভ রেজা। এ চলচ্চিত্রে মূল চরিত্র তিনটি এবং এতে অভিনয় করেছেন আছেন- চঞ্চল চৌধুরী, নাবিলা এবং পার্থ বড়ুয়া। চলচ্চিত্রে ‘আয়না’ চরিত্রকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে গল্প। আর ‘আয়না’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। চলচ্চিত্রটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রিয়.কমের সাথে কথা বলেছেন তিনি। আড্ডার চুম্বক অংশটুকু প্রিয়.কমের সৌজন্যে সাক্ষাতকারটি  ফিল্মীমাইক পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

e8236f428e33fae1e5ca079d7639cd7d-untitled-6

আপনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, ‘আয়নাবাজি’ শুধু একটি সিনেমা নয়, একটি গন্তব্য? এ সম্পর্কে জানতে চাই।

চঞ্চল চৌধুরী: গন্তব্য মানে কি? মানুষের কাজের টার্গেট থাকে না? টার্গেট থাকে, স্বপ্ন থাকে। আমি ওই স্বপ্নের জায়গায় যেতে চাই। গন্তব্য শব্দটা আসলে সেই অর্থেই লেখা। আমার দৃষ্টিতে ‘আয়নাবাজি’ শুধু একটি সিনেমা নয়। আর আমার গন্তব্য হচ্ছে একজন অভিনেতা হিসেবে। ভালো কাজ করার। সব অভিনেতারই স্বপ্ন থাকে ভালো একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা। সেই হিসেব থেকেই গন্তব্য শব্দটি লিখেছি।

যেই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করেছিলেন, আপনি কি ভাবছেন- চলচ্চিত্রটি দেখে দর্শকদের প্রত্যাশার পারদ ঠিক কতটুকু গলতে পারে?

চঞ্চল চৌধুরী: আমার গন্তব্য কিংবা লক্ষ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি, আশা করি দর্শকদের কাছে সেটি ভালো লাগবে। মূল উদ্দেশ্য তো দর্শক। আমি একটা নাটক কিংবা ফিল্ম যা করি না কেন, দর্শককে দেখানোর জন্যে। দর্শক সেই সিনেমাটা দেখে। তারা খুশি হয়। এটাই হচ্ছে আমার স্বার্থকথা। এটাই আমার ভালো লাগা। আমি সেই জায়গা থেকেই কাজটি করেছি।

এ দিকে প্রচারণার অংশ হিসেবে ট্রেলার, গানসহ অনেক বিষয়ের মাধ্যমে দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টানতে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে?

চঞ্চল চৌধুরী: যে ছবিটা ভালো হবে, দর্শক প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি দেখবেই। আর একটা বিষয় বলে রাখা ভাল, সব ভাল ছবি যে ব্যবসা করবে সেটি কিন্তু নয়।

কিন্তু আপনার কাছে বিষয়টি কেন এমন মনে হলো?

চঞ্চল চৌধুরী: আমাদের ইন্ড্রাস্ট্রিতে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। যেমন- যে ছবি ব্যবসা করবে সেটিই বাণিজ্যিক ছবি। একটা ছবি মুক্তি পাওয়ার আগে বাণিজ্যিকভাবে সফল কি না? সেটি কে নির্ধারণ করবে? দর্শক দেখার পর সেটি বুঝা যাবে। দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেলে, খরচের টাকা উঠলে সেটি বাণিজ্যিক। আমাদের দেশে অনেক কিছুই আছে ভুল ফর্মুলা। প্রথাগত কিছু চিন্তা-চেতনার মধ্যে আটকে আছি।

ccccccc

 বিষয়টি আরেকটু বিস্তারিতভাবে বলবেন কি?

