‘Now You See Me 2’ (2016) মুভি রিভিউ

চলচ্চিত্রের নামঃ ‘Now You See Me 2’ (2016) বিশ্বব্যাপী মুক্তিঃ ১০ই জুন ২০১৬ অভিনয়েঃ ডেনিয়েল রেডক্লিফ, জেসেস আইসেনবার্গ, লিজ্জি ক্যাপ্লান, দেভ ফ্রাঙ্কো, মার্ক রুফালো, মর্গান ফ্রিম্যান, জেয় চোও, সানা লথান সহ আরো অনেকে। পরিচালনাঃ জন এম চু প্রযোজনাঃ লাওন্স গেট এবং সামিট এন্টারটেইনমেন্ট কাহিনিঃ এড সলোমন এবং পেটে চার্লেই চিত্র্যনাট্যঃ এড সলোমন সম্পাদনাঃ স্টেন সেলফাস …

Review Overview

পরিচালনা
কাহিনী
চিত্র্যনাট্য
চিত্রগ্রহন
সম্পাদনা
অভিনয়

Summary : সব মিলিয়ে এবারের পর্ব একটি একক মুভি হিসেবে যথেষ্ট পরিমাণে অসাধারণ ও মাইন্ডব্লোলিং কিন্তু ‘Now You See Me’ মুভির সিক্যুয়াল হিসেবে এটি অনেকাংশেই প্রত্যাশা পুরণে ব্যর্থ। তবে এ মুভির সব থেকে বড় টুইস্ট হচ্ছে এ মুভির ম্যাজিক ট্রিক গুলো নয় বরং ‘থাডিয়াস’ ও ‘ওয়াল্টার’ এই দুই চরিত্র।

User Rating: 4.9 ( 2 votes)
76

চলচ্চিত্রের নামঃ ‘Now You See Me 2’ (2016)

বিশ্বব্যাপী মুক্তিঃ ১০ই জুন ২০১৬

অভিনয়েঃ ডেনিয়েল রেডক্লিফ, জেসেস আইসেনবার্গ, লিজ্জি ক্যাপ্লান, দেভ ফ্রাঙ্কো, মার্ক রুফালো, মর্গান ফ্রিম্যান, জেয় চোও, সানা লথান সহ আরো অনেকে।

পরিচালনাঃ জন এম চু

প্রযোজনাঃ লাওন্স গেট এবং সামিট এন্টারটেইনমেন্ট

কাহিনিঃ এড সলোমন এবং পেটে চার্লেই

চিত্র্যনাট্যঃ এড সলোমন

সম্পাদনাঃ স্টেন সেলফাস

সিনেমাটোগ্রাফীঃ পিটার ডেমিং

সংগীতঃ ব্রায়ান টেইলার

ভূমিকাঃ এখনকার সময় হলিউড মানেই হচ্ছে সিক্যুয়াল মুভির বাজার। কোন একটা মুভি হিট হলেই মেকাররা তার সিক্যুয়াল বানানোর পরিকল্পনা শুরু করে, সেটা যতই অগা, মগা, বগা মুভি হোক না কেন। তবে এত মুভির ভিড়ে কিছু কিছু মুভি থাকে যেগুলো সত্যিকার অর্থেই সিক্যুয়াল ডিজার্ভ করে, যেমনটা ছিল ২০১৩ সালে রিলিজ পাওয়া সারপ্রাইজ হিট মুভি ‘Now You See Me’। সেই মুভির মূল প্রাণ ‘ফোর হর্সমেন’কে দর্শক এতটাই ভালবেসে ফেলেছিল যে তাদের আরো একবার পর্দায় ফিরিয়ে আনার জন্য মেকারদের মোটেই দোষ দেয়া যাবে না।

