সেই বিতর্কিত রানি পদ্মাবতী সত্যিই কি ছিলেন?

কয়েকদিন ধরেই খবরের শিরোনামে রানি পদ্মাবতী। সৌজন্যে, সঞ্জয় লীলা বনশালি ও কর্ণি সেনা। একজন রাজপুত্র ইতিহাসের একটি অধ্যায়কে সেলুলয়েডে তুলে আনতে চাইছেন। অন্যদিকে কর্ণি সেনার দাবি, বিকৃত হচ্ছে ইতিহাস। তাই নিয়ে চলছে সমালোচনা। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো সরগরম গোটা ভারত। কিন্তু কে এই পদ্মাবতী? আদৌ কি তিনি ছিলেন?

এ নিয়ে রীতিমতো সন্দেহ আছে ইতিহাসবিদদের মধ্যেও। পিছনে তাকালে দেখা যাচ্ছে, পদ্মাবতীর কথা প্রথম উঠে আসে মালিক মুহম্মদ জায়সি নামে এক আওয়াধি কবির কবিতায় (পদ্মাবৎ)। ১৩০৩ খ্রীষ্টাব্দে তুর্কি সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি দীর্ঘ যুদ্ধের পর চিত্তোর দখল করেন। আর এ কবিতা লেখা হয় তারও ২০০ বছর পর (১৫৪০)। পরবর্তীকালে এ কবিতায় কথিত কাহিনিকেই আপন করে নেয় চিত্তোরের মানুষ।

কাহিনি থেকে জানা যায়, রানা রতন সিংয়ের স্ত্রী ছিলেন সুন্দরী পদ্মাবতী। রানার দরবার থেকে বহিষ্কৃত এক রাজকর্মচারীই সুলতানের কানে রানির সৌন্দর্যের গুণকীর্তন করেন। শুনেই মুগ্ধ হন আলাউদ্দিন। কোনভাবে একবার রানিকে দেখেও ফেলেন তিনি। আর তারপরই চিত্তোর আক্রমণ। আলাউদ্দিন আটক করে রানা রতন সিংকে। পদ্মাবতীর কাছে শর্ত পাঠানো হয়, যদি তিনি সুলতানের সঙ্গে আসেন, তাহলে ছেড়ে দেওযা হবে রানাকে। পরিবর্তে রানি ৭০০ সেনা পাঠায় সুলতানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু শেষমেশ পরাজিত হতে হয় রানাকে। সুলতানের হাতে তাঁর মৃত্যুও হয়। জহরব্রত পালন করেন রানি পদ্মাবতী।

এই হল রানি পদ্মাবতীর কাহিনি। রাজপুতদের কাছে তা অত্যন্ত সম্ভ্রম ও গর্বের। এই ঐতিহ্য তাই তাঁরা সংরক্ষণ করে চলেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম। কিন্তু বহু ইতিহাসবিদই রানি পদ্মাবতীর অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিগ্ধ। কেননা রাজপুত্র বা সুলতান সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক দস্তাবেজে রানি পদ্মাবতীর কোন উল্লেখ পাওয়া যায় না। এছাড়া জয়সির কবিতা বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ফলে বদলে গেছে কাহিনি। শেষে যা পাওয়া গেছে তা আদৌ ঐতিহাসিক কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ইতিহাসবিদরা এর আগেও জানিয়েছেন, জয়সির কবিতা পুরোটাই প্রতীকী। ফলে আদৌ রানি পদ্মাবতী নামে কেউ ছিলেন কিনা, তা নিয়ে খানিকটা সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

Comments

comments

Scroll To Top