চঞ্চল চৌধুরী: এ দিকে আমরা নাটক কিংবা সিনেমার আলাদা আলাদা সংজ্ঞা করে ফেলেছি। ছবি তো দুই প্রকার, একটা ভালো ছবি, আরেকটা খারাপ ছবি। আবার সব ভালো যে বাণিজ্যিক দিক থেকে সফল হবে তা কিন্তু নয়। বর্তমান সময়ের কথা বলি, ‘আয়নাবাজি’ ছবিটি নিয়ে আমি নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি দর্শকদের কাছে ছবিটি ভালো লাগবে। দর্শক নিজে দেখার পর আরেকবার দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করবে। আরেকজনকে বলবে ছবিটি দেখার জন্যে। আয়নাবাজির প্রধান অভিনেতা হিসেবে সিনেমাটির ক্ষেত্রে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলাম। মানের ক্ষেত্রে দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে কাজ দিয়ে কিছুটা হলেও তো প্রমাণ করেছি। সেখান থেকে দর্শককে তো মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে লাভ নেই। আমি মানসম্পন্ন সিনেমা ছাড়া তো দর্শককে বলব না যে আপনারা ছবিটি গিয়ে প্রেক্ষাগহে গিয়ে দেখুন।

বিজ্ঞাপন ও টিভি নাটক নির্মাতা হিসেবে অমিতাভ রেজা অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন, অন্যদিকে ‘আয়নাবাজি’ তার প্রথম চলচ্চিত্র, সেদিক থেকে আপনার ঝুলিতে অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে কাজের সংখ্যাটাও বেশি, নির্মাতা-অভিনেতার দিক থেকে আপনাদের কাজের রসায়নটা কেমন ছিল?

চঞ্চল চৌধুরী: অমিতাভ রেজা তো একজন গুণী নির্মাতা। বিজ্ঞাপনচিত্র ও নাটকে সে অনেকদিন ধরেই মানসম্পন্ন কাজ করছে। এটা তার প্রথম সিনেমা। সেই হিসেবে তার যত্ন কিংবা যোগ্যতার জায়গায় কোনো ঘাটতি নেই। আর চিত্রগ্রাহক হিসেবে বাংলাদেশের বিখ্যাত সিনেমাটোগ্রাফার রাশেদ জামান ছিলেন। সবকিছু মিলিয়ে আন্তজার্তিক মানের একটি সিনেমা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে। দর্শক এখন সিনেমাটা হলে গিয়ে ছবিটি দেখলেই টাকা উঠে আসবে। পরিচালক কিংবা প্রযোজক আরেকটি ভালো কাজ করার সাহস পাবে। আমাদের মূল সমস্যার জায়গা হচ্ছে এইটা। দর্শকের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। ভালো কাজকে প্রচার করা। কিংবা ভালো সিনেমাগুলো দেখা। আমাদের সাথে সাথে দর্শকদের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ।

‘আয়নাবাজি’তে তো আপনাকে বিভিন্ন রূপে দেখা যাবে, আর চরিত্রের দিক থেকে প্রস্তুতির যে বিষয় কিংবা নিজের সাথে নিজের চরিত্র নিয়ে চ্যালেঞ্জ সেটি কেমন ছিল?

চঞ্চল চৌধুরী: আমার প্রত্যেকটা কাজের আগে নিজের সাথে নিজের ফাইট হয়। প্রত্যেকটা কাজকে আলাদা করি। প্রত্যেকটা চরিত্রে আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে চাই। প্রতিনিয়তই সেই বিষয়টা নিজের মধ্যে চলে। আমি সিনেমাতে যে চরিত্রটিতে অভিনয় করেছি সেটি কিন্তু অন্য কোনো নাটক কিংবা টেলিফিল্মে এর আগে কোনো দর্শক দেখেননি। এর গল্পটা আলাদা। ভিন্নতার বিষয় মাথায় রেখেই কাজটি করার চেষ্টা করেছি।

‘আয়নাবাজি’ সেই শহরের গল্প শুনাবে, যে শহরে এখনও সকালে দুধওয়ালা আসে, ফেরিওয়ালারা হাঁক-ডাক দেয়, বাচ্চারা দল বেঁধে নাটক শিখতে যায়…। তাহলে কী শুধু শহরকেন্দ্রীক জীবন এ সিনেমাতে তুলে ধরা হবে?

