MI: টম ক্রুজের ইম্পসিবল মিশনের গল্প

২০১৫ সালের জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে মুক্তি পায় অ্যাকশন-স্পাই জনরার মুভি সিরিজ মিশন: ইম্পসিবল-এর পঞ্চম সিনেমা— মিশন: ইম্পসিবল- রগ নেশন। বরাবরের মতো তাতেও নায়ক এবং প্রযোজক টম ক্রুজ। সিরিজের প্রথম তিনটি সিনেমায় তার সঙ্গে প্রযোজক ছিলেন পলা ওয়াগনার। আর শেষ দুটি সিনেমায় তার সহ-প্রযোজক জে জে আব্রামস এবং ব্রায়ান বার্ক। এই পঞ্চম সিনেমাটিতে প্রযোজক হিসেবে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ডেভিড এলিসন।

আদি মিশন ইম্পসিবল

মিশন: ইম্পসিবল মুভি সিরিজটি বানানো হয়েছে একই নামের টেলিভিশন সিরিজের কাহিনির ভিত্তিতে। মিশন: ইম্পসিবল নামের টিভি সিরিজটি সিবিএস টেলিভিশন চ্যানেলে চলেছিল ১৯৬৬-৭৩ পর্যন্ত। ৭ সিজনের সিরিজটিতে ৫০ মিনিটের মোট ১৭১টি পর্ব ছিল। প্রথম সিজন প্রযোজনা করেছিল ডেসিলু প্রোডাকশন। পরের সিজনগুলো প্রযোজনা করে প্যারামাউন্ট টেলিভিশন। মিশন ইম্পসিবলের প্রথম সিজনে আইএমএফ-র প্রধান ছিলেন ড্যান ব্রিগস (স্টিভেন হিল)। দ্বিতীয় সিজন থেকে সে দায়িত্ব বর্তায় জিম ফেল্পস-র (পিটার গ্রেভস) কাঁধে। সিরিজটি ১৯৬৭-৭২-এর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৮টি এমি এবং ৩টি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড জেতে।

১৯৮৮ সালে এবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক টিভি সিরিজটি আবার চালু করে। তারা নতুন দুইটি সিজন প্রচারও করে। তবে তেমন সুবিধা করতে পারেনি।

টিভি সিরিজ থেকে সিনেমা

টিভি সিরিজের কাহিনির ভিত্তিতে মিশন: ইম্পসিবল সিরিজের প্রথম সিনেমা মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালে। মুভি সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইথেন হান্ট (টম ক্রুজ)। ভালো ব্যবসা করলেও, সিনেমাটিকে বেশ কিছু বিরূপ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে চিত্রনাট্যের কয়েকটি জায়গায় টিভি সিরিজের ভক্তরা রুষ্টই হয়। সবচেয়ে সমালোচনা হয়, টিভি সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র জিম ফেল্পসকে খলনায়ক বানিয়ে দেয়ায়।

সিনেমাটিতে ফেল্পস বিশ্বাসঘাতকতা করে সরকারি এজেন্টদের তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে ফাঁস করে দেয়। চরিত্রটির এই রূপান্তর পছন্দ হয়নি বলে, টিভি সিরিজে ফেল্পস চরিত্রে অভিনয় করা পিটার গ্রেভস সিনেমায় চরিত্রটি করতে রাজি হননি। টিভি সিরিজের আরেক অভিনেতা গ্রেগ মরিস তো সিনেমাটি দেখতে গিয়ে সিনেমা শেষ না করেই হল থেকে বেরিয়ে যান। আরেক অভিনেতা মার্টিন ল্যান্ডাউ অবশ্য সমালোচনা করেন অন্য একটি বিষয় নিয়ে। তার মতে, সিনেমাটি ঠিক দলগত মিশন কেন্দ্রিক নয়, বরং অনেক বেশি এককেন্দ্রিক হয়ে গেছে। আর মিশনটিও ঠিক মিশন হয়ে উঠতে পারেনি। মিশন আরও বেশি মানসিক হতে হয়। তা আরও গোপনে হতে হয়।

মিশন: ইম্পসিবল ২-৩-৪

২০০০ সালে মুক্তি পায় সিরিজের দ্বিতীয় সিনেমা মিশন: ইম্পসিবল টু। এটিকে বলা হয় সিরিজের সবচেয়ে দুর্বল সিনেমা। সিনেমাটি সবচেয়ে বাজে সিক্যুয়াল ক্যাটাগরিতে গোল্ডেন রাস্পবেরি অ্যাওয়ার্ডও জিতে নেয়! সিনেমাটির কাহিনি নিয়েও নানা রকম সমালোচনা আছে। বিশেষত ১৯৪৬ সালে মুক্তি পাওয়া আলফ্রেড হিচককের স্পাই-থ্রিলার নটোরিয়াস-এর কাহিনির সঙ্গে ২ নম্বর মিশন ইম্পসিবলের কাহিনির বেশ মিল পাওয়া যায়।

মুভি সিরিজের পরের দুইটি সিনেমা মিশন: ইম্পসিবল থ্রি এবং মিশন: ইম্পসিবল- গোস্ট প্রটোকল মুক্তি পায় যথাক্রমে ২০০০ ও ২০০৬ সালে। দুটি সিনেমাই বেশ প্রশংসিত হয়। বিশেষ করে বৈশ্বিক পারমাণবিক যুদ্ধ নিয়ে বানানো গোস্ট প্রটোকল বেশ প্রশংসা কুড়ায়। সিনেমা দুটি ব্যবসাও করে ভালোই।

পঞ্চম কিস্তি রগ নেশন

২০১৫ সালে মুক্তি পায় সিরিজটির পঞ্চম সিনেমা মিশন: ইম্পসিবল- রগ নেশন। সিনেমা হলে দর্শকদের সাড়া এবং পত্র-পত্রিকায় ব্লগে-ওয়েবসাইটে সমালোচকদের সাড়া দুই-ই পায় ভালো। সমালোচকরা সিনেমাটির থ্রিল নিয়ে উচ্ছ্বসিত, কাহিনিরও প্রশংসা করছেন। টম ক্রুজ এবং রেবেকা ফার্গুসন— দুজনেরই অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। তবে কয়েকজন সমালোচকের দাবি, তাদের দুজনেরই অভিনয় ভালো হলেও, তাদের মধ্যে কেমিস্ট্রিটা ঠিক জমেনি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তো তাদের মধ্যকার কেমিস্ট্রি সম্পর্কে লিখেই দিয়েছে জিরো কেমিস্ট্রি

আর সিনেমাটি মুক্তি পেতে না-পেতেই প্রযোজনা-পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট পিকচার্স সিরিজের ষষ্ঠ সিনেমার ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে।

Comments

comments

Scroll To Top