প্রথম পর্বের সকল চরিত্র এবারের পর্বেও পুনরায় ফিরে এসেছে সেই সাথে যোগ হয়েছে কিছু সারপ্রাইজ নিউ ক্যারেক্টার যারা এ মুভির আবেদনকে শত গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। ‘ফোর হর্সমেন’ হিসেবে খ্যাত ‘জেসি আইজেনবার্গ’, ‘উডি হ্যারেলসন’ ও ‘ডেভ ফ্রাঙ্কো’ বরাবরের মতই এ পর্বে আছে, কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে প্রথম পর্বের ৪র্থ হর্সম্যান ‘ইসলা ফিশার’কে এ পর্বে দেখা যাবে না কারণ সে প্রেগনেন্সির কারণে এই মুভির অফার ফিরিয়ে দিয়েছে। তার স্থানে স্থলাভিষিক্ত হয়েছে নতুন হর্সম্যান (‘মিন গার্লস’, ‘ক্লোভারফিল্ড’, ‘হট টাব টাইম ম্যাশিন’, ‘১২৭ আওয়ার্স’ ও ‘দ্য ইন্টারভিউ’ খ্যাত) ‘লিজি ক্যাপলান’। এছাড়াও ‘ফোর হর্সমেন’ এর লিডার ও মেন্টর ‘মার্ক রুফালো’ এবং প্রথম পর্বের ভিলেন ‘মরগান ফ্রিম্যান’ও পুনরায় ফিরে এসেছে সেই সাথে প্রথম পর্বের ‘মাইকেল কেইন’কেও দেখা যাবে কিছু সময়ের জন্য। এ পর্বে নতুন ক্যারেক্টার হিসেবে যোগ হয়েছে ‘হ্যারি পটার’ খ্যাত ‘ড্যানিয়েল রেডক্লিফ’ এবং ‘দ্য গ্রিন হর্নেট’ খ্যাত চাইনিজ অ্যাক্টর ‘জে চো’।

কাহিনী সংক্ষেপঃ প্রথম পর্বের ভিলেন ‘থাডিয়াস ব্রাডলি’ (‘মরগান ফ্রিম্যান’) এখন জেলে, এবং জেলে বসেই ‘থাডিয়াস’ তাকে জেলে পাঠানোর জন্য ‘ফোর হর্সমেন’ এর উপর প্রতিশোধ নেবার পরিকল্পনা করছে। এদিকে ১ বছর হয়ে গেছে, ‘ফোর হর্সমেন’ অপেক্ষা করছে তাদের সিক্রেট অর্গানাইজেশন ‘দ্য আই’ এর কাছ থেকে পরবর্তি অর্ডারের জন্য। এমন সময় তাদের লিডার ও মেন্টর FBI এজেন্ট ‘ডাইলান রোডস’ (‘মার্ক রুফালো’) তাদের জন্য নিয়ে আসে এক দুর্নীতিগ্রস্থ শিল্পপতির মুখোশ উন্মেচন করার এক নতুন অ্যাসাইনমেন্ট। সব প্ল্যান যখন ঠিক মত সাজানো হল তখন শো এর দিন হঠাৎ করেই কে যেন তাদের সিস্টেমে ঢুকে পড়ে গোটা বিশ্ব ও FBI এর কাছে তাদের গোটা পরিচয় উন্মেচন করে দেয়। ‘ডাইলান’ সহ ‘ফোর হর্সমেন’ হয়ে যায় FBI এর কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল। ‘ডাইলান’ এর নির্দেশে শো থেকে এক পাইপ লাইনের ভিতর দিয়ে পালানোর পর তারা আবিষ্কার করে তারা কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে নিউইয়র্ক থেকে চায়নার ‘ম্যাকাউ’ শহরে পৌছে গেছে যা ছিল পুরোপুরি অসম্ভব। কেউ তাদের গোটা প্ল্যান স্যাবোটাজ করে তাদের কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই চায়নায় নিয়ে এসেছে। চায়নায় তাদের সাথে দেখা হয় ‘ম্যাকাউ’ এর সব থেকে বড় বিজনেস টাইকুন ও টেকনোলজী প্রডিজী ‘ওয়াল্টার মাবরি’ (‘ড্যানিয়েল রেডক্লিফ’) এর সাথে। ‘ওয়াল্টার’ তাদেরকে বাধ্য করে তার প্রতিদ্বন্দীর হাইলি প্রটেক্টেড অফিস থেকে একটি কম্পিউটার চিপ চুরি করে আনার জন্য যা দ্বারা সে দুনিয়ার সকল কম্পিউটার কন্ট্রল করতে পারবে।

