“অস্তিত্ব” মুভি রিভিউ

চলচ্চিত্রের নামঃ “অস্তিত্ব” (২০১৬) মুক্তিঃ ৬ই মে ২০১৬ অভিনয়েঃ আরিফিন শুভ, নুসরাত ইমরোজ তিশা, সূচরিতা, সুজাতা, নিঝুম সহ আরো অনেকে। পরিচালনাঃ  অনন্য মামুন প্রযোজকঃ কার্লোস সালেহ প্রযোজনাঃ ড্রিমবক্স লিমিটেড পরিবেশকঃ অ্যাকশন কাট লিমিটেড কাহিনি, সংলাপ ও চিত্র্যনাট্যঃ কার্লোস সালেহ, সোমেশ্বর অলি, অনন্য মামুন সম্পাদনাঃ পাওয়া যায়নি সিনেমাটোগ্রাফীঃ পাওয়া যায়নি সংগীতঃ আকাশ ভূমিকাঃ সিনেমার প্রসঙ্গে যাওয়ার …

Review Overview

পরিচালনা
কাহিনী
চিত্রনাট্য
চিত্রগ্রহন
সম্পাদনা
অভিনয়

Summary : গতানুগতিক বাণিজ্যিক সিনেমার মতো ধুম্মুরধাম মারপিট নেই কিন্তু আছে আকর্ষন ধরে রাখার মত গল্প, আছে কিছু অসাধারণ দৃশ্য যা আপনার ভিতরের আবেগকে নাড়া দিতে বাধ্য। এখানে হয়ত ওই অর্থে হিরোইজম পাবেন না, কিন্তু পাবেন কিছু নির্মল অভিনয়। নাচ গান আছে, প্রেম আছে, দন্দ আছে সাথে আছে একটা ম্যাসেজ, একটা সামাজিক বার্তা।

User Rating: 4.05 ( 3 votes)
72

চলচ্চিত্রের নামঃ “অস্তিত্ব” (২০১৬)

মুক্তিঃ ৬ই মে ২০১৬

অভিনয়েঃ আরিফিন শুভ, নুসরাত ইমরোজ তিশা, সূচরিতা, সুজাতা, নিঝুম সহ আরো অনেকে।

পরিচালনাঃ  অনন্য মামুন

প্রযোজকঃ কার্লোস সালেহ

প্রযোজনাঃ ড্রিমবক্স লিমিটেড

পরিবেশকঃ অ্যাকশন কাট লিমিটেড

কাহিনি, সংলাপ ও চিত্র্যনাট্যঃ কার্লোস সালেহ, সোমেশ্বর অলি, অনন্য মামুন

সম্পাদনাঃ পাওয়া যায়নি

সিনেমাটোগ্রাফীঃ পাওয়া যায়নি

সংগীতঃ আকাশ

ভূমিকাঃ সিনেমার প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে এই সিনেমার নির্মানে এর পরিচালক অনন্য মামুনের প্রচেষ্টা এবং শুভ তিশার প্রচারণার জন্য জায়গায় জায়গায় চষে বেড়ানো আমাদের সিনেমা শিল্পের জন্য বিশাল পাওয়া বলে মনে করছি সিনেমার মেকিং এবং টেকনিক্যাল কিছু দুর্বলতা বাদ দিয়ে এমন নতুন ধরনের সিনেমা যে নির্মান করা হয়েছে তাতেই এর সার্থকতা। এভাবে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সিনেমা বানানো চিন্তার জন্য অনন্য মামুন অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।সিনেমার পরিচালক সিনেমা যখন নির্মান করছিলেন তখন তার টাকার ঘাটতি পড়েছিল তিনি কোন রকম না ভেবে তার শখের গাড়ি বিক্রি করে দেন, এমনকি অস্তিত্ব সিনেমার সকলে কোন কার্পন্য না করে কষ্ট করে গেছেন সিনেমার প্রচারের জন্য রাস্তায় নেমেছেন। এমনকি এ সিনেমায় অর্জিত অর্থ দেয়া হবে অটিস্টিক শিশুদের জন্য।অনেক ভাল উদ্যোগ অনেক ভাল নির্মানের প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ অস্তিত্ব টিমকে, প্রচেষ্টা থেকেই আর ভাল কিছু।