চঞ্চল চৌধুরী:  গ্রামের মানুষগুলো তো বাংলাদেশের বাইরের অংশ নয়। শহর বলতে আমাদের গ্রামের মানুষগুলো এক সময়ে এসে এ বিষয়গুলো ভাবে। তার মানে কি এই না? গ্রামের গল্প কি শহরের মানুষ দেখে না। আর শহুরের মানুষগুলো কই থেকে আসছে। প্রত্যেকেরই মূল তো গ্রামে। আমি হয়তো নিজেকে মনে করি শহর, কিন্তু আমাদের প্রত্যেকেরই বাবা কিংবা দাদা এর মূল গ্রামে। জীবিকার কারণে ঢাকা শহরে থাকি। তার মানে কি গ্রামের সাথে আমার কোনো সংযোগ নাই। শহরের গল্প মানে ঢাকার শহরের কিছু মানুষের গল্প।

news577ba5810b64c

ট্রেলারে তো আপনার চরিত্রটি বেশ রহস্যধর্মী দেখানো হয়েছে?

চঞ্চল চৌধুরী: আচ্ছা একটা বিষয় একটি সিনেমা দেখতে দর্শক কেন প্রেক্ষাগৃহে যায়? কারণ তারা এ সিনেমাটি এর আগে কখনও দেখে নাই। নতুন একটা গল্প তারা আশা করে। চমৎকার গল্প, দারুণ নির্মাণশৈলী। সেই ধারাবাহিকতায় আমি দর্শককে একটা কথাই বলব, ট্রেলার দেখে দর্শকদের যতোই ভালো লেগেছে, সেটির পূর্ণাঙ্গটা ভালো লাগাটা পাবেন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি দেখলে। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন চরিত্রের মতন, প্রত্যেকটার মানুষই তো নিজস্ব একটা চরিত্র রয়েছে। বেঁচে থাকার জন্যে। এটাও মানুষের জীবনচরিত কিছু একটা ঘটনা। হয়তো এ ঘটনাগুলো দর্শকদের কাছে কারও জানা কিংবা অজানা। সেটি একটা ভিন্ন আঙ্গিকে কিংবা নতুন একটি গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

‘আয়নাবাজি’ সংখ্যার দিক থেকে স্বল্পসংখ্যক সিনেমা হলে মুক্তি পাবে। পরিচালক আর প্রযোজক বলেছেন, আমরা কমসংখ্যক সিনেমা হলে মুক্তি দিচ্ছি, কিন্তু যখন একজন দর্শক সিনেমাটি দেখে যখন বেরিয়ে আসবে, তখন আরেকজনকে উৎসাহিত করবে সিনেমাটি দেখার জন্য। এই যে আত্মবিশ্বাসের জায়গা, সেটি কেন?    