এদিকে ‘ডাইলান’ খুঁজতে থাকে তাদের প্ল্যানিং স্যাবোটাজের পিছনে আসলে কার হাত রয়েছে এবং যখন বুঝতে পারে যে এগুলো আসলে ‘থাডিয়াস’ এর কাজ তখন ‘ফোর হর্সমেন’ এর জীবনের বিনিময়ে সে ‘থাডিয়াস’ এর সাথে ডিল করতে বাধ্য হয় তাকে জেল থেকে বের করার জন্য। এদিকে মুভির শেষে যখন ‘ফোর হর্সমেন’ এর সেই কম্পিউটার চিপ চুরির পর ‘আর্থার টেসলার’ (‘মাইকেল কেইন’) ফিরে আসে, তখন সকল ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয় সেই সাথে প্রকাশ পায় ‘ওয়াল্টার’ এর এক অন্য রূপ। ‘ওয়াল্টার’, ‘থাডিয়াস’, ‘আর্থার’ কে ভাল আর কে ভিলেন, কে বিশ্বাসযোগ্য ও কে এই সব কিছুর পিছনে কলকাঠি নাড়ছে ‘ফোর হর্সমেন’ ও ‘ডাইলান’ কিছুতেই বুঝে উঠতে পারে না। অবশেষে, তারা গোটা দুনিয়ার সামনে প্রকৃত ভিলেনের মুখোশ উন্মেচন করতে তাদের ফাইনাল অ্যাক্টের জন্য প্রস্তুত হয়। সিরিজের প্রথম পর্বে দেখানো হয়েছিল যে ‘ডাইলান’ এর বাবা একটি ম্যাজিক শোতে এক্সিডেন্টে মারা যায় যার জন্য ‘ডাইলান’ দায়ী করে ‘থাডিয়াস ব্রাডলি’কে এবং সেই প্রতিশোধ নিতেই সে এবং ‘ফোর হর্সমেন’ মিলে তাকে জেলে পাঠায়। এ পর্বে দেখা যাবে আসলে কি হয়েছিল সেই এক্সিডেন্টের দিন, কিভাবে মারা গিয়েছিল ‘ডাইলান’ এর বাবা ও সেই মৃত্যুর পিছনে আদৌও হাত ছিল কিনা ‘থাডিয়াস’ এর।

অভিনয়ঃ এবার আসা যাক অভিনয়ের প্রসংগে। গোটা মুভিতে মূল ফোকাস ছিল ‘জেসি আইজেনবার্গ’, ‘উডি হ্যারেলসন’ এবং সর্বোপরি ‘মার্ক রুফালো’র প্রতি। ৩ জনেই একদম ফাটিয়ে অভিনয় করেছে বিশেষ করে ‘মার্ক রুফালো’। এ মুভিতে ‘মার্ক’কে বেশী টাইম দেয়া হয়েছে কারণ মুভির গল্পের সাথে তার অতিতের ইতিহাস জড়িত ছিল। ‘ডেভ ফ্রাঙ্কো’কে এ পর্বে সাইড হিরো বলেই মনে হয়েছে আর ‘মাইকেল কেইন’কে দেখা গেছে অল্প কিছুক্ষণের জন্য। ‘মরগান ফ্রিম্যান’ এ পর্বে একজন মাস্টার মাইন্ডের ভূমিকা পালন করেছে এবং প্রথম পর্বে সে যে হারে নাকানি চুবানি খেয়েছে ‘ফোর হর্সমেন’ এর কাছ থেকে এ পর্বে সে তার থেকেও দ্বিগূণ নাকানি চুবানি খাইয়েছে ‘ফোর হর্সমেন’দের, বিশেষ করে ‘ডাইলান’কে। তবে এবারের পর্বে সব থেকে সারপ্রাইজ ক্যরেক্টার ছিল ‘ড্যানিয়েল রেডক্লিফ’ এর। তার এন্ট্রি থেকে শুরু করে প্রতিটি দৃশ্য ছিল পুরাই নজরকাড়া। তার প্রতিটি চালচলন, কথার স্টাইল, হিউমার ও সাইকোপ্যাথ টাইপের অভিনয় সব মিলিয়ে সে যেটুকু সময় পর্দায় ছিল অন্য সব বাঘা বাঘা অভিনেতাদের মধ্যে থেকে সে একাই দর্শকদের আকর্ষন ও মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে।