কাহিনী সংক্ষেপঃ পরী একজন এক প্রতিবন্ধী তরুণীর।নিজের বাবা, মা, ভাই এর সাথে নিজের বাসায় ২০ বছর থাকে, প্রতিবন্ধী হলেও কখনো তার পরিবার তাকে কোন প্রতিষ্ঠানে দেয় নি, চাইনি তার মেয়ের প্রতিবন্ধকতা কথা সবাই জানুক। আদরে ভালবাসায় আগলে রেখেছে তাকে, কিন্ত এভাবে চলার পর অনেক কষ্টে পরীর ভাই তার মাকে রাজি করায় প্রতিবন্ধীদের একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর জন্য। অবশেষে সেখানে গিয়ে তারা পায় প্রতিষ্ঠানটির ট্রেনার এবং প্রতিষ্ঠাতা আরেফিন শুভ এর সাথে।এরপর নানা ঘটনা এবং নানা বিপত্তি পেরিয়ে শিশুদের অলিস্পিকে অংশগ্রহণের স্বপ্ন পূরনে তাদের শিক্ষকের সহযোদ্ধা হয়ে যাওয়ার গল্প নিয়ে এগিয়ে গেছে সিনেমার কাহিনী।

পরিচালনাঃ সিনেমার কাহিনী তেমন আহামরি ছিল না, কাহিনীর গভীরতা কম ছিল তবে সিনেমাটি এর কাহিনী অনুযায়ী চিত্রায়ন করা যায় নি। প্রথম থেকেই খেই হারিয়ে ফেলছিলাম বোর হই নি তবে উপস্থাপনার যথেষ্ট কমতি লেগেছে আমার কাছে। শুভ, জোভান,তিশা বাদে বাকি চরিত্রগুলোর যে ওভার এ্যাকটিং হচ্ছে তা সম্ভবত পরিচালক এর চোখ এড়িয়ে গেছে,কিছু সিরিয়াস জায়গায় প্রায় হাস্যকর অভিনয় হয়েছে। মিউজিক ভাল ছিল (অায়না,বল না) গানের টিউনটা পুরো সিনেমায় ব্যবহার হয়েছে তাতে যেমন সিনেমাটা উপভোগ্য হয়েছে তবে পুরোনো দিনের সেই হাস্যকর সিনেমা ঢোল পিটানোর মত মারামারির সাউন্ড আর স্টার জলসার নাটকের বহুল পরিচিত অসহ্যকর টিউন মাঝে মাঝে ছিল তবে এটা কোন ব্যাপার না। সিনেমার কিছু দৃশ্য সত্যিই অদ্ভুদ সুন্দর ছিল পুরো মন মাতানো, তবে মন মাতানোর রেশ এর ব্যাপ্তি খুবই কম ছিল। এসব দিকগুলোর দিকে একটু মনোযোহ দিলে সিনেমা আরও উপ্যভোগ্য হতো।

চিত্রনাট্য দৃশ্যায়নঃ তিশা,শুভ এর বাস্তবিক সুন্দর অভিনয় সহ সিনেমার অনেক সুন্দর কিছু দৃশ্য ছিল। তবে সিনেমা একটা বিষয় ছিল যেটা খুবই ভাল লেগেছে এবং পছন্দ করেছি।সেটা হলো প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি দেওয়া ম্যাসেজ। আসলে তারা বেশি এনার্জেটিক এবং পারফেক্ট তবে প্রতিবন্ধী বলে তাদের সুযোগ আমরা কম দেই। সাধারন মানুষদের থেকে একটু আলাদা এ মানুষদের সাথে আমরা কম মিশতে দেই। কিন্ত তাদের যে একটা অনন্য প্রতিভা থাকতে পারে তা আমরা ভাবি না। জানি না অনন্য মামুন জানবেন কিনা তবে আমি মনে হয় ভালভাবে বুঝতে পেরেছি তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন। এই নিখুত ম্যাসেজটা যদি সবাই বুঝতে পারে তবে সিনেমাটির সার্থকতা হবে। এছাড়া গানগুলো অদ্ভুদ সুন্দর ছিল গানগুলো শুনেছি এবং এনজয় করেছি। এমনকি পার্শচরিত্রে থাকা জোভানকেও সুযোগ দেওয়া হয়েছে যা ভাল লেগেছে। দৃশ্যায়ন সুন্দর এগুলোই সিনেমার পারর্ফেক্ট পজেটিভ দিক।

