সালমানের মৃত্যু থেকে বর্তমান বাংলা চলচ্চিত্রের হালখাতা (দ্বিতীয় পর্ব)

প্রথম পর্ব এর ধারাবাহিকতায় যারা লেখাটি এখন পড়ছেন, হয়ত ভাবছিলেন এই লোকটার নাম কেন আসেনি। এসেছেন তিনি।

বাংলা চলচ্চিত্রের অক্ষয় কুমার ছিল রুবেল। তার চলচ্চিত্র গুলো অনেক জনপ্রিয় ছিলো। তার চলচ্চিত্রের ধাঁচ ছিলো পুরা ভিন্ন, তার দর্শক ছিলও সবাই। মানুষ পছন্দও করত রুবেলের অভিনয়। মারামারি। সাবলিল বাচন ভঙ্গি। নাচ। ঘৃণা, ভন্ড, বিচ্চু বাহিনী,যোদ্ধা, পাগলা ঘণ্টা, লম্পট এই চলচিত্র গুলো দেখলেই বুঝবেন, রুবেলের চলচিত্রের ভাইভ কেমন ছিল। রুবেলের বেশ কিছু চলচ্চিত্রের স্বরনীয় থাকবে,এটি এম শামসুজ্জামান, হুমায়ন ফরিদীর সাথে তাদের কমন কমিক ট্রাই এঙ্গেল। এবং রাজিব অবশ্যই খল নায়ক।

রুবেলের উত্তর সূরি বানানো হলো তার হাতের ট্রেইন্ড আলেকজান্ডার বোকে। লোকটার প্রতিভার অভাব ছিলো না/ ম্যাডাম ফুলি বো’র একমাত্র সফলতা। গুরু রুবেল আর শিষ্য বো দুজনেই হারিয়ে গেলো অশ্লীলতার ভীরে। আমার মাথাতে আজো খটকা লাগে, রুবেল কেন অশ্লীল চলচ্চিত্র ঝুকে পড়লেন?

ইলিয়াস কাঞ্চনকে বাদ দিয়ে গেলাম। তিনি সালমানের অনেক আগের। তার সোনালী সময়ের সমাপ্তিও সালমান আসার আগেই। সালমান সমসাময়িক সময়ে তার দুটি হিট চলচ্চিত্র। আদরের সন্তান, কমান্ডার।

গত দশ বিশ বছরে অনেক নায়ক এসেছিল বাংলাছবিতে। আসছে এখনো। ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম, শাহিন আলম, মেহেদি আসিফ ইকবাল,(এরা অশ্লীল ছবি করলেও সূচনা করেছিল ভালো ছবি দিয়েই) ফারদিন, নিরব, ইমন, আরেফিন শুভ এবং অনন্ত জলিল। এদের কয়েকজন এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছে। পেরে ঊঠছে না।

যতগুলা নায়কের নাম আছে আমার লেখাতে তাদের ভিতরে মাত্র তিনজন পারিবারিক ভাবে চলচ্চিত্র এসেছেন বলে আমার জানা মারুফ, রুবেল আর বাপ্পারাজ। অন্যরা প্রত্যকে নিজের কষ্টে খাটনিতে আজকের অবস্থানে এসেছে।

যেই বাংলা সিনেমাতে একসময় রাজ্জাক ওয়াসিম, ফারুক, সোহেল রানা,আলমগীর, জসিম, সালমান, রিয়াজ, মান্না রাজত্ব করেছে, সেখানে জায়েদ খান!!! বাপ্পি!!!! না আমি তাদের খারাপ বলছি না। অসন্মান ও করছি না। শুধু বলছি যে, তারা অভিনয় পারে না। জায়েদ খান ভিলেন হলে ভালো করত, আর বাপ্পি ভালো হতো (হয়ত) নায়িকা হলে। বিশ্বাস করেন, তাহসান তাদের থেকে অনেক ভালো বড় পর্দার নায়ক হতে পারবে।

একটা সময় ছিল। ৪০ টাকা দিয়ে ডিভিডি ভাড়া করে,ডিস্ক ভাড়া করে এনে বাড়ি বসে বাংলা ছবি দেখতাম। আমি এখনো বাংলা ছবি দেখি বসে বসে। হাসি লাগে তাও দেখি। শাহরুখ খানকে চেনার আগে সালমান শাহ ওমর সানি, ইলিয়াস কাঞ্চন, জাফরইকবাল এদেরকেই চিনেছি। বাংলা ছবির প্রতি আমার টান অদম্য। আমি চাই বাংলা সিনেমার সুদিন ফিরুক। আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম বাংলা ছবি কে হাস্যকর উপাদান না ভেবে আমোদের উপকরন ভাবুক। ভাবুক অবসরের বিনোদনের উপলক্ষ।

বাংলা চলচ্চিত্র, বাংলাদেশের নায়কেরা আমাদের গর্ব। হলিউড, বলিউডের নায়কেরা আমাদের গর্ব নয়। পাশের দেশের ছবি দেখে সবাই যখন হাততালি দেই, আমাদের চলচিত্র দেখে সেখানে সবাই হাসে। খুব খারাপ লাগে।

কারা দ্বায়ি? দর্শক দায়ি হবার কথা না। দর্শককে যা গিলাবেন তাই গিলবে। দায়ি মানহীন পরিচালকেরা, মানহীন কাহিনীকারেরা। দায়ি স্বার্থপর প্রযোজকেরা। অভিনেতা প্রফেশনাল,যত টাকা তত নাচ। সেই সময়কার পরিচালকেরা হারিয়ে গেছে। শহিদুল ইসলাম খোকন, মতিন রহমান, ছোটকু রহমান, এম এ হান্নান, কাজি হায়াত, এরা হারিয়ে গেছেন। নতুন পরিচালক এসেছে, কিন্তু তারা পারেনি এদের শুন্যস্থান গুলো পূরণ করতে। তারা ভাবে ক্যামেরার পিছনে দাঁড়ালেই সম্ভব পরিচালক হওয়া। টাকা থাকলেই সম্ভব চলচিত্র প্রয়োজক হওয়া। বাপ কোটিপতেই হয়ে যাওয়া যাই সিনেমার নায়ক।

আমি বাংলা চলচ্চিত্রের একজন পুরাতন দর্শক। সুতরাং থেকে সর্বনাশা ইয়াবা সবিই দেখি। আর অপেক্ষা করি বাংলাদেশের চলচিত্র ( মেইন ফ্রেমের) সুদিন একদিন আসবে। তবে মহানায়ক সালমানের ফাঁকা স্থান অপূরণীয়য় থাকবে আজীবন। ফাঁকা থাকবে এংরি ম্যান মান্নার জায়গাও। দুটি মৃত্যি কি তাহলে পুরা বাংলাচলচিত্রের মৃত্যু??

অপেক্ষাতে আছি। সুদিন আসবে। বাংলা চলচ্চিত্র আবার জাগবে।

প্রথম পর্বঃ সালমানের মৃত্যু থেকে বর্তমান বাংলা চলচ্চিত্রের হালখাতা (প্রথম পর্ব)

Comments

comments

Scroll To Top
0