তবে, গোটা মুভিতে যাকে সব থেকে বেশী মিস করেছি সে আর কেউ নয় ‘ইসলা ফিশার’। এই ভুবন ভোলানো হাসির, মোহনীয় ও আবেদনময়ী নায়িকার রিপ্লেসমেন্ট কখনই সম্ভব নয়। তার স্থানে নেয়া ‘লিজি ক্যাপলান’কে মোটেই তার রিপ্লেসমেন্ট বলে মনে হয়নি, বরং দলের একজন এক্সট্রা মেম্বার বলেই মনে হয়েছে। যদিও ‘লিজি’র করা চরিত্রটি ছিল যথেষ্ট চালাক, চতুর, বাঁচাল ও অসাধারন ম্যাজিশিয়ান কিন্তু ‘ইসলা’র সাথে কোন তুলনা হবে না তার। এবারের পর্বে ছিল প্রথম পর্বের থেকেও যথেষ্ট পরিমাণ হিউমারের ছড়াছড়ি এবং এর দ্বায়িত্বে ছিল ‘উডি হ্যারেলসন’, ‘ড্যানিয়েল রেডক্লিফ’ ও ‘ডেভ ফ্যাঙ্কো’। আমরা জানি ‘উডি হ্যারেলসন’ মানেই হচ্ছে হিউমারের গোডাউন আর এ পর্বে ‘উডি’কে দেখা যাবে ডবল রোলে, এর মানে দুই গুণ হিউমার।

চিত্রনাট্য, সিনেমাটোগ্রাফি, পরিচালনা এবং সম্পাদনাঃ Now You See Me 2′ মুভির গল্প ও স্ক্রিনপ্লে প্রথম পর্বের মত যথেষ্ট পরিমাণে স্ট্রং ছিল না, আর এটাই এই মুভির সব থেকে বড় খুঁত। সব থেকে বড় কথা এ মুভির প্রধান চরিত্র ‘থাডিয়াস ব্রাডলি’ (‘মরগান ফ্রিম্যান’) চরিত্রের মোটিভ মোটেও সন্তোষজনক নয়। সে আসলে কে ? কি চায় ? গোটা মুভি জুড়ে সে কি ভিলেন নাকি হিরো সেই সন্দেহে দর্শক কনফিউজড থাকবে সারাক্ষণ এবং এই চরিত্রের ব্যাপারে কোন কিছুই আসলে ক্লিয়ার না সেই সাথে প্রথম পর্বের ঘটনা অনুযায়ী এই পর্বে ‘থাডিয়াস’ এর যে ফিনিশিং দেখানো হয়েছে সেটা মোটেও লজিক্যাল ছিল না। প্রথম পর্বে আমরা একরকম ‘থাডিয়াস’কে দেখেছি, কিন্তু এই পর্বে দেখা যাবে তার সম্পুর্ণ ভিন্ন আইডেন্টিটি যা প্রথম পর্বের গল্পের সাথে সাংঘার্ষিক ও যুক্তিহীন। গোটা মুভির গল্পের কোন ধারাবাহিকতা নেই। গল্প এক দৃশ্য পরপর অন্য দিকে মোড় নিয়েছে। দৃশ্য গুলো বেশ অসংলগ্ন বলে মনে হয়েছে।