চঞ্চল চৌধুরী: আমাদের এখানে বর্তমানে সিনেমার বাজারটা ভালো না। কথাটা একেবারে ব্যবসায়িক জায়গা থেকে বলছি। তবে এ সিনেমায় আমি শুধু একজন আর্টিস্ট মাত্র। একজন পরিচালক যখন ১ কিংবা ২ কোটি টাকা খরচ করে সিনেমাটি বানায়, সে টাকা তুলতে না পারলে হবে কি করে? শুধু শিল্প দিয়ে তো আর জীবন চলে না! আর সিনেমা শুধু যে বিনোদনের জন্য বানাবে তা তো নয়, টাকাটাও তোলার ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশের সিনেমার যে বাজার, তাতে কয়টা হলে ছবিটি দিলে চলবে সেটি তাদের বিবেচনার বিষয়। ভালো সিনেমা দরকার আমাদের শিল্পের জন্যে। আমাদের এতদিনের সিনেমা শিল্প, সেই জায়গাটা আস্তে আস্তে নিম্মমুখী হচ্ছে। যে ধরনের সিনেমা হচ্ছে সেটি তো আমাদের সিনেমা না। এসব আমাদের কালচারের সঙ্গেও যায় না। এটার মধ্যে আমাদের দেশ, রাজনীতি কিংবা পারিপাশ্বিকর্তার ছোঁয়াও নেই। আমরা যে ভাবনা থেকে কাজটি করেছি, সেটার ফোকাসের জায়গাটা কিন্তু অনেক বড়। আমরা যে ধরনের সিনেমাতে কাজ করতে চাই অবশ্যই  ভালো সিনেমায় কাজ করতে চাই। বাণিজ্যিক দিকটা আগে মাথায় নিই না। আমরা যে সিনেমাতে কাজ করতেছি সেটি আমাদের কাছে আগে প্রধান। আমাদের খুব বেশি ভাল সিনেমা কিন্তু বছর বছর আসে না।

শুটিংয়ের সময় তো কত ধরনের ঘটনাই ঘটে থাকে, এ সিনেমার শুটিংয়ের সময় সেরকম কোনো ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা ঘটেছে কি?

চঞ্চল চৌধুরী: এ রকম ঘটনা তো কিছু আছেই। তবে এই বিষয়টা না বললেই নয়, ‘আয়নাবাজি’ সিনেমাতে অভিনয় করতে গিয়ে তিনটি কারাগারে আমি শুটিং করেছি। এর মধ্যে কাশিমপুর কারাগার, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ কারাগার (তখনও এর কার্যপ্রক্রিয়া শুরু হয়নি)। এটা আমার কাছে মনে হচ্ছে বিচিত্র অভিজ্ঞতা। আগে তো শুধু গেটের বাইরে থেকে দেখেছি। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সামনাসামনি দেখা, কনডেম সেলে শুটিং করা, ৩০-৪০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামির সাথে সরাসরি সামনা-সামনি দাঁড়িয়ে কথা বলা।

আসামিদের মধ্যে হয়তো গুটিকয়েকজন বাদে তারা আপনাকে এর আগে কখনও সরাসরি দেখেননি, দেখার পর তাদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

চঞ্চল চৌধুরী: যারা আসামি তাদের শাস্তি দেওয়া হয় সংশোধন করার জন্যে। এক ধরনের ভীতি তো কাজ করেই। ডায়লগ বলার সময় তার সামনে আমি কীভাবে দাঁড়াব! সে যদি আমাকে আঘাত করে। এক ধরনের আতঙ্ক তো কাজ করেছেই। এরা তো মানুষ। হয়তো জীবনের কোনো কারণে বিপথে গিয়ে খারাপ কাজটি করার জন্য আজ তার এ অবস্থা হয়েছে। যদিও আমাদের সাথে যথেষ্ট নিরাপত্তা ছিল। এ ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা যে রুমগুলোয় থাকেন সেখানে আমরা শুটিং করেছি। এটাকে কি বলব, লোহমর্ষক একটা অভিজ্ঞতা। আর সেখান কাজ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল আসল লোকেশনে গেলে যাতে সত্যিকারের অনুভূতিটা পাওয়া যায়।

এ ছবিতে আপনার সহ-শিল্পী নাবিলা। তিনি তো উপস্থাপক, বেশ সুনামও রয়েছে। তবে নিয়মিত অভিনয় করেন না, তার সাথে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