অভিনয়ঃ প্রথমবারের মত ঝুঁটি বাধার কারণে সংগত কারনেই সবার আগ্রহের ক্রেন্দ্রবিন্দু ছিলো  শুভ এবং তিশার রসায়ন। আমি বলব তাদের নতুন এই আনকোরা  জুটি পারফেক্ট ছিল। তিশা বরাবরের মত টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ তবে বাংলা চলচিত্রে তাকে তেমনভাবে পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রেম বা অন্যধর্মী সিনেমাতে প্রথম অভিনয় করে তিশা একেবারে উতরে গেলে। একজন প্রতিবন্ধীর মত কঠিন এবং চ্যালেন্জিং চরিত্রে এত সাবলীল আর ন্যাচেরাল অভিনয়ে অভিনয় করে আমাকে মুগ্ধ করে দিয়েছে।এ রকম চরিত্রে নতুন অভিনয় করতে গেলে কোথাও না কোথাও তাল কেটে যায় সুরের একটু কমতি থাকেই। তবে ভালভাবে খুজেও তেমন নিখুঁত খুঁত আমি খুজে পাই নি।অত্যন্ত ট্যালেন্ট অভিনেতার মত নিজের সৌন্দর্য দিয়েও তিশা মাতিয়ে দিয়েছে, একজন প্রতিবন্ধীর আবদার মাখানো চোখের চাহনি,বিরক্তিমার্কা রাগ খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ঠিক যতটুকু চাওয়া ছিল ততটুকুই দিয়েছে। তার অভিনয়ে আমি দশে দশ দিব।

আগে থেকেই প্রশ্ন ছিল ‘অস্তিত্ব’ সিনেমার মাধ্যমে ঢাকাই সিনেমায় আরেফিন শুভকে নতুন কোন রূপে দর্শকরা পাচ্ছেন? আমি বলব শুধু নতুন নয়, একদম পরিবর্তিত রুপে। কিছুদিন আগে মুসাফির এর দুমদাম মারামারি বাদ দিয়ে একজন প্রতিবন্ধীদের ট্রেনার এর রুপে পাওয়া সত্যিই অদ্ভুদ।তবে এ নতুন রুপে শুভ বেশ মানিয়ে অভিনয় করেছে। তেমন কোন ওভার এ্যাকটিং ছিল না। তার আগের সিনেমারগানগুলো চাইতে এ সিনেমার গানগুলো চাইতে এ সিনেমার গানগুলো বেশি ভাল লাগছিল তাকে।সিনেমাতেও তাকে স্মার্ট লেগেছে বিশেষকরে প্রথম আগমন এর দৃশ্যটুকু ভাল ছিল।বেশ ভাল লেগেছে তাকে। এবং তিশা, শুভ বাদে জোভান উন্নতি করেছে।আর বাকিদের অভিনয় মোটামুটি ছিল। তবে এ তিনজন বাদে সবারই মোটামুটি বিরক্তিকর ওভার এ্যাকটিং ছিল।

উপসংহারঃ সবশেষে বলবো আমাদের সিনেমার সার্বিক উন্নয়নের আর একটা উদ্যোগ “অস্তিত্ব” সিনেমাটি। গতানুগতিক বাণিজ্যিক সিনেমার মতো ধুম্মুরধাম মারপিট নেই কিন্তু আছে আকর্ষন ধরে রাখার মত গল্প, আছে কিছু অসাধারণ দৃশ্য যা আপনার ভিতরের আবেগকে নাড়া দিতে বাধ্য। এখানে হয়ত ওই অর্থে হিরোইজম পাবেন না, কিন্তু পাবেন কিছু নির্মল অভিনয়। নাচ গান আছে, প্রেম আছে, দন্দ আছে সাথে আছে একটা ম্যাসেজ, একটা সামাজিক বার্তা। আপনার আমার আশেপাশে বেড়ে উঠা কোন একজনের সাথে মিলে যেতে পারে এই গল্প। ভালো সিনেমাকে আরো ভালো হয়ার অনুপ্রেরণা যোগাতে এবং নিজেকে কিছু ভালো সময় উপহার দিতে দেখে আসতে পারেন “অস্তিত্ব”।

Comments

comments

Leave a Reply

Scroll To Top