অভিনয় ছাড়ছেন মিশাঃ নেপথ্যে শাকিব-ফারুক সমঝোতা?

তিন দশকের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার ইতি টানছেন ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা সওদাগর। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি আর অভিনয় করবেন না। তবে জানালেন হঠাৎ করেই নয়; অনেক ভেবে চিন্তেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানালেন তিনি। কিন্তু কেন মিশার এমন সিদ্ধান্ত?

দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাক্ষাতকারে মিশা সওদাগর এমন তথ্য জানিয়েছে। তিনি বলেন, আমি অনেক ভেবেচিন্তে কথাগুলো বলছি, অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চলচ্চিত্রে অনেক দিন তো হলো, এবার নিজের জন্য একটু সময় দিতে চাই। মহরত, শুটিং, ডাবিং, প্রিমিয়ার -এসব করেই তো জীবনের অনেকটা সময় পার করে দিয়েছি।

তবে ঢাকাই চলচ্চিত্রে গুঞ্জন মিশার সিনেমা থেকে বিদায় নেয়ার নেপথ্যে শাকিবের সাথে চলচ্চিত্র পরিবারের সমঝোতা! কিছুদিন আগে শাকিবের সঙ্গে ঝামেলা মিটে যাওয়ায় চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক ফারুক ও শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানও বেশ উচ্ছ্বসিত। শাকিবকে নিজেদের পরিবারের মানুষ হিসেবে বিভিন্ন সময় বিবৃতিও দিয়েছেন তারা। ক’দিন আগে শাকিবকে নিয়ে তাদের যে শক্ত অবস্থান ছিলো এ যেনো ঠিক তার উল্টো! অথচ শাকিবের মিটমাট ইস্যুতে রীতিমত চুপ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও খল অভিনেতা মিশা সওদাগর। আর এরমধ্যে হঠাৎ অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় এখন মিশা!

অনেকে মনে করছেন শাকিবের সঙ্গে চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক ফারুক ও জায়েদ খানের সঙ্গে সব ঝামেলা চুকিয়ে ফেলেছেন শাকিব খান। শাকিবকে তারা একেবারে নিজের করে নিয়েছেন। বিগত কয়েকদিনে প্রচারমাধ্যমে তাদের স্টেটমেন্ট দেখে এমনটাই মনে হচ্ছে অনেকের। হয়তো এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না মিশা। ভেতরে ক্ষোভ চেপে তাই নিজেই চলচ্চিত্রকে বিদায়ের পরিকল্পনা করছেন।

এ প্রসঙ্গে মিশা বলেন, “আমি টাকার জন্য বাঁচতে চাই না, নিজের জন্য বাঁচতে চাই। একই ধরনের চরিত্র, প্রায় একই ধরনের সংলাপ। আর কত? কোনো বৈচিত্র্য নেই। বৈচিত্র্যহীন কাজ করতে আর চাই না। চলচ্চিত্রকে আর পেশা হিসেবে দেখব না। যদি আমার বয়স আর সময় বুঝে কেউ তেমন কোনো চরিত্র নিয়ে আসে, আর তা যদি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে তেমন কাজ হয়তো মাঝে মাঝে করব। কিন্তু পেশা হিসেবে আর নয়।”

এদিকে হাতে থাকা ছবিগুলোর কাজ এই বছরেই শেষ করবেন বলে জানান মিশা। তিনি বলেন, “কারও সঙ্গে আমার কোনো বৈরিতা (শত্রুতা) নেই। এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। আমি চলচ্চিত্র ছাড়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেটি একেবারেই চূড়ান্ত।”

১৯৮৬ সাল থেকে মিশা সওদাগর চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। এফডিসি আয়োজিত নতুন মুখ কার্যক্রমে নির্বাচিত হন তিনি। ছটকু আহমেদ পরিচালিত চেতনা ছবিতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন ১৯৯০ সালে। এরপর অমরসঙ্গী ছবিতেও তিনি নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন, কিন্তু দুটোর একটিতেও সাফল্য পাননি।

পরবর্তীতে বিভিন্ন পরিচালক তাকে খল চরিত্রে অভিনয়ের পরামর্শ দেন এবং তমিজ উদ্দিন রিজভীর ‘আশা ভালোবাসা’ ছবিতে ভিলেন চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। সেখান থেকেই তার সাফল্য শুরু। এরপর প্রায় ৯০০ ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন এ খল নায়ক।

Comments

comments

Scroll To Top