চঞ্চল চৌধুরী:  আমি সব সময় ডিরেক্টর আর্টিস্ট। তার প্রতি আমার ১০০ ভাগ আস্থা থাকে। তাদের প্রতি সেই আস্থা থেকেই কাজটা করি। পরিচালককে সেই যোগ্যতার আসনে বসিয়েই আমি কাজটা করি। নাবিলাকে এ ছবিতে নেওয়ার মূল কারণ হচ্ছে নাবিলা যে চরিত্রে অভিনয় করেছে, সেই চরিত্রের জন্য উপযুক্ত সে। আর নাবিলার কাজ থেকে যতটুকু অভিনয় পাওয়া দরকার সেটি অমিতাভ রেজা এ ছবিতে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। নাবিলা চরিত্রের প্রয়োজনে যা যা করণীয় তা তা করতে পেরেছে।

ট্রেলার প্রকাশিত হওয়ার পরে দর্শকদের মধ্যে এক ধরনের অপেক্ষা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তারা সেই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছেন যে, কখন তারা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি দেখবেন! তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চান?

চঞ্চল চৌধুরী:  একটি ছবিকে ঘিরে অনেক কষ্ট, ত্যাগ এর ইতিহাস থাকে। যেমন এ ছবিটির শুটিং থেকে শুরু করে ডাবিং শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রায় ৫-৬ মাস সময় লেগেছে। দর্শকরা জানেন না, আমরা যখন সিনেমাটি করতে যাই, বাজেটের দিক থেকে আসলে আমরা ভালো জায়গায় ছিলাম না। ধরতে গেলে আমার নাটকের ৬ মাসের যত কাজ সেগুলো বাদ দিয়ে কাজটি করতে হয়েছে। আমাকে আয়-রোজগারের জায়গা থেকে অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়েছে। কিন্তু আমার কাজ শেষ হলেও পরিচালক এর কাজ এখনও শেষ হয় নাই। একটাই উদ্দেশ্য পরিচালক যাতে প্রযোজকের টাকাটা তুলতে পারেন। শুধু দর্শকদের জন্য একটি ভাল কাজ করার জন্য এসব সামর্থ আমরা দেখিয়েছি। দর্শক যদি হলে এসে এ ছবিটা দেখে তাহলে আমরা স্বার্থক হব। ‘আয়নাবাজি’ অন্য ১০-২০টার ছবির মতো না। প্রথমে দর্শকের এ বিষয়টা মাথায় নিতে হবে।  এটা নিশ্চয়তা দিতে পারি ছবিটা সবার ভালো লাগবে। তবে প্রেক্ষাগৃহে এসে ছবিটা দেখতে হবে। দর্শক সিনেমা হলে এসে ছবি দেখলেই আরও ভাল ভাল ছবি নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

শেষ প্রশ্ন, নতুন কোনো চলচ্চিত্রে কি অভিনয় করছেন, কিংবা পরিকল্পনা রয়েছে কি?

চঞ্চল চৌধুরী: আমি তো কখনোই সিনেমায় নিয়মিতভাবে কাজ করি না। আর ব্যস্ততার সাথে কাজ করছি শেষ দশ বছর। এখন মাসে ২৫-৩০ দিন শুটিং করছি। আর আমি সেখানে সিনেমা করেছি মাত্র পাঁচটা। এটার কারণ হচ্ছে আমি যে কাজগুলো করতে চাই, সেটি যেন আমার মানসম্পন্ন কাজ হয়। সেটির মান যেন একেবারে আলাদা থাকে। প্রত্যেক বছরে দু-তিনটা করে সিনেমা করা সম্ভবও নয়। আমি আমার কোয়ালিটির জায়গা থেকে কোনোভাবেই ছাড় দিতে রাজি নই। আমার যে দর্শক-ভক্তরা আমার কিছু ভালো কাজ দেখে অভ্যস্থ তাদের সে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে কাজটি করতে চাই। আমি ভালো ছবির অপেক্ষায় আছি, থাকব। সেটি ছয় মাস, এক বছর কিংবা দুই বছর কিংবা তারও বেশি সময়  হতে পারে। ভালো ছবি যতদিন না পাব, ততোদিন সিনেমা করব না।

Comments

comments

Leave a Reply

Scroll To Top