মুভিতে অতিতের রেফারেন্স টানা হয়েছে সব থেকে বেশী। বাবা-ছেলের সম্পর্ক, ইমোশোনাল ড্রামা, পুর্ব শত্রুতা, প্রথম পর্বের প্রতিশোধ এগুলোই ছিল এবারের পর্বের গল্পের মূল থিম যা জায়গায় জায়গায় বেশ দৃষ্টিকটু ও বোরিংনেস সৃষ্টি করেছে। অথচ এসব বাদ দিয়ে একটি ফ্রেশ গল্প নিয়ে কাজ করলে মুভিটি জমতো ভাল। এবারের পর্বে প্রথম পর্বের মত প্রতিটি দৃশ্যে টানটান উত্তেজনাটাও বেশ মিস করেছি। এবারের পর্বে ম্যাজিক ট্রিকের সংখ্যা ছিল অনেক কম এবং হাতে গোনা কয়েকটি ম্যাজিক ট্রিক ছাড়া এ পর্বে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না। যেমন, হাইলি প্রটেক্টেড অফিস থেকে কম্পিউটার চিপ চুরি করার দৃশ্যটা ছিল এক কথায় শ্বাসরুদ্ধকর এক অভিজ্ঞতা যা প্রথম পর্বের কোন ম্যাজিক ট্রিকেও দেখা যায়নি ও সেই সাথে ‘জেসি’র খোলা রাস্তায় বৃষ্টির মাঝে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির ফোটা থামিয়ে দেয়ার দৃশ্যের সাথে প্রথম পর্বের কোন ম্যাজিক সিনেরই তু্লনা হবে না। এতটাই অসাধারণ ছিল সেই দৃশ্যটি। আর মুভির শেষে ফিনিশিং এ ‘ফোর হর্সমেন’ এর ফাইনাল অ্যাক্ট ছিল সিরিজের এ পর্যন্ত সর্বশ্রেষ্ঠ ম্যাজিক ট্রিক, এমন দুর্দান্ত এন্ডিং প্রথম পর্বেও দেখা যায়নি। The best ending ever !

সব মিলিয়ে এবারের পর্ব একটি একক মুভি হিসেবে যথেষ্ট পরিমাণে অসাধারণ ও মাইন্ডব্লোলিং কিন্তু ‘Now You See Me’ মুভির সিক্যুয়াল হিসেবে এটি অনেকাংশেই প্রত্যাশা পুরণে ব্যর্থ। তবে এ মুভির সব থেকে বড় টুইস্ট হচ্ছে এ মুভির ম্যাজিক ট্রিক গুলো নয় বরং ‘থাডিয়াস’ ও ‘ওয়াল্টার’ এই দুই চরিত্র। Because in this movie you just can’t predict anything about those 2 characters. At the end of this movie evil becomes hero & good becomes villain but you won’t see this coming…!!!

উপসংহারঃ এ মুভির মিউজিকে বরাবরের মতই আছে বিখ্যাত ‘ব্রায়ান টেইলর’, যার দুর্দান্ত ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক আপনাকে নিয়ে যাবে এক ম্যাজিক্যাল দুনিয়ায়। এই মুভির নাম প্রথমে চিন্তা করা হয়েছিল ‘Now You See Me: Now You Don’t’। পরবর্তীতে এই আইডিয়া বাদ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ‘Now You See Me: The Second Act’ টাইটেল রাখার। অবশেষে, সব কিছু বাদ দিয়ে শুধু মাত্র ‘Now You See Me 2’ রাখা হয়। মুভির ব্যবসা যাই হোক না কেন, ২০১৫ এর মে মাসে ‘লায়ন্সগেট’ অলরেডী ঘোষনা দিয়ে দিয়েছে যে তারা ‘Now You See Me 3’ এর আর্লি প্ল্যানিং শুরু করে দিয়েছে। এখন বাকিটা ভবিষ্যতেই দেখা যাবে। তবে আশা করি যদি এ মুভির ৩য় পর্ব নির্মাণ হয় তবে ‘ইসলা ফিশার’কে যেন ফিরিয়ে আনা হয়। সব শেষে, এবারের পর্ব ভাল হোক, মন্দ হোক ম্যাজিক ফ্যানদের কাছে এটি একটি মাস্ট ওয়াচ মুভি। মুভির অনেক ম্যাজিক্যাল ট্রিকই যুক্তিহীন মনে হবে যা প্রথম পর্বেও মনে হয়েছিল কিন্তু আসলে ‘Now You See Me’ সিরিজের প্রধাণ থিমটাই হচ্ছে দিন শেষে সব ম্যাজিক ট্রিকের পিছনেই কিছু না কিছু লজিক ঠিকই থাকে যা একজন দর্শকের চোখ কখনই ধরতে পারে না। দর্শক যতই বলুক না কেন, “আমি তোমাকে দেখতে পাচ্ছি”, ঠিক সেই মুহূর্তে ম্যাজিশিয়ান মনে মনে হেসে বলে, “তুমি আমাকে কখনোই দেখতে পাবে না” আর এটাই একজন প্রকৃত ম্যাজিশিয়ানের ট্রিক। Seeing Is Not Believing… !!!

Comments

comments

Leave a Reply

Scroll To Top
0